নির্ধারিত ৯০ মিনিট গোলশূণ্য। অতিরিক্ত ৩০ মিনিটে ১-১। তাতে ম্যাচের ভাগ্য গড়ায় টাইব্রেকারে। সেই পরীক্ষায় নায়ক বনে গেলেন আবাহনীর বদলী গোলকিপার শামিম হোসেন। অতিরিক্ত সময়ের একেবারে শেষ মুহূর্তে পাপ্পু হোসেনকে তুলে শামীমকে নামিয়েছিলেন আবাহনীর আর্জেন্টাইন কোচ ডিয়েগো ক্রুসিয়ানি। সেই বাজিটায় জিতলেন অভিজ্ঞ কোচ। শামীম রুখে দেন শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবের উজবেক ডিফেন্ডার শোখরুকবেক খোরমাতভ ও শাকিল হোসেনের শট। ফয়সাল আহমেদ ফাহিমও পারেননি পুরানো দলের বিপক্ষে বল পোস্টে রাখতে। আবাহনীর এমেকা ওগবাহ ও রবিউল হোসেন বার উচিয়ে মারলেও জোনাথন ফার্নান্দেজ, ওয়াশিংটন সান্তোস ও মিলাদ শেখের লক্ষ্যভেদে টাইব্রেকারের ভাগ্য পরীক্ষা ৩-২ এ জিতে স্বাধীনতা কাপের সেমিফাইনালে পৌঁছে গেছে আবাহনী।
বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় এই ম্যাচটা শেষ হতে পারতো নির্ধারিত ৯০ মিনিটেই। দুই শক্তিশালী দলের লড়াই জমে উঠেছিল শুরু থেকেই। তবে দু'দলের ফরোয়ার্ডদের ব্যর্থতায় ম্যাচের ভাগ্য নির্নায়ক হয়ে ওঠে টাইব্রেকার। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে গোল না হলেও অতিরিক্ত সময়ের প্রথমার্ধেই দু'দল পেয়েছে গোলের দেখা। ম্যাচের ৯৪ মিনিটে আবাহনীকে এগিয়ে নেন ব্রাজিলিয়ান প্লে-মেকার জোনাথন ফার্নান্দেজ। তবে অতিরিক্ত সময়ের প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে ব্রাজিলিয়ান প্লে-মেকার হিগর রদ্রিগেজ ফ্রি-কিক জালে জড়ালে ম্যাচে ফিরে আসে শেখ জামাল। তবে টাইব্রেকারে নিজেদের মানসিক দৃঢ়তার পরিচয় দিতে পারেননি জামালের খেলোয়াড়রা। শামীম বরং দু'টি সেভে আস্থার প্রতিদান দিয়ে দু'বারের স্বাধীনতা কাপ চ্যাম্পিয়ন আবাহনীকে নিয়ে গেছেন শেষ চারে।
গোলের সুযোগ নষ্টে দু'দলই পাবে সমান মার্কস। বিশেষ করে তাদের ভিনদেশীরা এমন সব সুযোগ হেলায় হারিয়েছেন, নইলে এই ম্যাচ শেষ হতে পারতো নির্ধারিত সময়েই। শুরুতে দু'দলই মনযোগী ছিল বলের নিয়ন্ত্রণে। মাঠ শাসন করে দু'দলই আক্রমনে যাওয়ায় ম্যাচটা হয়ে ওঠে দারুণ গতিময়। তবে আবাহনীর আক্রমণভাগ গোলের পরিস্কার সুযোগ শুরুতে সেভাবে তৈরী করতে পারেনি। সেদিক থেকে এগিয়ে ছিল জামাল। ১৪ মিনিটে ইগরের বাঁকানো ফ্রি কিক ফিরিয়ে দেন আবাহনীর কিপার পাপ্পু হোসেন। ২৩ মিনিটে আতিকুর রহমান ফাহাদের ক্রসে উজবেকিস্তানের ডিফেন্ডার শোখরুখবেন খোলমাতোভের হেড পোষ্টে না থাকায় হতাশা বাড়ে জামালের। ৩৯ মিনিটে ফয়সাল আহমেদ ফাহিমের কাছ থেকে পাওয়া বলে ইগরের দুর্বল শট সরাসরি চলে যায় পাপ্পুর গ্লাভসে।