ফাঁকা মাঠে অর্থমন্ত্রীর প্রচার

আপডেট : ২২ ডিসেম্বর ২০২৩, ০৮:১২ এএম

নির্বাচনী প্রচারের চতুর্থ দিনেও কুমিল্লা-১০ (নাঙ্গলকোট, সদর দক্ষিণ ও লালমাই উপজেলা) আসনে নৌকা প্রতীক ছাড়া আর কোনো প্রার্থীর প্রচার দেখা যায়নি। এ আসনে প্রার্থী বর্তমান সংসদ সদস্য (এমপি) ও অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল (লোটাস কামাল)।

গত ১৮ ডিসেম্বর বিকেলে প্রতীক পাওয়ার পর আওয়ামী লীগের প্রার্থী মুস্তফা কামালের পক্ষে নাঙ্গলকোট, সদর দক্ষিণ ও লালমাই উপজেলার প্রতি ইউনিয়নে আনন্দ মিছিল করেন দলীয় নেতাকর্মীরা। পরের দিন ১৯ ডিসেম্বর মুস্তফা কামাল নিজ উপজেলায় লালমাইয়ের গৌয়েরভাঙা বাজার থেকে নির্বাচনী প্রচার শুরু করেন। ২০ ডিসেম্বর নাঙ্গলকোট উপজেলা ভোলাইন বাজারের, মান্দ্রা বাজার ও মুরগাঁওতে পথসভা করে নৌকার জন্য ভোট চান। প্রতিদিন এই তিন উপজেলার তিনটি করে ইউনিয়নে নির্বাচনী প্রচার চালাবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

বিগত তিনটি নির্বাচনে এই আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হয়েছেন মুস্তফা কামাল। এর মধ্যে ২০১৪ ও ১৮ সালে বিনাভোটে জয় লাভ করেন।

এবারের দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জাতীয় পার্টির জোনাকি হুমায়ুন (নাঙ্গল), বাংলাদেশ কংগ্রেস থেকে মোহাম্মদ কামরুজ্জামান (ডাব), গণফোরাম থেকে মো. শহিদুল ইসলাম ভূঁইয়া (উদীয়মান সূর্য) ও বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি থেকে এম অহিদুর রহমান (একতারা)। কিন্তু নির্বাচনী এলাকার তিন উপজেলার কোথাও নৌকা ছাড়া কারও প্রচার নেই। তাদের ব্যানার-পোস্টারও নেই।

সাধারণ ভোটাররা বলছেন, এ পর্যন্ত মুস্তফা কামাল ছাড়া আর কোনো প্রার্থীর মাইকিং শোনেননি তারা। ওই প্রার্থীদের একজনকেও চিনেন তারা। কোনো দিন এলাকায়ও তাদের আসতে দেখেননি। এই প্রথম তাদের নাম লোকমুখে শুনছেন।

এ বিষয়ে নাঙ্গলকোট উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি কাজী জামাল উদ্দিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমাদের পক্ষে থেকে বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে গণসংযোগ করা হচ্ছে।’ মাইকিংয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কয়েক দিনের মধ্যে মাইক দিয়ে প্রচার শুরু করব।’

নৌকার প্রচারের বিষয়ে নাঙ্গলকোট উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা সামছুউদ্দিন কালু বলেন, ‘আমরা মুস্তফা কামালের পক্ষে নাঙ্গলকোট উপজেলার প্রতিটি ওয়ার্ডে উঠান বৈঠক ও পথসভা করছি। সেই সঙ্গে আগামী ৭ জানুয়ারি কেন্দ্রে গিয়ে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করার জন্য ভোটারদের আহ্বান করছি।’

গণফোরামের প্রার্থী মো. শহিদুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, ‘আমাদের এখনো পোস্টার করা হয়নি। পোস্টার করে দল থেকে সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রচারণার কাজ শুরু করব।’

বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির প্রার্থী এম অহিদুর রহমান বলেন, তিনি এখনো নির্বাচনীয় প্রচারণা শুরু করেননি। তবে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। নির্বাচনীয় প্রচারে কোনো বাধা নেই।

সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও নাঙ্গলকোট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসমাইল হোসেন বলেন, প্রতীক পাওয়ার পর থেকে সব প্রার্থী আচরণবিধি মেনে নির্বাচনী প্রচার চালাবেন, এমনটাই চায় নির্বাচন কমিশন। কোনো প্রার্থীর প্রচারে বাধা দিলে বা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করলে তাদের কাছে লিখিত বা মৌখিকভাবে অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত