বৃষ্টিতেই স্বস্তি ব্যাটসম্যানদের

আপডেট : ০৮ ডিসেম্বর ২০২৩, ০৮:৩০ এএম

দেরিতে হলেও রাজধানীর বুকে শীত নামছে। শীতের আগমনী বৃষ্টিতে দিনভর ভিজেছে ঢাকা শহর, ভিজেছে মিরপুরের শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের মাঠও। ঢাকা টেস্টের দ্বিতীয় দিনের খেলায় একটি বলও মাঠে গড়ায়নি, দুপুর দুটোর দিকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে দিনের খেলা। তাতে নিঃসন্দেহে হাঁফ ছেড়ে বেঁচেছেন গ্লেন ফিলিপস আর ড্যারিল মিচেল। নিউজিল্যান্ডের এই দুই অপরাজিত ব্যাটসম্যানকেই যে নামতে হবে খেলা শুরু হলে।

আবহাওয়ার পূর্বাভাস বলছে, শুক্রবার থেকেই দেখা মিলবে সূর্যের। সাপ্তাহিক বন্ধের দিন দুটো হবে চন্দ্রবিন্দু ব্যান্ডের গানের ভাষায়, ‘কিছু ক্লাউডি কিছু সানি, মেঘে রোদে অভিমানী।’ রবিবার দিন সূর্যি মামা হেসে উঠবেন। সেই দিনটাই কাগজে-কলমে ঢাকা টেস্টের শেষ দিন। প্রথম দিনেই ১৫ উইকেট পতনের পর ঢাকা টেস্টের ভাগ্যে পঞ্চম দিন বলে কোনো কিছু থাকবে এমনটা কেউই ভাবেননি। তবে বৃষ্টিতে দ্বিতীয় দিনের খেলা প- হওয়ার সঙ্গে রোদ উঠলে উইকেট ভালো হয়ে ওঠার একটা যোগসূত্র থাকায় খেলাটা পঞ্চম দিনে গড়াবার একটা সম্ভাবনা উঁকি দিচ্ছে।

বিকেএসপির ক্রিকেট উপদেষ্টা নাজমুল আবেদীন ফাহিম একসময় বিসিবির কিউরেটরও ছিলেন। দেশ রূপান্তরের সঙ্গে আলাপে তিনি বললেন যে বৃষ্টির পর রোদ উঠলে উইকেটটা ভালো হতে পারে পরের দিকে, ‘এই টেস্টে উলটো হতে পারে। সাধারণত টেস্ট ম্যাচে শুরুতে উইকেট ভালো থাকে, পরের দিকে আস্তে আস্তে খারাপ হয়। বৃষ্টিতে উইকেট ঢেকে রাখা হয়েছে, আর্দ্রতা আগেই বেশি ছিল এখন সেটা বেড়ে যাবে। কিন্তু যদি রোদ ওঠে তাহলে যেটা হবে, রোল করার পর আগে যে বেশি শুকনো অবস্থাটা ছিল সেটা কেটে যেতে পারে। এই উইকেটে প্রাকৃতিক ঘাস নেই, সব মরা ঘাস বা কৃত্রিম ঘাস। তাই বাউন্সটা হয়তো খুব বেশি হবে না, যেমনটা সিলেটে আমরা দেখেছি যে শেষের দিনেও ভালো বাউন্স ছিল। তবে বৃষ্টির পর রোদ উঠলে আর নিউজিল্যান্ডের প্রথম ইনিংসের পর রোলার চালালে উইকেট ব্যাটিংয়ের জন্য আগের চেয়ে ভালো হয়ে উঠতে পারে।’

নিউজিল্যান্ড বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসে করা ১৭২ রানের চেয়ে এখনো ১১৭ রানে পিছিয়ে, তাদের হাতে আছে ৫ উইকেট। শুক্রবার যদি ঠিক সময়ে খেলা শুরু হয় তাহলে কিউইদের বাকি ৫ উইকেট তুলে নিতে নিতে হয়তো প্রথম সেশনটা লেগেই যেতে পারে বাংলাদেশের। ততক্ষণে বেলাও চড়বে আর রোদের তাপও বাড়বে। দ্বিতীয় সেশনে বাংলাদেশ যদি ব্যাট করতে নামে, তখন উইকেট অপেক্ষাকৃত ব্যাটিংবান্ধব হয়ে উঠতে পারে। তবে প্রশ্ন হচ্ছে, বাংলাদেশ কি দ্বিতীয় ইনিংসে ভালো ব্যাটিং করবে?

মিরপুরের শেরে-বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে চলমান টেস্টের আগে এই বছরে বাংলাদেশ খেলেছে দুটো টেস্ট ম্যাচ। এপ্রিলে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে আর জুনে আফগানিস্তানের বিপক্ষে। দুটো ম্যাচই গড়িয়েছে চতুর্থ দিনে আর দুই টেস্টেই আগে ব্যাট করা দলের প্রথম ইনিংসের চেয়ে দ্বিতীয় ইনিংসের রান বেশি। বাংলাদেশ-আয়ারল্যান্ড ম্যাচে আগে ব্যাট করে আয়ারল্যান্ড প্রথম ইনিংসে করে ২১৪ রান আর দ্বিতীয় ইনিংসে অলআউট হয় ২৯২ রানে। বাংলাদেশ-আফগানিস্তান ম্যাচে বাংলাদেশ আগে ব্যাট করে প্রথম ইনিংসে অলআউট হয়েছিল ৩৮২ রানে আর দ্বিতীয় ইনিংসে ৪ উইকেটে ৪২৫ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করেছিল। তাই আশা করা যায় বাংলাদেশও দ্বিতীয় ইনিংসে ভালো ব্যাটিং করবে। সিলেট টেস্টেও দেখা গেছে তেমনটাই। প্রথম ইনিংসে ফুলটস বলে ক্যাচ তুলে দেওয়া নাজমুল হোসেন শান্ত খেলেছেন ক্যাপ্টেনস নক, দায়িত্বশীল ইনিংস খেলতে দেখা গেছে মুশফিকুর রহিম আর মেহেদী হাসান মিরাজকেও। মিরপুরে দ্বিতীয় ইনিংসে যদি সিলেটের মতো ঘুরে দাঁড়াতে পারে বাংলাদেশ, তাহলে একই ফল আসাটাও অসম্ভব নয় বরং খুবই সম্ভব। সেজন্য প্রয়োজন প্রকৃতির একটু উদারতা। একটা রোদজ্বলা দুপুর আর মেঘমুক্ত আকাশ। ইতিহাস লিখতে এর চেয়ে বেশি কিছুর দরকার নেই।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত