ধাপে ধাপে বেড়েছে এমপি বাদশার অর্থ-সম্পদ

আপডেট : ০৫ ডিসেম্বর ২০২৩, ১০:৩৫ পিএম

রাজশাহী-২ সদর আসনে বাংলাদেশের ওয়ার্কাস পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা যখন প্রথমবার জাতীয় সংসদ নির্বাচন করেন তখন তার হাতে নগদ টাকা ছিল ১৫ হাজার। তবে এখন তার নগদ টাকার পরিমাণ ১ কোটি ৫৬ লাখ ৬৩ হাজার ২৪৫ টাকা। গত দেড় দশকে এমপি বাদশার টাকা বেড়েছে বহুগুণ। হয়েছে নতুন বাড়ি-গাড়ি। নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামায় উঠে এসেছে এসব তথ্য। তবে বাদশার দাবি তার অর্থ বৃদ্ধিতে অস্বাভাবিক কিছু নেই।

২০০৮ সালের নির্বাচনে হলফনামায় দেখা গেছে, ওই সময় বাদশার সব মিলিয়ে এক কোটি ১২ লাখ ৭ হাজার ৬৪০ টাকার সম্পদ ছিল। এ সময় নগদ অর্থ ছিল মাত্র ১৫ হাজার। ব্যাংকে ছিল ৮ লাখ ৩৩ হাজার ৪৬০ টাকা। তার স্ত্রীর বিয়েতে উপহার পাওয়া ৫০ ভরি সোনা ছিল। এর বাইরে আসবাব, গাড়ি মিলে মোট ৬ লাখ ৪৫ হাজার টাকার সম্পদ ছিল। বাদশার স্ত্রীর নামে ছিল ৫ কাঠা জমি। এছাড়াও তার পরিবারের একটি সেমিপাকা মার্কেট ও ১৬ কাঠা জমি ছিল। একটি দোতলা বাড়ি ছিল।

২০১৩ সালে নির্বাচন কমিশনে দেওয়া হলফনামার তথ্যে দেখা যায়- তার সম্পদ ও অর্থ অনেকটাই বেড়ে গেছে। শুধুমাত্র নগদ অর্থ দাঁড়ায় ১০ লাখ ২০ হাজার ৫৯১ টাকা। এছাড়া ব্যাংক এবং নগদ অর্থ মিলে দাঁড়ায় ৪৩ লাখ ৩৬ হাজার ৫১৫ টাকা। গাড়ি ছিল ১৮ লাখ ৬৭ হাজার ৮৩০ টাকা দামের। বাড়ির আসবাব বেড়ে দাঁড়ায় ২০ লাখ টাকা। উত্তরায় ৫ কাঠা জমিও হয়।  

২০১৮ সালে অর্থের পরিমাণ আরও বেড়ে যায়। ওই বছরের হলফনামায় দেখা যায়— বাদশার নতুন মার্কেট হয়েছে। গুড়িপাড়ায় হয়েছে ৫ কাঠা জমি। হড়গ্রামে নির্মাণ করেছেন খন্দকার মার্কেট কমপ্লেক্স। নগদ ও ব্যাংক মিলে অর্থ দাঁড়ায় ৪১ লাখ ১৬ হাজার ৪৮৬ টাকা। এছাড়া স্ত্রীর নগদ টাকা ও সেভিংস মিলে দাঁড়ায় ৮ লাখ ৪০ হাজার টাকা। দুটি গাড়ির দাম দেখানো হয় ৫৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা। 

তৃতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর গত পাঁচ বছরে তার সম্পদের পরিমাণ আরও বেড়েছে। এবারের নির্বাচনে তিনি যে হলফনামা দিয়েছেন— তাতে তার নগদ ও ব্যাংকে টাকার পরিমাণ কয়েক গুণ বেড়েছে। হলফনামায় দেখা যায় তার মোট অর্থের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৫৬ লাখ ৬৩ হাজার ২৪৫ টাকা। এর মধ্যে নগদ টাকা রয়েছে ২৬ লাখ ১৩ হাজার টাকা। এর বাইরে একটি ৭০ লাখ টাকার জিপ রয়েছে।  

এ বিষয়ে সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমাদের পারিবারিক আয় বেড়েছে। এটি একক নয়। এটা নিশ্চয় আমাদের গাড়ি-বাড়ি দেখে বুঝতে পেরেছেন। এর বাইরে গাড়ি আমাদের ব্যাংক লোন থেকে নেওয়া হয়েছে। এটি সব এমপিই নেয়। আমিও নিয়েছি।’ নিজের আয়কে স্বাভাবিক বলেই দাবি করেন বাদশা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত