নির্ধারিত ৪৫ মিনিট শেষ হয়েছে। চতুর্থ রেফারির নিয়নবাতিতে জ্বলে উঠলো ২ মিনিট। যোগ করা এই সময়টা পেরিয়ে গেলে অর্ধেক কাজ সাড়া হয়ে যায়। বসুন্ধরা কিংস নিজেদের ঘর সুরক্ষিত রেখে সেটা করেছে ঠিক, তবে রেফারির বিতর্কিত সিদ্ধান্ত ১০ জনে পরিণত হয়ে ফিরতে হয়েছে ড্রেসিং রুমে। মাঝ মাঠে আহমেদ জাহোকে ট্যাকল করেছিলেন কিংসের উজবেক মিডফিল্ডার আসরর গফুরভ। সতীর্থকে ফাউল করতে দেখে ওড়িশার এক ফুটবলার দৌড়ে এসে গফুরভকে ধাক্কা মেরে ফেলে দেন। ভিয়েতনামের রেফারি এক্ষেত্রে যে বিচারটা করলেন তা দেখে বিস্মিত গোটা কলিঙ্গ স্টেডিয়াম। গফুরভকে সরাসরি লালকার্ড দেখানো হলো। আর জাহোকে কার্ড না দেখিয়ে করা হলো সতর্ক! গোলশূণ্য প্রথমার্ধের শেষটায় যা অনেক বড় আঘাত হয়ে এসেছে কিংসের জন্য।
অথচ একেবারে পরিকল্পনা মেনেই খেলছিল কিংস। গ্রুপসেরা হতে যেহেতু ওড়িশা এফসির জয়ের বিকল্প নেই, তাই তারা শুরুতেই হাই-প্রেস ফুটবল খেলেছে। কিংস সেটা বুঝেই আগে ঘর সামলানোতে মনযোগ দেয়। পরে ধীরে ধীরে ওঠে আক্রমেন। ম্যাচের ১০ মিনিটে কিপার মেহেদী হাসান শ্রাবনের কৃতিত্বে বেঁচে যায় কিংস। ডান দিক থেকে সাকামতোর ক্রস দিয়েগো মাউরিসিওর পায়ে পৌঁছানোর আগে পাঞ্চ করে বিপদমুক্ত করেন তরুণ কিপার। ১৭ মিনিটে ববুরবেকের ক্লিয়ারেন্স ভালো জায়গায় পেয়েও শ্রাবনের পরীক্ষা নিতে পারেননি ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকার দিয়েগো মাউরেসিও।
ম্যাচের ২৯ মিনিটে প্রথম আক্রমনে গিয়েছিল কিংস। প্রতি আক্রমণ থেকে বল পেয়ে ডান দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে সতীর্থদের পাস না দিয়ে নিজেই শট নেন রাকিব, যা ওড়িশা কিপার আমরিন্দর সিং সহজেই আয়ত্বে নেন। এরপর যোগ করা সময়ে বিতর্কিত রেফরিংয়ের শিকার হয়ে কাঁদতে কাঁদতে মাঠ ছাড়তে হয় গফুরভকে। মেজাজ হারানোয় হলুদ কার্ড দেখতে হয় কিংস কোচ অস্কার ব্রুজোনকেও। তাই বিরতির বাঁশি বাজার পর কিংসের যোদ্ধারা হাত তুলে সারেন্ডার করার ভঙ্গিমায় প্রতিবাদ জানান রেফারির প্রতি।
×
