চলতি মৌসুমে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে সারপ্রাইজ প্যাকেজ বলা চলে অ্যাস্টন ভিলাকে। স্প্যানিশ কোচ উনাই এমেরির হাত ধরে দারুণ ফুটবল উপহার দিচ্ছে দলটা। ঘরের মাঠ ভিলা পার্কে বুধবার রাতে ম্যানচেস্টার সিটিকে হারিয়ে দিয়েছে তারা। তবে সিটির নগর প্রতিদ্বন্দ্বীরা ফিরেছে জয়ের পথে। ম্যাচে জোড়া গোল করে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে ৩ পয়েন্ট এনে দিয়েছেন স্কট ম্যাকটমিনে। অন্য ম্যাচে শেফিল্ডকে তাদের মাঠে সহজে হারিয়েছে লিভারপুল।
পোস্টের নিচে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন এমিলিয়ানো মার্টিনেজ, স্ট্রাইকার হিসেবে ওলি ওয়াটকিন্স, আর মাঝমাঠে ডগলাস লুইজ-ইউরি টিয়েলেমান্সদের নিয়ে দারুণ উজ্জীবিত ভিলা। দলটি এবার হারিয়ে দিয়েছে গেলবারের ট্রেবলজয়ী সিটিকে। লিগে টানা চার ম্যাচে জয়বঞ্চিত থাকায় চিন্তার ভাঁজ পেপ গার্দিওলার কপালে। ‘সিটিজেন’দের জন্য একটু অবাক করার মতোই ব্যাপার। গার্দিওলার শিষ্যদের পারফরম্যান্সের করুণ হালটা স্পষ্ট হয় পরিসংখ্যানে চোখ রাখলে। জেনে বিস্মিত হবেন, প্রতিপক্ষের জালে তারা শট নিয়েছে মাত্র দুটি!
লিগের পয়েন্ট টেবিলেও সিটিকে টপকে গেছে ভিলা। ১৫ ম্যাচে ৩২ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলে তৃতীয় উনাই এমেরির দল। সমান ম্যাচে ৩০ পয়েন্ট নিয়ে চারে সিটি। গার্দিওলার দল বল দখলে রেখে আক্রমণের পর আক্রমণ করতে অভ্যস্ত। ৫৩.৯ শতাংশ সময় বল দখলে রেখে সেই কাজই করার চেষ্টা করেছেন সিটির খেলোয়াড়রা। কিন্তু এ যাত্রায় সফল হননি হালান্ডরা। ভিলার গোলপোস্ট তাক করে মাত্র দুটি শট নিতে পেরেছেন আর্লিং হালান্ড-হুলিয়ান আলভারেজরা। ৭৪ মিনিটে ভিলার গোলে অবশ্য ভাগ্যেরও অবদান আছে। বক্সের একদম মাথা থেকে লিওন বেইলির শট সিটির ডিফেন্ডার রুবেন দিয়াসের পায়ে লেগে গোল হয়। শেষ পর্যন্ত এই গোলকে পুঁজি করে তুলে নেওয়া জয়েই সিটিকে পেছনে ফেলেছে ভিলা।
হারের পর ভিলার প্রশংসা করে গার্দিওলা বলেছেন, ‘অ্যাস্টন ভিলা আমাদের চেয়ে ভালো খেলেছে। বিশেষ করে প্রথমার্ধে।’ গার্দিওলা স্বীকার করেন তার দল এখন ভুগছে, ‘কোচ হিসেবে আমার দায়িত্ব হলো তাদের (খেলোয়াড়) আবারও জাগিয়ে তোলা, ম্যাচ জেতানো। এখন আমরা একটু ভুগছি।’ ভিলা কোচ এমেরি জয়ের পর বলেছেন, ‘আমরা রোমাঞ্চিত তবে ভারসাম্যও ধরে রাখতে হবে। এখন শনিবার আর্সেনাল ম্যাচ নিয়ে ভাবছি...টেবিলে কোথায় আছি, সেটা আমরা জানি। পেছনে আছে ম্যানচেস্টার সিটি, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও টটেনহামের মতো ক্লাব। তাই কাজটা খুব কঠিন হবে।’
