বাংলাদেশের ক্রিকেট মহলে একটা চালু রসিকতা হচ্ছে, ব্যবস্থা থাকলে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের উইকেটটাই বাংলাদেশ দল বিশ্বের সব জায়গায় নিয়ে যেত! সেটা তো সম্ভব নয়, তবুও লাগেজে যদি পুরে নেওয়া যেত তাহলে মিচেল স্যান্টনার এই উইকেটটা নিউজিল্যান্ডে নিয়ে যেতেন কি না, এমন প্রশ্নের উত্তরে যেটা বলেছেন তার মর্মার্থ হচ্ছে ‘না’। কারণ এখানে ম্যাচ মাঠে গড়াচ্ছে ঠিকই, কিন্তু ব্যাট আর বলের প্রতিদ্বন্দ্বিতাটাই যে হচ্ছে না। খেলার মূল আনন্দ তো সেখানেই।
২৮ ওভারে ৬৫ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়েছেন স্যান্টনার, অন্যদিকে মাত্র ৬ ওভারে ১৭ রানেই ৩ উইকেট নিয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। আনন্দটা মিরাজেরই বেশি হওয়া স্বাভাবিক। প্রথম দিনের খেলা শেষের পর সংবাদ সম্মেলনে এসে ক্রমেই অলরাউন্ডার হয়ে ওঠা এই অফস্পিনার জানালেন, বোলিং ভালো হলেও এখানে ব্যাটিং খুব কঠিন, ‘ভালো জায়গায় যদি বল করি ওদের জন্য কঠিন হবে। আমরাও অনেক সংগ্রাম করেছি, রান করতে কষ্ট হয়েছে। এখানে আমরা খেলতে অভ্যস্ত, জানি কন্ডিশন কেমন হতে পারে। আত্মবিশ্বাস ছিল, বোলারদের ওপর আস্থা ছিল। ভালো জায়গায় যদি বল করতে পারি, মিরপুরের উইকেটে আমাদের অ্যাডভান্টেজ বেশি থাকবে। এটাই চিন্তা করেছিলাম।’
টেস্ট সিরিজ জিততে বা আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে এগিয়ে যেতে ঘরের মাঠের সুবিধাটা বাংলাদেশ একটু বেশি নিচ্ছে কি না এমন প্রশ্নে মিরাজের উত্তর, ‘সিলেটের উইকেটও স্লো ছিল, ব্যাটাররা সহায়তা পেয়েছে পরে আবার স্পিনাররা সহায়তা পেয়েছে। আমরা তো মিরপুরে খেলে অভ্যস্ত। আমরা বাইরে গেলে প্রত্যেক দলই হোম অ্যাডভান্টেজ নিতে চায়। আমরাও একটু হোম অ্যাডভান্টেজ নেওয়ার চেষ্টা করছি। যেহেতু টেস্ট ক্রিকেট, যেহেতু এগিয়ে আছি জিততে পারলে পয়েন্ট টেবিলে এগিয়ে থাকব। এটা টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের খেলা। দুটি ম্যাচই জিতলে দলের অবস্থান অনেক ওপরে চলে যাবে। যতটুকু অ্যাডভান্টেজ আছে অবশ্যই নেওয়ার চেষ্টা করছি।’
প্রথম দিন শেষে বাংলাদেশ এগিয়ে আছে ১১৭ রানে। এখান থেকে দলের লক্ষ্য সম্পর্কেও জানালেন মিরাজ, ‘আমরা সিরিজে এগিয়ে আছি, অবশ্যই আমরা এই সুবিধা নিতে চাইব। উইকেট অনুযায়ী আমরা ৩০-৪০ রান কম করেছি। ২০০ রানের বেশি করলে মনে করতাম আইডল স্কোর। ওখানেই ভুল করেছি। ৩০-৪০ রান আমরা অনেক সময়ই মিস করে যাই। যখন ৪০০ রান প্রয়োজন আমরা করি ৩৫০। কালকের দিন যেন নিজেদের করে নিতে পারি। দ্রুত খেলা শেষ করার চিন্তা করছি না।’
নিজে বল হাতে আনন্দে মাতলেও শেষ পর্যন্ত এমন উইকেটে খেলাটা মন থেকে মানতে পারলেন না মিরাজও, ‘আমার মনে হয় উইকেট আরেকটু ভালো হলে ভালো হয় ব্যাটারদের জন্য। এমন উইকেটে ব্যাটাররা অনেক সংগ্রাম করে। আমার মনে হয় এটা টিম ম্যানেজমেন্টের পরিকল্পনা। ব্যাটারদের জন্য একটু চ্যালেঞ্জিং। তবে কমিটমেন্ট থাকলে, আরও ভালোভাবে খেললে ভালো করা যাবে। প্রথম ৩০ ওভার অনেক চ্যালেঞ্জিং যখন বল নতুন থাকে। বল পুরনো হলে ব্যাটারদের সুযোগ বেড়ে যায়। বল পুরনো হলে আর তেমন সুবিধা থাকে না বোলারদের। যেহেতু টেস্ট খেলা, প্রথম দিকে ব্যাটারদের দায়িত্ব নিতে হবে।’ এমন উইকেটের ফাঁদে ফেলেই বাংলাদেশ হারিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ডের মতো দলকে। সেই অভিজ্ঞতার কথা বললেন মিরাজও, ‘আমরা যদি প্রতিপক্ষকে অলআউটই না করতে পারি তাহলে তো জিততে পারব না। ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে অনেকটা এ রকম উইকেটেই আমরা জিতেছি। আমাদের স্পিন অ্যাটাক ভালো, সুযোগ তো অবশ্যই থাকে।’
কিউই বোলার মিচেল স্যান্টনারের কাছেও মনে হয়েছে, এখানে সময় যত গড়াবে ব্যাটিং করা হবে কঠিন, ‘আমাদের জুটি গড়তে হবে। হয়তো ৮০-৯০ রানের হবে না তবে কয়েকটা ৩০-৪০ রানের জুটি দ্রুত সময়ে করে ফেলতে পারলে সুযোগ আসবে। এভাবে করে রানটা (বাংলাদেশের) সমান করে ফেললে এরপর যতটা সম্ভব আগে যাওয়া যায়। আগামী কয়েক দিন লড়াই চলবে, এই নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।’
