নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন ‘আল্লাহর দলের’ পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অ্যান্টি টেররিজম ইউনিট (এটিইউ)। গত শনিবার কুমিল্লার কোতোয়ালি মডেল থানাধীন এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
তারা হলেন মো. মশিউর রহমান ওরফে রাসেল (৩৭), আবু সুফিয়ান (২০), সালাউদ্দিন (৪৩), আলাউদ্দিন (৩১) ও মো. জুলহাস হোসেন ওরফে জুলাস (২৫)।
এটিইউর অতিরিক্ত ডিআইজি (ইন্টেলিজেন্স) এস এম হাসনুল জাহিদ গতকাল রবিবার নিজ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার দিনভর অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। ওই সময় তাদের কাছ থেকে আটটি মোবাইল ফোনসহ বিপুল পরিমাণ সাংগঠনিক দলিলাদি উদ্ধার করা হয়। তারা নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন ‘আল্লাহর দলের’ সক্রিয় সদস্য। তারা জনসাধারণের মধ্যে উগ্রবাদী মতাদর্শ প্রচারের মাধ্যমে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও নাশকতার উদ্দেশ্যে গোপন বৈঠকসহ বিভিন্ন পরিকল্পনা করে আসছিল।
তিনি আরও বলেন, গ্রেপ্তার মশিউর রহমান, আবু সুফিয়ান ও আলাউদ্দিন ‘আল্লাহর দলের’ জেলা নায়ক। সালাউদ্দিন জেলা প্রতিনিধি এবং জুলহাস সদস্য হিসেবে সংগঠনকে সমর্থন, সংগঠনের জন্য চাঁদা প্রদান-উত্তোলন, পরিকল্পনা ও প্ররোচনার দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।
হিযবুতের আঞ্চলিক প্রধানসহ ৪ সদস্য গ্রেপ্তার : খুলনায় নিষিদ্ধ ঘোষিত হিযবুত তাহরীর আঞ্চলিক প্রধান আনিসুর রহমান রুহুল আমিন রকিসহ (৩৬) সংগঠনের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত শনিবার রাতে নগরীর হরিণটানা থানার খানজাহান নগর এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে চারটি ল্যাপটপ, ছয়টি মোবাইল ফোন, দুটি পেনড্রাইভ, একটি এটিএম কার্ড এবং হিযবুত তাহরীর সংশ্লিষ্ট বইয়ের ১০টি প্রিন্ট কপি জব্দ করা হয়েছে।
গতকাল রবিবার দুপুরে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) হেডকোয়ার্টারে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান পুলিশ কমিশনার মো. মোজাম্মেল হক।
গ্রেপ্তার অন্য তিনজন হলেন, হিযবুত তাহরীর সদস্য মো. শাকিল আহম্মেদ (২৬), রিজভী আজিম খান (২৭) ও মেহেদী হোসেন সালিত (২৪)।
পুলিশ কমিশনার মো. মোজাম্মেল হক বলেন, গ্রেপ্তারকৃতরা দীর্ঘদিন ধরে খুলনা অঞ্চলে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন হিযবুত তাহরীরের নীতি আদর্শ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছিল। আটকের পর জব্দ করা ইলেকট্রনিক ডিভাইস বিশ্লেষণ ও আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন হিযবুত তাহরীর সঙ্গে জড়িত আরও অনেকের নাম পাওয়া গেছে। তদন্তের স্বার্থে আপাতত তাদের নাম প্রকাশ করা হচ্ছে না। তাদের বিরুদ্ধে নগরীর হরিণটানা থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হয়েছে।
