চট্টগ্রামে সৎ বাবার সিগারেটের আগুনের ছ্যাঁকার দুদিন পর এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ঘটনায় জড়িত অভিযুক্ত ইয়ামিনকে গত শুক্রবার গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার হওয়া ইয়ামিন গাইবান্ধা জেলার নলডাঙ্গা ইউনিয়নের আবছার আলীর ছেলে।
পুলিশ জানায়, দুই বছর বয়সী নিহত শিশুর নাম ওমর ফারুক। বাসায় দুষ্টুমি করার কারণে কিছুদিন আগে মারধর করে তার শরীরে সিগারেটের আগুন দিয়ে ছ্যাঁকা দেন সৎ বাবা। গত ৭ ডিসেম্বর ছ্যাঁকা দেওয়ার পাশাপাশি দেয়ালে ধাক্কা দিলে গুরুতর আহত হয় শিশুটি। এসময় তাকে দ্রুত বেসরকারি একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গত শুক্রবার (৮ ডিসেম্বর) আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটির মৃত্যু হয়।
ইপিজেড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ হোসাইন জানান, স্ত্রী রওশন আরা বেগম ও ওমর ফারুককে নিয়ে আকমল আলী রোডে পকেট গেইট এলাকায় বাসায় ভাড়ায় থাকতেন ইয়ামিন। ইয়ামিনেররওশন আরান তৃতীয় স্বামী । গত ৬ ডিসেম্বর ওমর ফারুকের শরীরে সিগারেটের আগুন দিয়ে ছ্যাঁকা দেন বাবা ইয়ামিন। পরদিন (৭ ডিসেম্বর) রওশন আরা তার সন্তানকে বাসায় রেখে কারখানায় যান। বাসায় দুষ্টুমির কারণে রাগে শিশুটির চোয়াল ধরে জোরে দেয়ালের সাথে ধাক্কা দিলে মাথার পেছনে আঘাত পায় ওমর। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নেয়া হয়। চমেকে আইসিইউ খালি না থাকায় শিশুটিকে ভর্তি করা হয় বেসরকারি হলি হেলথ হাসপাতালে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গেল শুক্রবার রাত ১১টার দিকে ওমর ফারুকের মৃত্যু হয়।
পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় গত (৯ ডিসেম্বর) ইয়ামিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। শিশু ওমর ফারুকের মৃত্যুর ঘটনায় তার মা বাদী হয়ে ইপিজেড থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
