কিশোরগঞ্জ-২

আইজিপিকে ডিঙিয়ে নৌকায় ডিআইজি

আপডেট : ২৭ নভেম্বর ২০২৩, ০৭:১৩ পিএম

কিশোরগঞ্জ জেলার ৬টি আসনের মধ্যে গেল তিন সংসদ নির্বাচনে মহাজোটের একটি আসন ছাড়া বাকি পাঁচটি আসন ছিল আওয়ামী লীগের দখলে। এরমধ্যে গতবারের নির্বাচনে প্রথমবারের মতো প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন সাবেক আইজিপি, রাষ্ট্রদূত ও সচিব নূর মোহাম্মদ।

এবারও এ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নেরপ্রত্যাশীর সংখ্যা ছিল বেশি। মোট ১৪জন আওয়ামী লীগের মনোনয়নের জন্য দলীয় ফরম সংগ্রহ করে জমা দিয়েছিলেন। তবে তাদের মধ্যে বেশি আলোচনায় ছিলেন বর্তমান সংসদ সদস্য নূর মোহাম্মদ এবং সাবেক সংসদ সদস্য পাকুন্দিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক মো. সোহ্রাব উদ্দিন।

তবে সবাইকে তাক লাগিয়ে মনোনয়ন পেয়েছেন বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল কাহার আকন্দ।

কিশোরগঞ্জের ছয়টি আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে এটিকেই একমাত্র চমক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। কিশোরগঞ্জ-২ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মনোনয়নের এ বিষয়টি কেবল স্থানীয় পর্যায়ে নয় জাতীয় পর্যায়েও বেশ আলোচিত।

দলীয় সূত্রগুলো জানায়, এ আসনে নৌকার মাঝি হওয়ার দৌঁড়ে সংসদ সদস্য নূর মোহাম্মদ ও সাবেক সংসদ সদস্য মো. সোহ্রাব উদ্দিন ছাড়াও বেশ কয়েকজন হাইপ্রোফাইল ব্যক্তি ছিলেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন কিশোরগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা এম এ আফজল, পাকুন্দিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম রেনু, বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর মোখলেছুর রহমান বাদল, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা. দীন মোহাম্মদ নূরুল হক, বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের সাবেক চেয়ারম্যান এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক উপকমিটির সদস্য একেএম দেলোয়ার হোসেন প্রমুখ। 

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলা, জেল হত্যা মামলা, ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলা, বিডিআর বিদ্রোহ মামলাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে আলোচিত সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল কাহার আকন্দ মনোনয়নপ্রত্যাশীর এই তালিকায় থাকলেও সেভাবে আলোচিত ছিলেন না। তবে মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে প্রচারণা ও গণসংযোগে তিনি ছিলেন বিরামহীন। প্রচারণা ও গণসংযোগ চালানোর সময় তার মঞ্চ ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে। এ রকম পরিস্থিতিতে বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল কাহার আকন্দ শান্তিপূর্ণ সভা-সমাবেশের নিশ্চয়তা চেয়ে গত ১৫ জুলাই সংবাদ সম্মেলনও করেছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি তার ওপর হামলার আশঙ্কাও করেন। তবে তিনি আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে ছিলেন আশাবাদী। আবদুল কাহার আকন্দকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়ায় তার সেই প্রত্যাশা পূরণ হলেও স্থানীয়রা এটিকে চমক হিসেবেই দেখছেন।

এদিকে এ আসন থেকে বিএনপির বহিষ্কৃত ও আলোচিত সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান রঞ্জন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত