এবার এশিয়ার সেরা যুবারা

আপডেট : ১৮ ডিসেম্বর ২০২৩, ০৪:০০ এএম

অনেকক্ষণ ধরে বাউন্ডারি লাইনের পাশে পতাকা নিয়ে অপেক্ষা করছিলেন বাংলাদেশ দলের কয়েকজন। ঐতিহাসিক জয়ের উল্লাসে মাততে যেন তর সইছিল না তাদের। শেখ পারভেজ জীবন যখন সংযুক্ত আরব আমিরাতের শেষ উইকেট তুলে নিলেন, মাঠের ভেতর দৌড় দিতে দেরি করলেন না একাদশের বাইরে থাকা ক্রিকেটাররা। সতীর্থদের সঙ্গে যোগ দিলেন প্রথমবার অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপ জয়ের উদযাপনে।

দুবাইয়ে গতকাল টুর্নামেন্টের ফাইনালে দাপুটে পারফরম্যান্সে আমিরাতকে ১২৫ রানে হারায় বাংলাদেশ। ২৮২ রানের পুঁজি গড়ে প্রতিপক্ষকে তারা থামিয়ে দেয় স্রেফ ৮৭ রানে। অপরাজিত থেকে আসর শেষ করে ২০১৯ সালের রানার্স-আপরা।

২০২০ সালে যুব দলের হাত ধরে প্রথমবার বিশ্বকাপ জিতেছিল বাংলাদেশ। এবার দেশের পুরুষ ক্রিকেটে এশিয়া কাপও এনে দিল যুবারাই। ২০১৮ সালে প্রথম এশিয়া কাপ জিতেছিল বাংলাদেশ মেয়েদের সৌজন্যে।

বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের নায়ক আশিকুর রহমান শিবলী। ফাইনালে ১৪৯ বলে ১২৯ রানের ইনিংসে খেলেন তিনি ১ ছক্কা ও ১২ চারে। আসর জুড়েই উজ্জ্বল ছিল তার ব্যাট। দুটি করে সেঞ্চুরি ও ফিফটিতে সর্বোচ্চ ৩৭৮ রান করে টুর্নামেন্ট সেরার পুরস্কারও জেতেন এই ওপেনার। আসরে পাঁচ ম্যাচের চারটিতেই হন সেরা খেলোয়াড়।

ফাইনাল জয়ে অবদান কম নয় ১ ছক্কা ও ৪টি চারে ৬০ রান করা রিজওয়ান ও ৬ চারে ৫০ রান আরিফুলের। পরে বল হাতে তিনটি করে উইকেট নিয়ে বড় ভূমিকা রাখেন দুই পেসার মারুফ মৃধা ও রোহানার বর্ষণ। দুটি করে প্রাপ্তি ইকবাল হোসেন ইমন ও জীবনের।    

টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতে জিশান আলমকে হারানো বাংলাদেশকে কক্ষপথে রাখেন রিজওয়ান ও শিবলী। দেখেশুনে খেলে দলকে এগিয়ে নেন তারা। রিজওয়ান কিছুটা দ্রুত রান বাড়াতেও শিবলী এগোন ধীরলয়ে। ৭৮ বলে ফিফটি স্পর্শ করেন শিবলী। একটু পর ৫৫ বলে ফিফটি করা রিজওয়ানের বিদায়ে ভাঙে তাদের ১২৫ রানের জুটি।

আরিফুল নেমেই আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে মনোযোগ দেন। ৩৯ বলে পা রাখেন ফিফটিতে। ওই পঞ্চাশ রানেই থামে তার ইনিংস, ভাঙে শিবলীর সঙ্গে ৮৬ রানের জুটি। তাদের সৌজন্যে দুইশ পেরিয়ে যায় বাংলাদেশের রান।

কাক্সিক্ষত তিন অঙ্কের উষ্ণ ছোঁয়া পান শিবলী ১২৯ বলে। ইনিংস শুরু করতে নামা ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান ফেরেন শেষ ওভারে। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে শিবলী বলেন, ‘শুরুতে ব্যাটিং করা কঠিন’ হলেও ধৈর্য হারাননি তিনি। ‘সময়ের সঙ্গে সহজ হয়ে ওঠা ক্রিজে’ তাই রান বাড়াতে পেরেছেন।

বাংলাদেশের রান তিনশর কাছাকাছি যায় শেষ দিকে মাহফুজুর রহমান রাব্বির ঝড়ো ব্যাটিংয়ে। ১১ বলে ২১ রান করেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। ‘ভালো খেলার চেষ্টা করে’ বড় সাফল্য পাওয়ার কথা ম্যাচ শেষে বলেছেন রাব্বি। একই সঙ্গে দেশে ও দেশের বাইরে তাদের সমর্থন করা সবাইকে এবং দলের সাপোর্ট স্টাফদেরও ধন্যবাদ জানাতে ভোলেননি তিনি।

জবাব দিতে নামা আমিরাতকে শুরু থেকে চাপে রাখে বাংলাদেশ। পাওয়ার প্লেতে তুলে নেয় ৪ উইকেট, ৩৯ রানে। মারুফ, বর্ষণদের ছোবলে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারানো আমিরাত ম্যাচে আর ফিরতে পারেনি। কোনো সময়ই জাগাতে পারেনি লড়াইয়ের সম্ভাবনা। বাংলাদেশের জন্য অনায়াস জয় বললে ভুল হবে না।

বাংলাদেশের বোলারদের সামনে দাঁড়াতে পারেননি আমিরাতের কোনো ব্যাটসম্যান। তাদের ইনিংসে দুই অঙ্ক ছোঁয়া ইনিংস আছে কেবল দুটি। সেখানে সর্বোচ্চ ২৫ রান এসেছে অপরাজিত থাকা ধ্রুভ পরাশার ব্যাট থেকে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত