চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতা প্রকল্পে হেলে পড়েছে চারতলা ভবন। নগরীর রৌফাবাদ তৈয়বিয়া হাউজিং সোসাইটির খোরশেদ ম্যানসনের চারতলা ভবনের দুটি কলাম ভেঙে খালের দিকে হেলে পড়েছে। যেকোনো সময় ভবনটি ভেঙে পড়তে পারে।
আজ শনিবার (২৫ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৬টায় ভবনটি হেলে যাওয়ার পর ভবনের বাসিন্দারা আতঙ্কে বের হয়ে আসে। পরবতীর্তে ফায়ার সার্ভিসের টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভবনের সব বাসিন্দাদের বের করে গেটে তালা লাগিয়ে দেয়। এই ভবনের কারণে পাশের দুই ভবন ঝুঁকিতে থাকায় তাদেরও বের করে দেয়া হয়েছে।
শনিবার রাত ৮টায় ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, চারতলা ভবনটির সামনে মানুষের জটলা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ভবনের সামনের অংশ ঘিরে রেখেছে। কাউকে ভেতরে প্রবেশ করতে দিচ্ছে না।
ভবনের ভাড়াটিয়া মহিউদ্দিন আহমেদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সন্ধ্যায় ৬টার দিকে ভবনটি হঠাৎ করে পেছনের দিকে হেলে যেতে থাকে। তখন বাসিন্দাদের সবাই আতঙ্কে বের হয়ে আসে।’
এসময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক হারুন পাশার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ভবনটি খালের দিকে অনেকটা হেলে পড়েছে। এছাড়া ভবনের দুটো পিলার (কলাম) ভেঙে গেছে। তাই এ ভবনটি যেকোনো সময় ধসে পড়তে পারে। সেজন্য আমরা সবাইকে বের করে তালা লাগিয়ে দিয়েছি।’
কেন হেলে পড়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ভবনের পেছনে খালের কাজ চলছে। এসময় পিলারের নিচের মাটি সরে যাওয়ায় ভবনটি হেলে পড়েছে এবং পিলার ভেঙে যায়। এই ভবনের সাথে পাশের দুটো ভবন লাগোয়া রয়েছে। তাই আমরা সেসব ভবনের বাসিন্দাদেরও সরিয়ে নিয়েছি।’
এসময় কথা হয় ভবনের মালিক খোরশেদ আলমের সাথে। তিনি বলেন, ২০০৭ সালে পাঁচতলা ভবনের ফাউন্ডেশন দিয়ে আমি চারতলা নির্মাণ করি। দুই ইউনিটের ভবনটিতে আটটি পরিবার বসবাস করে। ভবনটি প্রায় ৪০ ফুট লম্বা ও ৩৫ ফুট চওড়া। ভবনের পেছনে খাল খননের কাজ করায় পিলার ভেঙে গিয়ে তা হেলে পড়ে।’
এ বিষয়ে জলাবদ্ধতা নিরসনে সেনাবাহিনীর প্রকল্প পরিচালক লে. কর্নেল শাহ আলীর সাথে কথা হয়। তিনি বলেন, ‘ সকল ভবন মালিক নিজ উদ্যোগে ভেঙে জলাবদ্ধতা নিরসনের কাজে সহায়তা করেছেন। কিন্তু এই ভবনের মালিক লিখিত দিয়েছে যদি কাজ করতে গিয়ে ভবন ভেঙে যায় তাহলে আমার কোনো অভিযোগ থাকবে না। যদি ভবন মালিক নিজ উদ্যোগে ভাঙতো তাহলে ক্ষতিপূরণ পেতো। তবে এখন আর ক্ষতিপূরণ পাবে না।’
কিন্তু এখন তো পুরো ভবনটি ভাঙা ছাড়া কোনো উপায় নেই। এমন প্রশ্নের জবাবে লে. কর্ণেল শাহ আলী বলেন,‘ হুম, এখন পুরো ভবনটি ভেঙে যাবে।’
উল্লেখ্য, নগরীতে জলাবদ্ধতা নিরসনে কাজ করছে সেনাবাহিনী। প্রায় আট হাজার কোটি টাকার প্রকল্পের মেয়াদ সম্প্রতি আরো দুই বছর বাড়ানো হয়েছে। নগরীর ৩৬টি খাল সংস্কার ও খালের উভয় পাশে রাস্তা এবং সীমানা দেয়াল নির্মাণের কাজ চলছে।