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই অবশ্য গোল পেতে পারতো আবাহনী। বাইলাইনের ঠিক উপর থেকে সতীর্থের ক্রসে অনেকটা লাফিয়ে হেড নিলেও লক্ষে রাখতে পারেননি আবাহনীর ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড ওয়াশিংটন সান্তোস। এর পরপরই এমেকা ওগবাহও আবাহনীকে হতাশ করেন। আবাহনীর জোড়া প্রচেষ্টা সামলে শেখ জামাল আক্রমনে গিয়েছে ৫৮ মিনিটে। তবে ইগরের ফ্রি-কিকে খোলমাতোভের হেড আটকে দেন পাপ্পু। এর পরপরই ওয়াশিংটন ডান দিক থেকে একক প্রচেষ্টায় আক্রমেন উঠে পারেননি প্রিতমকে পরাস্ত করতে। ৭০ মিনিটে গোলের সেরা সুযোগ স্বার্থপরতায় হারান জামলের ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড ভ্লাদিমির দিয়াস। বল নিয়ে বক্সে ঢুকে ফাঁকায় থাকা ফাহিমকে বল না বাড়িয়ে নিজেও শট নিতে গিয়ে তালগোল পাকিয়ে ফেলেন এই ব্রাজিলিয়ান। শেষ দিকে জামাল আরও দু'টি সুযোগ নষ্ট করায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত ৩০ মিনিটে। যার চতুর্থ মিনিটেই জোনাথন ফার্নান্দেজের গোলে এগিয়ে যায় আবাহনী। সতীর্থের ক্রস এনামুল ইসলাম বুক দিয়ে নামিয়ে দিলে দুই ডিফেন্ডারের মাঝখান দিয়ে বক্সের ওপর থেকে ফার্নান্দেজের বাঁ পায়ের শট প্রিতমকে সুযোগ না দিয়ে জালে জড়ায়। ১১ মিনিটে ওয়শিংটনকে গোল বঞ্চিত করেন প্রিতম। প্রতি আক্রমন থেকে ফার্নান্দেজ বল বাড়ান স্বদেশী সতীর্থকে। দ্রুত বল নিয়ে বক্সে ঢুকে এক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে শট নিয়েছিলেন ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকার। তবে আগুয়ান প্রিতম শেষ মুহূর্তে শুয়ে পড়ে রুখে দেন তার প্রচেষ্টা। অতিরিক্ত সময়ের প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে শেখ জামালকে ফ্রি-কিক উপহার দেন আবাহনীর রাইটব্যাক মাসুদ রানা। তা থেকে ডান পায়ের অসাধারণ ফ্রি-কিকে জামালকে সমতায় ফেরান ব্রাজিলিয়ান প্লে-মেকার ইগর রদ্রিগেজ। অতিরিক্ত সময়ের ২২ মিনিটে আবারও ওয়াশিংটনের সামনে বাধা হয়ে দাঁড়িয়ে ম্যাচটাকে টাইব্রেকারে নিয়ে যান প্রিতম।
এর আগে একই মাঠে প্রথম কোয়ার্টার ফাইনালে পুলিশ এফসিকে ২-১ গোলে হারিয়ে প্রথম দল হিসেবে সেমিফাইনালে গিয়েছে রহমতগঞ্জ। শুরুতে পিছিয়ে পড়লেও স্যামুয়েলসের জোড়া গোলে জয়ের হাসি হাসে পুরানো ঢাকার দলটি।
×
