সারা দেশে বাড়ছে শীত কুয়াশা

আপডেট : ১১ ডিসেম্বর ২০২৩, ০৫:০১ এএম

সারা দেশে শীতের তীব্রতা বাড়তে শুরু করেছে। আগামী পাঁচ দিনের পূর্বাভাস দিয়ে আবহাওয়া অধিদপ্তর বলেছে, তাপমাত্রা আরও কমতে পারে। এ ছাড়া গতকাল রবিবার সকাল ৯টা থেকে আজ সোমবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, সারা দেশে রাতের তাপমাত্রা ১ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমতে পারে।

হেমন্তের শেষ সপ্তাহে এসে আবহাওয়ার এই পূর্বাভাসের সঙ্গে মিল পাওয়া যাচ্ছে বাস্তব অবস্থার। উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে আমাদের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘন কুয়াশাও পড়তে শুরু করেছে। ঘন কুয়াশার কারণে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ও মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া নৌপথে ফেরি চলাচল প্রায় ৯ ঘণ্টা বন্ধ ছিল।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, গতকাল দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ১৩ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল কক্সবাজারের টেকনাফে ৩০ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

এ ছাড়া অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। শেষ রাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের উত্তরাঞ্চলে ও নদী অববাহিকায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা এবং দেশের অন্যত্র হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে।

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি জানান, ঘন কুয়াশার কারণে গতকাল দুপুর পর্যন্ত সূর্যের দেখা মেলেনি। রাজারহাট কৃষি আবহাওয়া অফিস জানায়, সকালে জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

কৃষি আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার বলেন, আগামী ২০ তারিখের পর জেলার তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নামার সম্ভাবনা রয়েছে। মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে এ জেলার ওপর দিয়ে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, কুয়াশা ও ঠান্ডা উপেক্ষা করে মাঠে কাজ করছেন কৃষকরা। উলিপুর উপজেলার দলদলিয়া ইউনিয়নের সাহেবের কুটি এলাকার কৃষক জব্বার আলী বলছিলেন, সময়মতো যদি বীজতলা তৈরি না করা যায় তাহলে সমস্যা হবে। একই এলাকার জোবেদ আলী বলেন, যতই শীত হোক না কেন বোরো ধানের বীজতলা বানাচ্ছেন। দু-এক দিনের মধ্যে বীজ বপন করতে হবে। খুব বেশি শীত হলে বীজতলার সমস্যা হতে পারে।

লালমনিরহাট প্রতিনিধি জানান, ঘন কুয়াশার কারণে মহাসড়কে হেড লাইট জ্বালিয়ে যানবাহন চলাচল করতে দেখা গেছে। বেলা ২টার পর হালকা একটু তাপমাত্রা অনুভূত হলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ে হিমেল হাওয়া।

সিংড়া (নাটোর) প্রতিনিধি জানান, ঠান্ডা আর ঘন কুয়াশায় আত্রাই নদী ও চলনবিল অঞ্চলের মানুষের কষ্ট বেড়েছে। শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশু ও বয়স্করা। হাঁপানি, অ্যাজমা, নিউমোনিয়া, হৃদরোগসহ শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালগুলোতে বাড়ছে রোগীর সংখ্যা।

পটুয়াখালী প্রতিনিধি জানান, উপকূলীয় জেলা পটুয়াখালীতে ঘন কুয়াশার সঙ্গে বেড়েছে শীতের তীব্রতা। হাসপাতালগুলোতে বেড়েছে ঠা-াজনিত বয়স্ক ও শিশু রোগী। শীতের কাপড়ের দোকানগুলোতে বেড়েছে ভিড়।

কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. চিন্ময় হাওলাদার বলেন, হাঁপানি, সর্দি, কাশি ও জ¦র নিয়ে মানুষ আসছে হাসপাতালে।

৯ ঘণ্টা বন্ধের পর ফের চলাচল শুরু : শনিবার রাত সোয়া ১টার দিকে কুয়াশার ঘনত্ব বেড়ে গেলে দুর্ঘটনা এড়াতে ফেরি চলাচল বন্ধ রাখে ঘাট কর্তৃপক্ষ। ৯ ঘণ্টা পর গতকাল সকাল পৌনে ১০টার দিকে স্বাভাবিক হয় ফেরি চলাচল। কিন্তু দীর্ঘ সময় ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় দৌলতদিয়া প্রান্তে আটকা পড়ে ছোট-বড় মিলিয়ে শতাধিক যানবাহন।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) দৌলতদিয়া ঘাট শাখার ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) মোহাম্মদ সালাউদ্দিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, পর্যাপ্ত ফেরি ও ঘাট চালু থাকায় অপেক্ষমাণ যানবাহনের চাপ অনেকটা কমে গেছে। বর্তমানে এই নৌরুটে ১৮টি ফেরি চলাচল করছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত