জনবল সংকটসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলা মৎস্য অফিস। এতে করে বিভিন্ন সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন মৎস্যজীবীরা। গত এক বছর ধরে পাঁচ লাখ জনবসতির এ উপজেলায় মাত্র দুজন কর্মকর্তা দিয়ে চলছে তাদের কার্যক্রম।
উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলা মৎস্য অফিসে পাঁচটি পদ রয়েছে। তার মধ্যে তিনটি পদই শূন্য। বর্তমানে দুজন দিয়ে অফিস চলছে। গত এক বছর ধরে এ অফিসে কোনো ধরনের প্রণোদনা আসেনি।
সরেজমিনে জানা যায়, গত এক বছর ধরে কোনোমতে জোড়াতালি দিয়ে চলছে এ অফিসটি। যদিও মাছ চাষে কুমিল্লা জেলার মধ্যে নাঙ্গলকোট উপজেলার দ্বিতীয় অবস্থানে। এখানে ছোট-বড় সব মিলে প্রায় ৪০০টি মৎস্য খামার রয়েছে। মাছ চাষ করে গত পাঁচ বছরে উপজেলার তিনটি প্রতিষ্ঠান স্বর্ণপদক লাভ করে। কিন্তু বর্তমানে মৎস্য অফিসে জনবল না থাকায় মাছ চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন চাষিরা।
এ বিষয়ে মৎস্য চাষি চাটিতলা গ্রামের বাছির জানান, তিনি ১৩০টি পুকুরে মাছ চাষ করছেন। কোনো পুকুরে মাছের রোগ দেখা দিলে বা কোনো ধরনের সমস্যা হলে উপজেলা মৎস্য অফিস থেকে কাউকে পাওয়া যায় না। অফিসে গেলে তারা বলেন, ‘তাদের জনবল নেই।’ পরে বাধ্য হয়ে বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির ডাক্তার কিংবা প্রতিনিধির সঙ্গে যোগাযোগ করে মাছের চিকিৎসা করাতে হয়।
এ বিষয়ে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘গত এক বছর ধরে এক অফিস সহকারীকে নিয়ে অফিসটি চালাচ্ছি। সরকারি সব প্রণোদনা বন্ধ রয়েছে। বর্তমানে উপজেলা সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা, ক্ষেত্র সহকারী, অফিস সহায়কের পদ শূন্য। তাছাড়া দপ্তর আঙ্গিনায় মৎস্য খামার থাকায় একজন পাহারাদারের প্রয়োজনও রয়েছে। দীর্ঘদিন এ পদগুলোতে লোকবল না থাকায় স্বাভাবিক কার্যক্রমে অসুবিধা হচ্ছে।’
কুমিল্লা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বেলাল হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমাদের অধিদপ্তরেই জনবল সংকট থাকায় ওখানে দিতে পারছি না। কিছু পদে নিয়োগ পরীক্ষা চলছে। যা সম্পন্ন হলে জনবল দেওয়া যাবে। আর গত এক বছর ধরে কুমিল্লা জেলাতেই কোনো প্রণোদনা নেই।’
