নব্য জেএমবির মিডিয়া শাখার ৫ সদস্য গ্রেপ্তার

আপডেট : ৩০ নভেম্বর ২০২৩, ০৯:০৩ পিএম

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামায়েতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) একটি অংশ নব্য জেএমবির মিডিয়া শাখার পাঁচ সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেরোরিজম এন্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট।
 
ডিএমপি’র মিডিয়া ও পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মো. ফারুক হোসেন বৃহস্পতিবার (৩০ নভেম্বর) বিকালে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার রাজধানীর মহাখালী এলাকায় অভিযান চালিয়ে নব্য জেএমবির মিডিয়া শাখার সক্রিয় সদস্য সোয়েব আখতার ওরফে টুটুলকে গ্রেপ্তার করে সিটিটিসি। 

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, সে নব্য জেএমবির শীর্ষ নেতা। সে ও তার অপরাপর পলাতক সহযোগীগণ নব্য জেএমবির আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে প্রজাতন্ত্রের সম্পত্তির ক্ষতি সাধনের জন্য নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা ও চেষ্টা করছিল।

পাঁচজনকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে এ কর্মকর্তা আরও জানান, গত ২২ অক্টোবর রাজধানীর মুগদা থানা এলাকা হতে নব্য জেএমবির মিডিয়া শাখার সক্রিয় সদস্য মোহাম্মদ আলীকে গ্রেপ্তার করে সিটিটিসি। সে নব্য জেএমবির আদর্শ প্রচারের জন্য অনলাইন প্ল্যাটফর্মে একাধিক গ্রুপ, চ্যানেল ও আইডি পরিচালনা করতো। এসকল চ্যানেলের মাধ্যমে সে আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আইএস-এর ভাবাদর্শ প্রচার করতো। জিজ্ঞাসাবাদের তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত ২৫ অক্টোবর পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ থানা এলাকা হতে ওই সংগঠনের আরেক সক্রিয় সদস্য মো. সজীব ওরফে যায়েদ ইবনে ইসমাঈলকে গ্রেপ্তার করা হয়। সে আলীর সক্রিয় সহযোগী এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বিভিন্ন উগ্রবাদী কন্টেন্ট অনুবাদকের দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলো।

উপকমিশনার ফারুক আরও জানান, সজীবের দেয়া তথ্যর ভিত্তিতে গত ১৫ নভেম্বর রংপুর মহানগরীর কোতোয়ালী থানা এলাকা হতে একই গ্রুপের অন্য এক সদস্য মুহাম্মদ নাঈম হাসানকে গ্রেপ্তার করে সিটিটিসি’র একটি দল। এ সময় তার নিকট হতে মিডিয়া শাখার কাজে ব্যবহৃত একাধিক ল্যাপটপ ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। তাদের তথ্যের ভিত্তিতে গত ২২ নভেম্বর টঙ্গী পূর্ব থানার টঙ্গী বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে হাসিব খান ওরফে বাধনকে গ্রেপ্তার করা হয়। আর হাসিবের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার মহাখালী এলাকা থেকে টুটুলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

ডিএমপি’র মিডিয়া শাখার প্রধান জানান, তারা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন যে গ্রেপ্তারকৃতদের সাথে আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আইএস-এর ভাবধারা অনুসারী নব্য জেএমবির একাধিক সদস্যের যোগাযোগ রয়েছে। তারাসহ তাদের পলাতক সহযোগীগণ অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ও প্রোটেকটেড টেক্সট অ্যাপসের মাধ্যমে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপন করে সংগঠনের উগ্রবাদী লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও আদর্শ বাস্তবায়নের জন্য কার্যক্রম পরিচালনা করত।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত