ভারত থেকে নিম্নমানের চিনি আমদানি করে অবৈধভাবে দেশীয় প্রতিষ্ঠানের মোড়কে বাজারজাত করার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। রাজধানীর কমলাপুর এলাকায় রবিবার অভিযান চালিয়ে এক টন চিনিসহ তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন কুমিল্লার চকবাজারের আরিশা ট্রেডার্সের ম্যানেজার নিমাই বনিক (৪৪), ফেনীর সোনাগাজীর ইসমাইল ব্রাদার্সের মীর হোসেন (৩৮) এবং চট্টগ্রামের চিনি বিক্রির দালাল আব্দুল্লাহ আল মাসুদ (৩৯)।
ডিএমপির ডিবি প্রধান ও অতিরিক্ত কমিশনার হারুন অর রশীদ গতকাল সোমবার সাংবাদিকদের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সম্প্রতি দেশের একাধিক শিল্পপ্রতিষ্ঠান থেকে গোয়েন্দা পুলিশের কাছে অভিযোগে করা হয় যে দেশীয় প্রতিষ্ঠানের মোড়কে একটি চক্র ভারতীয় নিম্নমানের চিনি বাজারজাত করছে। এতে মানুষ প্রতারিত হওয়ার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানগুলো আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি জানান, তদন্তে নেমে তারা দেখতে পান যে, কুমিল্লার সাহেব বাজারের মমিন ব্রাদার্স সীমান্ত দিয়ে প্রতিদিন ৪০০ থেকে ৫০০ বস্তা চিনি সরকারি শুল্ক ও কর ফাঁকি দিয়ে চোরাচালানের মাধ্যমে এনে কুমিল্লা সদর থানার বারাপাড়ার আরিশা ট্রেডার্সের মালিক খোরশেদের গুদামে মজুদ করত। এরপর নিমাই বনিকের নির্দেশে আরিশা ট্রেডার্সের গুদামে মজুদ করা অবৈধ চিনি ফেনীর ইসমাইল ব্রাদার্স, চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের জমজম ট্রেডার্স, চট্টগ্রামের আল মদিনা ট্রেডার্স, শহীদ ট্রেডার্সসহ ঢাকার বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কাছে কম দামে বিক্রি করত।
এ কর্মকর্তা আরও বলেন, দেশের বাজারে ৫০ কেজির প্রতি বস্তা চিনির দাম ৬ হাজার ৭০০ টাকা। কিন্তু ভারতীয় চিনি প্রতি বস্তা ৬ হাজার ২০০ টাকা। প্রতি দিনই মমিন ট্রেডার্স আনুমানিক ৪০০ থেকে ৫০০ বস্তা চিনি কর ফাঁকি দিয়ে এনে এভাবে বিক্রি করত। কারণ হিসেবে
গ্রেপ্তারকৃতরা পুলিশকে জানিয়েছেন, দেশে চিনির দাম বেশি। ভারতে চিনির দাম কম। তাই ভারতীয় চোরাকারবারিরা লাভের আশায় বাংলাদেশের চোরাকারবারিদের কাছে চিনি বিক্রি করছে।