লিগে ঘরের মাঠে টানা ১৪ ম্যাচজয়ী ভিলা। আর একটি ম্যাচ জিতলেই নিজেদের ১৪৯ বছরের ক্লাব ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ঘরের মাঠে টানা ১৫ ম্যাচ জয়ের রেকর্ড গড়বে। সিটির বিপক্ষে ভিলার ২২ শট নেওয়ার পরিসংখ্যানই বলে দেয় জেতার জন্য কতটা মরিয়া ছিল এমেরির দল।
মাঠের ভেতরে-বাইরে মিলিয়ে কঠিন সময় পার করা এরিক টেন হাগের ম্যানইউ শিবিরে এসেছে স্বস্তি। ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে বুধবার রাতে চেলসির বিপক্ষে ২-১ গোলে জিতেছে ইউনাইটেড। লিগে চেলসির বিপক্ষে এই নিয়ে টানা ১২ ম্যাচ অপরাজিত রইল তারা (৫ জয়, ৭ ড্র)। সবশেষ তারা হেরেছিল ২০১৭ সালের নভেম্বরে, স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে। ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ২০১৩ সালের মে মাসের পর লিগ ম্যাচে আর জিততে পারেনি চেলসি।
ঘরের মাঠে ইউনাইটেড আক্রমণে কতটা ঝড় তুলেছিল, তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে পরিসংখ্যানে। গোলের জন্য তারা শট নেয় মোট ২৮টি, যার ৯টি ছিল লক্ষ্যে। বেশিরভাগ সময় দ্বিতীয় সেরা দল হয়ে থাকা চেলসির ১৩ শটের ৩টি লক্ষ্যে ছিল। সপ্তম মিনিটে পেনাল্টি থেকে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ হাতছাড়া করেন ব্রুনো ফার্নান্দেস। প্রথম ১৬ মিনিটে চারটি সেভ করা সানচেস তিন মিনিট পর পরাস্ত হন। বক্সের ভেতর থেকে হ্যারি ম্যাগুইয়েরের শট চেলসি ডিফেন্ডার মার্ক কুকুরেইয়া ঠেকিয়ে দিলেও পেনাল্টি স্পটের কাছ থেকে বাঁ পায়ের শটে গোল করেন ম্যাকটমিনে।
প্রথমার্ধের নির্ধারিত সময়ের শেষ মিনিটে জায়গা বানিয়ে নিচু শটে চমৎকার ফিনিশিংয়ে দলকে সমতায় ফেরান ২১ বছর বয়সী মিডফিল্ডার পালমার। ৬৯তম মিনিটে দলকে আবার এগিয়ে নেন ম্যাকটমিনে। আলেহান্দ্রো গারনাচোর ক্রসে বক্সে হেডে বল জালে জড়ান তিনি। ১৫ ম্যাচে ৯ জয়ে ২৭ পয়েন্ট নিয়ে এক ধাপ এগিয়ে ছয় নম্বরে উঠেছে ইউনাইটেড। সমান ম্যাচে ষষ্ঠ হারের স্বাদ পাওয়া চেলসি ১৯ পয়েন্ট নিয়ে দশে আছে।
আরেক ম্যাচে শেফিল্ড ইউনাইটেডকে তাদের মাঠে ২-০ গোলে হারিয়েছে টেবিলের দুইয়ে থাকা লিভারপুল। ৩৭ মিনিটে ভার্জিল ভ্যান ডাইক আর ম্যাচের শেষ মিনিটে ডমিনিক সোবোজলাইয়ের গোলে পাওয়া জয়ে এখন অলরেডদের সংগ্রহ ৩৪ পয়েন্ট, শীর্ষে থাকা আর্সেনালের চেয়ে তারা পিছিয়ে মাত্র ২ পয়েন্টে।
