যার নাম হাতে মেহেদিতে লেখা তার হাতেই খুন

আপডেট : ১৩ ডিসেম্বর ২০২৩, ০৫:০৭ এএম

পোশাকশ্রমিক রুবিনা খাতুন ভালোবেসে প্রেমিক এনামুল সানার নাম নিজের হাতে মেহেদি দিয়ে লিখেছিলেন। কিন্তু সেই এনামুলই বালিশচাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে তাকে। এরপর লাশ গুম করার জন্য নদীতে ফেলে দেয়। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি ধরা পড়ে র‌্যাবের হাতে।

গত ৮ ডিসেম্বর ঘটনার পরদিন ঢাকার আশুলিয়ার শিমুলিয়া এলাকার বংশাই নদী থেকে রুবিনার লাশ উদ্ধার করা হয়। আর গত সোমবার আশুলিয়া এলাকা থেকে সেই প্রেমিক এনামুল সানা ও তার সহযোগী সোহাগ রানাকে গ্রেপ্তারের পর এ হত্যা রহস্য উদঘাটনের তথ্য জানায় র‌্যাব।

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন মঙ্গলবার বিষয়টি নিশ্চিত করে কারওয়ান বাজারে মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, এনামুল এক সময় পোশাক কারখানায় কাজ করলেও এখন ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালান। সে স্ত্রী ও সন্তান নিয়ে আশুলিয়ায় থাকেন। কিন্তু স্ত্রী থাকার সত্ত্বেও ছয়মাস আগে সে রুবিনার সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পরিচয় হয় এবং এক পর্যায়ে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এ সময় এনামুল প্রায়ই নরসিংদীর পলাশ এলাকায় কাজ করা রুবিনাকে বেশি বেতনে চাকরির আশ্বাস দিয়ে আশুলিয়ায় আসতে বলতেন।

তিনি আরও বলেন, গত ৩ ডিসেম্বর এনামুলের স্ত্রী ও সন্তান গ্রামের বাড়ি খুলনার পাইকগাছায় চলে যায়। তখন এনামুল কৌশলে রুবিনা আশুলিয়া ভাড়া বাসায় নিয়ে আসে এবং বিভিন্ন মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে ৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত তার বাসায় রাখে। সেখানে তাদের মধ্যে বিয়ে করার বিষয় নিয়ে বেশ কয়েকবার ঝগড়া হয়। পরে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানালে ৮ তারিখে ঝগড়ার এক পর্যায়ে এনামুল ক্ষিপ্ত হয়ে রুবিনাকে মুখে বালিশচাপা দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে এবং হাতে এনামুল নামটি মেহেদি দিয়ে ঢেকে দেয়। পরে তার বন্ধু সোহাগের সহযোগিতায় পরিকল্পনা অনুযায়ী রাত ৩টার দিকে রুবিনার মৃতদেহ গুম করার জন্য চাদরে পেঁচিয়ে এনামুলের মোটরসাইকেলে করে ৫ কিলোমিটার দূরে বংশাই নদীর ওপর রাঙ্গামাটি ব্রিজে নিয়ে নদীতে ফেলে দেয়। পরে পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে।

এ কর্মকর্তা আরও বলেন, এনামুলকে আনুমানিক সাত থেকে আট মাস আগে নারীকেন্দ্রিক ঘটনায় এলাকাবাসী তাকে আশুলিয়ার আগের বাসা থেকে বিতাড়িত করে। এ ছাড়া সে একাধিক নারীঘটিত বিষয়ে লিপ্ত ছিল বলে জানা যায়। তার বিরুদ্ধে খুলনার পাইকগাছা থানায় শিশু অপহরণ, চুরি ও মারামারি সংক্রান্ত একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানা যায়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত