ভোটের পরের পরিস্থিতিও পর্যবেক্ষণ করবে ইইউ

আপডেট : ০৪ ডিসেম্বর ২০২৩, ০৬:৪১ এএম

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট এবং নির্বাচন-পূর্ব পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি ভোট-পরবর্তী পরিস্থিতিও পর্যবেক্ষণ করতে চায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রতিনিধিদল। তাদের চার সদস্যের প্রতিনিধিদল আগামী ২৩ জানুয়ারি পর্যন্ত নির্বাচন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে। ইইউর পর্যবেক্ষক দলের প্রতিনিধির সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

গতকাল রবিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে ইইউর চার সদস্যের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক শেষে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ সাংবাদিকদের এসব কথা জানান।

ইইউ একটি প্রাক-নির্বাচন মিশন পাঠালেও নির্বাচন পর্যবেক্ষণে পূর্ণাঙ্গ পর্যবেক্ষক মিশন না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। পরে সিদ্ধান্ত বদল করে ইইউ জানায়, তারা নির্বাচন পর্যবেক্ষণে চার সদস্যের একটি পর্যবেক্ষক দল পাঠাবে। সেই দলই ইসি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছে।

বৈঠকে ইইউ প্রতিনিধিদলের সদস্যদের মধ্যে ছিলেন ডেভিড নোয়েল ওয়ার্ড (নির্বাচন বিশেষজ্ঞ), আলেকজান্ডার ম্যাটাস (নির্বাচনী বিশ্লেষক), সুইবেস শার্লট (নির্বাচনী বিশ্লেষক) ও রেবেকা কক্স (আইন বিশেষজ্ঞ)।

নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ডেভিড ওয়ার্ডের নেতৃত্বে ইইউর প্রতিনিধিদলে ছিলেন মানবাধিকার বিশেষজ্ঞ, রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ এবং একজন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বিশেষজ্ঞও। তবে প্রতিনিধিদলের কেউ সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি।

ইসির অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ সাংবাদিকদের বলেন, মূলত তাদের (প্রতিনিধিদল) কিছু জানার বিষয় ছিল। তারা ২৩ জানুয়ারি পর্যন্ত বাংলাদেশে অবস্থান করে নির্বাচনের বিভিন্ন বিষয় পর্যবেক্ষণ করবেন। এ বিষয়ে তাদের যা কিছু জানার ছিল সেই বিষয়গুলো তাদের জানিয়েছে ইসি।

ইইউ বিশেষজ্ঞ দল সব বিষয় পর্যবেক্ষণ করবে বলে মনে করেন ইসির অতিরিক্ত সচিব। তিনি বলেন, নির্বাচন-পূর্ব ও নির্বাচন-পরবর্তী সব ধরনের বিষয় তারা পর্যবেক্ষণ করবেন। আচরণবিধির লঙ্ঘন হচ্ছে কি না, তারা দেখবেন।

কমিশনের যেসব আইন আছে সে সম্পর্কে প্রতিনিধিদলটি জানতে চেয়েছে জানিয়ে অশোক কুমার বলেন, ‘আমাদের আইনগুলো সব বাংলায়। আইনগুলোর ইংরেজি সংস্করণ তাদের দেওয়া যাবে কি না, জানতে চেয়েছেন। সংসদীয় আসনভিত্তিক ভোটারের যে পরিসংখ্যান সেগুলো বাংলায়। এগুলো ইংরেজি করে দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন। আমরা ইতিমধ্যে তাদের কিছু দিয়েছি। আর বাকি যেগুলো ইংরেজি করতে হবে সেগুলো পরে আমরা তাদের দেব।’

ইইউ প্রতিনিধিদলটি সারা বাংলাদেশ ঘুরে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে জানিয়ে অশোক কুমার বলেন, ‘ঘোরার জন্য তাদের যা যা লাগবে, তাদের যে জিজ্ঞাসা ছিল, সেগুলো আমাদের কাছে জানতে চেয়েছে। দেশব্যাপী ঘুরতে অন্যান্য যত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হয়, আমরা তাদের সে বিষয়ে আশ্বস্ত করেছি।’

প্রয়োজন হলে আরও বৈঠক হবে জানিয়ে সরকারের এ আমলা বলেন, তাদের যদি প্রয়োজন হয় কমিশনের সঙ্গে তারা আরও বৈঠক করবেন, সে অনুরোধ তারা করেছেন।

ইইউ প্রতিনিধিদল ঢাকার বাইরে গেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানিয়ে যাবেন বলে জানান ইসির অতিরিক্ত সচিব। তিনি বলেন, কারণ তাদের নিরাপত্তার বিষয়টি আছে। এ বিষয়গুলো অবগত করেই তারা যাবেন।

নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণ নিয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না, জানতে চাইলে অশোক কুমার বলেন, ‘না, এ ধরনের কোনো আলোচনা হয়নি। তবে কয়জন অংশগ্রহণ করেছে, মনোনয়নপত্র দাখিল করেছে, কয়টা দল অংশ নিয়েছে এটা জানতে চেয়েছেন তারা। কতজন বিদেশি পর্যবেক্ষক আসবেন, দেশের কতজন পর্যবেক্ষক পর্যবেক্ষণ করবেন এগুলো জানতে চেয়েছেন।’

সমাবেশের অনুমতি নিতে হবে : ১০ ডিসেম্বর মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগ সমাবেশ ডেকেছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইসির অতিরিক্ত সচিব জানান, আচরণবিধি অনুযায়ী প্রচারণামূলক সভার বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের অনুমতি নিতে হয়। প্রতিটি নির্বাচনী এলাকায় রিটার্নিং অফিসার রয়েছেন। আইনশৃঙ্খলার বিষয় রয়েছে। জনসভা করতে হলে অনুমতি নিতে হবে। অনুমতি না নিলে কী হবে তা আইনে বলা আছে। রিটার্নিং অফিসারের কাছ থেকে অনুমতি নিতে হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত