মার্কিন কংগ্রেসের জট ‘সীমান্তে’

আপডেট : ০৮ ডিসেম্বর ২০২৩, ০৮:৩৮ এএম

মার্কিন কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটে ইউক্রেন এবং ইউক্রেনকে সহায়তার বিল আটকে দিয়েছেন সিনেটররা। বিষয়টি ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে থাকা ইসরায়েলের জন্য তেমন সংকটজনক না হলেও রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধরত ইউক্রেনের জন্য অশনিসংকেত। তবে সিনেটরদের কথায় বোঝা যাচ্ছে, সীমান্ত নিরাপত্তা ইস্যুতে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করলে বিলে সমর্থন দেবে রিপাবলিকানরা। এক্ষেত্রে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া কিছুসংখ্যক প্রগতিশীল ডেমোক্রেটদের অবস্থান ততটা প্রভাব তৈরি করতে পারবে না।   

গত বুধবার মার্কিন সিনেটে ১০ হাজার ৬০০ কোটি ডলার অর্থমূল্যের বিলটির পক্ষে পড়ে ৪৯টি ভোট এবং বিপক্ষে ৫১টি। রিপাবলিকান পার্টির প্রত্যেক সিনেটর একযোগে বিলের বিরোধিতা করে।

সিনেটের পাশাপাশি নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে বারবার রিপাবলিকান দাবি তুলছে, যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তে কড়াকড়ি আরোপ করা হোক এবং সীমান্ত ব্যবস্থাপনার ব্যাপারে পরিকল্পনা তুলে ধরলেই কেবল রিপাবলিকান সিনেটররা সমর্থন দিতে পারেন। 

বিলটি সিনেটে ওঠার আগে ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতা মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কংগ্রেসকে সতর্ক করেন, ‘কংগ্রেস বিল পাস করতে ব্যর্থ হলে তা রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের জয়ের পথ পরিষ্কার করে দেবে।’ এদিকে বিশে^র শীর্ষ অর্থনীতির সাত দেশ নিয়ে গঠিত জি৭ জোটের সম্মেলনে ভিডিওমাধ্যমে যোগ দিয়ে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিও সতর্ক করেন, ইউক্রেনকে দেওয়া পশ্চিমাদের সহায়তার প্রতিশ্রুতি ধ্বংস হওয়ার দিকে তাকিয়ে রয়েছে মস্কো। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বাইডেন ও জেলেনস্কির এসব সতর্কবার্তা কানে তোলেননি রিপাবলিকানরা।

ডেমোক্রেট শিবিরের প্রগতিশীল আইনপ্রণেতা সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স ও তার অনুসারীরা গাজা যুদ্ধে ইসরায়েলের ভূমিকা নিয়ে সরব হয়ে বিলটির বিরুদ্ধে ভোট দেন। এ নিয়ে তার ভাষ্য, বিলটিতে সমর্থন দেওয়ার অর্থ হচ্ছে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকারকে ‘খালি চেক’ হাতে তুলে দেওয়া। তিনি বলেন, গাজায় ‘নেতানিয়াহুর সরকার যা করছে তা অনৈতিক এবং আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন।’

তবে বার্নি স্যান্ডার্স ও তার অনুসারীদের অবস্থান যাই হোক, এই মুহূর্তে রিপাবলিকানরা সীমান্ত ও অভিবাসন ইস্যুতে ইতিবাচক সাড়া পেলে বিল পাসের পথে বাধা থাকবে না।

রিপাবলিকান নেতা মিটচ ম্যাককনেল সিনেট ফ্লোরে দাঁড়িয়ে বলেন, ‘সিনেট রিপাবলিকানরা সেই বিলের বিরোধিতা করছে যা আমেরিকার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় নিরাপত্তা অগ্রাধিকারকে আমলে নেয়নি। আমরা কয়েক সপ্তাহ ধরে বলছি, যেসব নীতি আমাদের সীমান্ত পরিস্থিতিকে পরিবর্তন করতে আনা হবে না তা সিনেটে পাসও হবে না।’  এর জবাবে সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা চাক শুমার বলেন, রিপাবলিকানরা ইউক্রেন ও ইসরায়েলের সহায়তা অনুমোদনের সঙ্গে সীমান্ত ইস্যুকে ‘জিম্মি’ হিসেবে দাঁড় করিয়েছেন।

চলতি বছর শেষ হওয়ার আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। এর আগে কংগ্রেস ইসরায়েল ও ইউক্রেনের জন্য সহযোগিতার পথ প্রশস্ত করতে না পারলে তা মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির দুই প্রধান পটভূমিতে বড় ধাক্কা আসবে। ডেমোক্রেট প্রশাসন বারবার সেই পথ প্রস্তুত করতে চাইলেও রিপাবলিকানরা তাদের দাবিতে অনড়। রিপাবলিকান নেতা জেমস ল্যাংকফোর্ড এবং ডেমোক্রেট নেতা ক্রিস মুরফির নেতৃত্বে গত মাস থেকে সীমান্ত ইস্যু নিয়ে আলোচনা হচ্ছিল। কিন্তু রিপাবলিকানদের দাবিনামা অনেক বেশি হওয়ার অভিযোগ তুলে আলোচনা থেকে ওয়াকআউট করে ডেমোক্রেটরা। এই অচলাবস্থা চলেছে গত বুধবার পর্যন্ত। রিপাবলিকান সিনেটর জন কর্নিন বলেন, ডেমোক্রেটরা সীমান্ত উদ্বেগকে কোনোভাবেই হৃদয়াঙ্গম করছেন না। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত