মাগুরা-১ আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান বলেছেন, ‘১৭ বছর ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট খেলেছি, অনেক সংবর্ধনা পেয়েছি, কিন্তু আজকের সংবর্ধনার মতো বড় কিছু আমার জীবনে আসেনি। সারা দেশে নৌকাকে বিজয়ী করতে হবে।’
গতকাল বুধবার দুপুরে মাগুরা পৌঁছালে হাজার হাজার মানুষের ফুলেল ভালবাসায় সিক্ত হন সাকিব। আজ বৃহস্পতিবার মাগুরা-১ আসনে তার আওয়ামী লীগ দলীয় মনোনয়ন জমা দেওয়ার কথা রয়েছে।
সাকিব আল হাসান বলেন, ‘আমাকে যখন প্রথম ব্যাট-বল ধরা শিখিয়েছেন আমার কোচ, তেমনি নেতাদের সাহায্য আমার প্রয়োজন। আমি যেমন নাম্বার ওয়ান অলরাউন্ডার হতে পেরেছিলাম। আশা করি মাগুরাকে ওই রকম একটি জায়গায় নিয়ে যেতে পারব।’
তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য জননেত্রী শেখ হাসিনা নিরন্তর পরিশ্রম করছেন। বাংলাদেশ আজ বিশ্বের বুকে অনন্য মডেল। সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হলে আমি এই উন্নয়নের অংশীদার হতে পারব, এর চেয়ে গর্বের কিছু নেই।
সাকিব আরও বলেন, ‘মাগুরা-১ আসনের বিষয়ে জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাকে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। আমি সংসদ সদস্য আমার শ্রদ্ধাভাজন সাইফুজ্জামান শিখরের হাত ধরে এই নির্বাচনী এলাকায় সমস্ত নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনা করতে চায়। তিনি অনেক কষ্ট করে মাগুরাকে সাজিয়েছেন। দল ও সাইফুজ্জামান শিখর, অন্য সংসদ সদস্য ড. বীরেন শিকদারকে সঙ্গে নিয়ে আমরা একসঙ্গে কাজ করব।’
আচরণবিধি লঙ্ঘন : ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের প্রার্থী হওয়ার পর প্রথমবার গতকাল বুধবার নিজ নির্বাচনী এলাকায় যান সাকিব আল হাসান। মাগুরায় পৌঁছে তিনি একাধিকবার সংসদ নির্বাচনের আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে সাকিব গতকাল দুপুরে নিজেই জেলার দলীয় কার্যালয়ে সবাইকে নির্বাচন আচরণবিধি মেনে চলার আহ্বান জানান। গতকাল বেলা সাড়ে ৩টার দিকে বীর মুক্তিযোদ্ধা আছাদুজ্জামান স্টেডিয়ামে ‘মাগুরাবাসীর’ ব্যানারে আয়োজিত নাগরিক গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেন সাকিব। সেখানে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে নিজের জন্য এবং আওয়ামী লীগের জন্য ভোট প্রার্থনা করেন। এজন্য স্টেডিয়ামে একটি মঞ্চও তৈরি করা হয়।
কিন্তু সংসদ নির্বাচনের আচরণবিধিমালায় বলা হয়েছে, কোনো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল কিংবা এর মনোনীত প্রার্থী বা স্বতন্ত্র প্রার্থী কিংবা তাদের পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তি ভোটগ্রহণের জন্য নির্ধারিত দিনের তিন সপ্তাহ সময়ের আগে কোনো প্রকার নির্বাচনী প্রচার শুরু করতে পারবেন না। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হবে ৭ জানুয়ারি। সে হিসাবে ১৫ ডিসেম্বরের আগে কেউই নির্বাচনী প্রচার চালাতে পারবেন না।
কিন্তু সংসদ নির্বাচনের আচরণবিধিমালা অনুযায়ী, কোনো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল কিংবা তাদের মনোনীত প্রার্থী বা তাদের পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তি কোনো ট্রাক, বাস, মোটরসাইকেল বা অন্য কোনো যান্ত্রিক যানবাহন নিয়ে মিছিল বের করতে পারবেন না। মহড়াও করা যাবে না।
এ বিষয়ে সাকিবের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে তিনি জনদুর্ভোগের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন। দুপুরে জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে মাগুরা-১ আসনের এই প্রার্থী বলেন, ‘অনেক সময় অনেকে অতি-উৎসাহী হয়ে অনেক কিছু করে ফেলেন। তবে আমি সবাইকে অনুরোধ করব, সবাই যেন সংযত থাকেন। পোস্টার লাগানো, লিফলেট লাগানো, মাইক বাজানো, সবকিছুই যেন করা হয় এই ভেবে যে মানুষের কষ্ট যেন না হয়।’ এ সময় সাকিব সবাইকে আচরণবিধি মেনে চলার অনুরোধ করেন।
