মুন্সীগঞ্জ কুড়িগ্রামে সংঘর্ষে নিহত ৩

আপডেট : ১০ ডিসেম্বর ২০২৩, ১২:৪৭ এএম

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া ও কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলায় গতকাল শনিবার পৃথক তিনটি সংঘর্ষের ঘটনায় তিনজন নিহত হয়েছেন।

গজারিয়া উপজেলার ভবেরচর ইউনিয়নের পৈক্ষারপাড় গ্রামে সংঘর্ষে নিহত নারীর নাম রোকেয়া বেগম (৬২)।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জমি নিয়ে পৈক্ষারপাড় গ্রামের মৃত এবায়দুল্লাহ সকারের ছেলে সোহেল সরকারের সঙ্গে তার চাচাতো ভাই মো. সজিব ও মো. মঞ্জুর বিরোধ চলে আসছে।

এই বিরোধ মীমাংসায় গতকাল বেলা ২টার দিকে প্রতিবেশী হান্নান সরকারের বাড়িতে সালিশ বৈঠক শুরু হয়। বিকেলে সালিশে বিরোধপূর্ণ জায়গাটি মৃত এবায়দুল্লাহর ছেলে সোহেল সরকার পাবেন বলে সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়। পরে জমির সীমানা নির্ধারণ করে বুঝিয়ে দেওয়ার একপর্যায়ে বিকেল ৪টার দিকে দুপক্ষের মধ্যে প্রথমে কথা-কাটাকাটি ও একপর্যায়ে সংঘর্ষ বাধে। সংঘর্ষের খবর পেয়ে সোহেল সরকারকে রক্ষায় এগিয়ে আসেন তার মা রোকেয়া। প্রতিপক্ষের লোকজন এ সময় রোকেয়াকে লাঠিপেটা করে। আহত অবস্থায় তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘বিকেল ৪টার দিকে হাসপাতালে এক নারীকে নিয়ে আসা হয়। প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে আমরা তাকে মৃত ঘোষণা করি। তার গায়ে আঘাতের তেমন চিহ্ন পাওয়া যায়নি।’

সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার থান্দার খায়রুল হাসান বলেন, ‘গ্রাম্য সালিশে সংঘর্ষের ঘটনায় এক নারী মারা গেছেন বলে খবর পেয়েছি। লাশের ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর বিস্তারিত বলা যাবে।’

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলায় পৃথক সংঘর্ষে দুজন নিহত হয়েছেন। গতকাল শনিবার সকালে উপজেলার মধ্যকাশিপুর বাজারে দোকান ভাড়া চাইতে গিয়ে এবং বড়ভিটা ইউনিয়নে আবাদি জমির ওপর দিয়ে ট্রলি চালিয়ে যাওয়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে তারা নিহত হন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার মধ্যকাশিপুর এলাকার সৈয়দ আলীর ছেলে রফিকুল ইসলাম (৪০) মধ্যকাশিপুর বাজারে নিজের ভাড়া দেওয়া দোকানের ভাড়াটিয়া সুলতানের কাছে টাকা চাইতে গেলে কথা-কাটাকাটি হয়। এ সময় সুলতানের লোকজন রফিকুলের ওপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা করে। হামলায় গুরুতর আহত রফিকুলকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

অন্যদিকে বেলা ১১টার দিকে উপজেলার ধরলার চরমেখলি এলাকার সোলজারের ছেলে সাদ্দাম হোসেনের ভুট্টা চাষের জমির ওপর দিয়ে একই এলাকার আজের উদ্দিনের ছেলে হাসান ট্রলি চালিয়ে যাওয়ার জেরে দুজনের মধ্যে হাতাহাতি হয়। এ সময় সাদ্দামের মা সমস্ত ভানু (৬০) ঘটনাস্থলে এলে তাকেও কিলঘুসি মারতে থাকে হাসান। এ সময় তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। উদ্ধার করে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

ফুলবাড়ী থানার ওসি প্রাণকৃষ্ণ দেবনাথ ঘটনা দুটির সত্যতা নিশ্চিত করেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত