নির্বাচনে না থেকেও প্রভাবক সাদা দল

আপডেট : ১৯ ডিসেম্বর ২০২৩, ০৭:৪৮ এএম

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির কার্যনির্বাহী পরিষদ নির্বাচন হবে আজ মঙ্গলবার। এবারের নির্বাচনে লড়বে আওয়ামী লীগপন্থি শিক্ষক সংগঠনদের তিনটি দলের দুটি প্যানেল। এ নির্বাচনে অংশ না নিলেও ভোটের মাঠে প্রভাবক হিসেবে কাজ করবে বিএনপি-জামায়াতপন্থি শিক্ষক সংগঠন সাদা দল। নির্বাচন ঘিরে শিক্ষকদের মধ্যে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে।

এবারের নির্বাচনে ভোটার হয়েছেন ৬৬৭ জন শিক্ষক। নির্বাচনে ছয়টি পদে ৩০ জন পদপ্রত্যাশী শিক্ষক লড়াই করছেন। তাদের মধ্যে থেকে ১৫ জন নির্বাচিত হবেন। সদস্যপদে ১০ ও বাকি ৫ পদে একজন করে নির্বাচিত হবেন। নির্বাচনে সভাপতি, সহসভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও কোষাধ্যক্ষ পদের বিপরীতে দুই প্যানেল থেকে দুজন করে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ ছাড়া প্রতিটি সদস্য পদের বিপরীতে দুজন করে ২০ জন অংশগ্রহণ করছেন।

নির্বাচনে নীল দল (ছিদ্দিকুর-মনিরুজ্জামান) এবং স্বাধীনতা শিক্ষক সমাজ ঐক্যবদ্ধভাবে সভাপতি পদে মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. জাকির হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক পদে দর্শন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হাফিজুল ইসলাম পূর্ণাঙ্গ প্যানেল থেকে নির্বাচন করছেন। নীল দলের আরেকাংশে (নূরে আলম আবদুল্লাহ-মমিন উদ্দীন) সভাপতি পদে পরিসংখ্যান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আশরাফ-উল-আলম এবং সাধারণ সম্পাদক পদে ফিন্যান্স বিভাগের ড. শেখ মাশরিক হাসান পুরো প্যানেলে নির্বাচন করছেন।

আদর্শ এক হলেও ভিন্নমতের কারণে ২০১৭ সালের জুলাই মাসে আওয়ামীপন্থি শিক্ষকদের সংগঠন নীল দলের দুই গ্রুপ পাল্টাপাল্টি কমিটি গঠন করে। পরে আওয়ামীপন্থি আরেক দল জয় বাংলা শিক্ষক সমাজ এবং নীল দলের একাংশ থেকে ভেঙে স্বাধীনতা শিক্ষক সমাজ নামে আরেকটি দল গঠন করা হয়।

শিক্ষকদের এ সংগঠনে বিএনপি ও জামায়াতপন্থি সাদা দলের সদস্য সংখ্যা দেড়শর বেশি। কিন্তু কোনো পদেই লড়ছে না সাদা দল। তবে সাদা দলের সদস্যদের ভোটেই নির্বাচনে নতুন নেতৃত্ব আসবে বলে মনে করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ শিক্ষকরা।

সাদা দলের দাবি, তাদের মধ্য থেকে শিক্ষকরা ভাগ হয়ে নীল দলের দুই অংশের মধ্যে মিলে গেছেন। তাদের ভোটেই নতুন নেতৃত্ব আসবে। তবে সাদা দলের অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে মানতে নারাজ নীল দলের উভয় অংশ। একাংশ বলছে, তারা আশ্রয়ণে বিশ্বাসী নয়, অন্য অংশের আশ্বাস এমন কোনো অভিযোগ এলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নির্বাচন নিয়ে নীল দল ও স্বাধীনতা শিক্ষক সমাজের ঐক্যবদ্ধ প্যানেলের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হাফিজুল ইসলাম বলেন, ‘সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমাদের যে নির্বাচনী অঙ্গীকার সেটা আমরা বাস্তবায়ন করতে পারব এবং বিশ^বিদ্যালয়কে সামনের দিকে বিশ্বমানের উন্নীত করা প্রচেষ্টা আমাদের থাকবে ও সেই লক্ষ্যেই আমরা কাজ করব।’

নীল দলের আরেকাংশের সভাপতি পদপ্রার্থী অধ্যাপক ড. মো. আশরাফ-উল-আলম বলেন, ‘আমাদের থেকে যারা চলে গেছেন তাদের কোনো প্রভাব আমাদের নির্বাচনে পড়বে না। তারা নতুন একটি সংগঠনও খুলেছেন। আমরা জয়ের প্রত্যাশা নিয়েই নির্বাচন করছি।’

আওয়ামীপন্থি আরেক দল জয় বাংলা শিক্ষক সমাজের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মিল্টন বিশ্বাস বলেন, ‘আমরা সাংগঠনিক কার্যক্রম চালাতে না পারায় এবারও নির্বাচনে অংশ নিতে পারছি না। তবে যারা শিক্ষকদের কল্যাণে কাজ করবে, আমরা তাদের সঙ্গেই আছি।’

নির্বাচন নিয়ে সাদা দলের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন বলেন, ‘দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা, জাতীয় নির্বাচন নিয়ে প্রহসনসহ নানা প্রেক্ষাপটে সাধারণ সভায় সর্বসম্মতিক্রমে শিক্ষক সমিতি নির্বাচনে অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আর যে শিক্ষক সমিতি কোনো দিনও শিক্ষকদের কল্যাণে আসেনি, সে শিক্ষক সমিতির নির্বাচনে আমরা অংশগ্রহণ করতে চাই না।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত