শীতকালে দেশের বিভিন্ন স্থানে চলে ব্যাডমিন্টন খেলার হিড়িক। শীতের এই সময়ে ব্যাডমিন্টন খেলায় উঠতি বয়সের তরুণ থেকে ছোট, বড় সবারই আগ্রহ থাকে। ছোট্ট জায়গায় সুন্দরভাবে খেলা সম্পন্ন করা যায় বলেই দেশের প্রতিটি পাড়া বা মহল্লায় দেখা মেলে অসংখ্য অস্থায়ী ব্যাডমিন্টন কোর্টের। বিকেল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত চলে এই খেলা। আর খেলা নির্বিঘ্নে চালাতে প্রয়োজন হয় আলোর, যার পুরোটাই আসে বিদ্যুৎ থেকে।
কিন্তু দুঃখজনক তথ্য হচ্ছে, এই অস্থায়ী ব্যাডমিন্টন কোর্টে বিদ্যুৎ জোগান দিতে অনেক ক্ষেত্রেই ব্যবহার হচ্ছে ডিস্ট্রিবিউশন মেইন লাইন। যেখান থেকে অবৈধ বিদ্যুতের লাইন নিয়ে কয়েক মাসব্যাপী দেদার চলতে থাকে এই খেলা। অবৈধ এই সংযোগের দরুন নষ্ট হচ্ছে দেশের মূল্যবান সম্পদ। কোনো ধরনের রিডিং বা ডিজিটাল মিটারের সঙ্গে সংযোগ না থাকায় অবৈধভাবে নষ্ট হওয়া বিদ্যুতের পরিমাণও জানা সম্ভব হয় না।
আরেকটি বিষয় না বললেই নয়, শুধু ব্যাডমিন্টন খেলার কোর্টেই নয়; দেশে আরও নানাভাবে বিদ্যুৎ চুরি হয় সেগুলোও বন্ধ করা সময়ের দাবি। দেশের অন্যান্য সম্পদের মতো বিদ্যুৎ সম্পদ রক্ষা করা প্রতিটি নাগরিকের ইমানি দায়িত্ব। যেহেতু এটা রাষ্ট্রীয় সম্পদ, তাই এটা দেশের আপামর জনগণের হক। এই সম্পদ দেশের মানুষের কাছে আমানত। কোনোভাবেই তা নষ্ট ও অপচয় করার সুযোগ নেই। যে বা যারা এটা নষ্ট ও অপচয় করবে, এর সঙ্গে কোনোভাবে জড়িত থাকবেজ্বা প্রত্যেকেই পাপের ভাগীদার হবে। পবিত্র কোরআনে বারবার নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে আমানত রক্ষার জন্য। সরকারি সম্পদ জনগণ ও দায়িত্বশীলদের কাছে আমানত। কোরআন মাজিদে ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা নিজেদের মধ্যে একে অন্যের অর্থ-সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস কোরো না এবং মানুষের ধন-সম্পদের কিয়দংশ জেনেশুনে অন্যায়ভাবে গ্রাস করার উদ্দেশ্যে তা বিচারকের কাছে পেশ কোরো না।’ -সুরা আল বাকারা : ১৮৮
প্রকৃত ইমানদার হওয়ার অন্যতম আলামত হলোজ্বা আমানত রক্ষা করা। আল্লাহতায়ালা বলেন, আর (তারাই প্রকৃত মুমিন) যারা আমানত ও প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে। -সুরা আল মুমিনুন : ৮
আল্লাহতায়ালা আরও বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের নির্দেশ দিচ্ছেন, তোমরা আমানতকে তার মালিকের কাছে প্রত্যর্পণ করো বা ফেরত দাও।’ -সুরা আন-নিসা : ৫৮
মুসনাদে আহমাদে বর্ণিত এক হাদিসে উল্লেখ আছে, কেয়ামত দিবসে তিন ধরনের মামলা উঠবেজ্বা এক. ক্ষমার অযোগ্য মামলা। সেটি হলোজ্বা শিরক করে তওবা ছাড়া মারা যাওয়া, দুই. আল্লাহর হক-সংশ্লিষ্ট বিধান না মানা। সেগুলো আল্লাহ চাইলে মাফ করতে পারেন, চাইলে সাজাও দিতে পারেন। তিন. বান্দার হক নষ্ট করা। কারও হক নষ্ট করা, কাউকে গালি দেওয়া, কারও জমি আত্মসাৎ করা। এসব মামলার বিষয়ে আল্লাহতায়ালা বলবেন, ‘এই মামলা আমার কাছে না। ওই বান্দা যদি তোমাকে ছাড় দেয় তো দিল, আর না দিলে আমি আল্লাহর কিছু করার নেই।’
এমতাবস্থায় পুরো বাংলাদেশের জন্মলগ্ন থেকে কেয়ামত পর্যন্ত সব মানুষের কাছ থেকে ক্ষমা ভিক্ষা চাইতে হবে। আর যে মুহূর্তে সবাই একটা নেকির জন্য হাঁসফাঁস করতে থাকবে, তখন আমাকে আমার নেকির বিনিময়ের মাধ্যমে এই ঋণ পরিশোধ করে নিতে হবে।
এ বিষয়ে একটি হাদিস উল্লেখ করা যেতে পারে। হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন- তোমরা কি জানো (প্রকৃত) গরিব কে? সাহাবায়ে কেরাম বললেন, আমরা তো মনে করি, আমাদের মধ্যে যার টাকা-পয়সা, ধনদৌলত নেই, সেই গরিব। তিনি (সা.) বললেন, কেয়ামতের দিন আমার উম্মতের মধ্যে সেই সবচেয়ে বেশি গরিব হবে, যে ব্যক্তি দুনিয়া থেকে নামাজ, রোজা ও জাকাত আদায় করে আসবে; কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে সেসব লোকেদেরও নিয়ে আসবে যে, সে কাউকে গালি দিয়েছে, কারও অপবাদ রটিয়েছে, কারও সম্পদ খেয়েছে, কাউকে হত্যা করেছে এবং কাউকে প্রহার করেছে; এমন ব্যক্তিদের তার নেকিগুলো দিয়ে দেওয়া হবে। অতঃপর যখন তার নেকি শেষ হয়ে যাবে অথচ পাওনাদারের পাওনা তখনো বাকি, তখন পাওনাদারদের গোনাহ তার ওপর ঢেলে দেওয়া হবে, আর তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।
