দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেনীর তিনটি আসনের মধ্যে দুটি আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থীর লাঙ্গল প্রতীককে হারাতে এবং একটি আসনে লাঙ্গলকে জেতাতে মরিয়া হয়ে মাঠে নেমেছেন আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতারা।
ফেনী-১ ও ২ আসনে জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থীকে হারিয়ে জিততে হবে আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে। অন্যদিকে আসন বণ্টনে ছাড় দেওয়ায় ফেনী-৩ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থীর সমর্থনে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেন আওয়ামী লীগ দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা। এ আসনে জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের জয়ের জন্য মাঠে নামতে হচ্ছে আওয়ামী লীগকে। এতে লাঙ্গল প্রতীকের জাতীয় পার্টির নেতা লে. জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মাঠে আছেন আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থী রহিম উল্যাহ। যিনি জেদ্দা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য। তিনি এবার আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়েও পাননি।
জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও ফেনী-২ আসনের নৌকার প্রার্থী নিজাম উদ্দিন হাজারী বলেন, ‘ফেনী ১ ও ২ আসনে আমরা জয়ের জন্য ভোট যুদ্ধে নেমেছি। আওয়ামী লীগের প্রতিদ্বন্দ্বী সবাই শক্তিশালী প্রার্থী। কাউকে খাটো করে দেখার উপায় নেই। অতীতে আমাদের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, আচার-আচরণ বিবেচনা করে ভোটাররা নৌকাকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করবেন। ফেনী-৩ আসনে নৌকা প্রতীক নেই। সেখানে জাতীয় পার্টির প্রার্থীকে ছাড় দেওয়া হয়েছে। লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থীকে জয়ী করতে হাইকমান্ড থেকে কোনো নির্দেশনা না থাকলেও সমর্থন রয়েছে।’
ফেনী-১ (পরশুরাম, ফুলগাজী ও ছাগলনাইয়া) আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিম নৌকা প্রতীকে জয়ের জন্য লড়ছেন জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী শাহরিয়ার ইকবাল পাটোয়ারীর সঙ্গে। এ ছাড়াও এ আসনে তৃণমূল বিএনপির সোনালী আঁশ প্রতীকের শাহজাহান সাজু, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তি জোটের ছড়ি প্রতীকের মাহবুব মোর্শেদ মজুমদার, বাংলাদেশ ইসলামিক ফ্রন্টের মোমবাতি প্রতীকের কাজী মো. নুরুল আলম, স্বতন্ত্রের ঈগল প্রতীকের আবুল হাশেম চৌধুরী নৌকা প্রতীকের সঙ্গে লড়ছেন।
একইভাবে ফেনী-২ (সদর) আসনে ফেনী জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও দুবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য নৌকা প্রতীকে নিজাম উদ্দিন হাজারীকে লড়তে হচ্ছে জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের খোন্দকার নজরুল ইসলামের সঙ্গে। আসনটিতেও বিগত ১১টি সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টি একবারও জয়ের স্বাদ পায়নি। তারপরও এবারের প্রেক্ষাপটে নৌকাকে লাঙ্গলের সঙ্গেই লড়তে হবে।
এ ছাড়া তৃণমূল বিএনপির আমজাদ হোসেন সবুজের সোনালী আঁশ প্রতীক, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তি জোটের নুরুল ইসলাম ভূঁইয়ার ছড়ি প্রতীক, বাংলাদেশ ইসলামিক ফ্রন্টের মাওলানা নুরুল ইসলামের মোমবাতি প্রতীক, বাংলাদেশ কংগ্রেসের মোহাম্মদ হোসেন ডাব প্রতীক, খেলাফত আন্দোলনের আবুল হোসেন বটগাছ প্রতীক ও স্বতন্ত্র প্রার্থী এ এস এম আনোয়ারুল করিম ঈগল প্রতীকের সঙ্গে লড়বেন নিজাম হাজারী।
এদিকে ফেনী-৩ (সোনাগাজী ও দাগনভূঞা) আসনের চিত্র পুরাই উল্টো। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসনটিতে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা আবুল বশরের পরিবর্তে মিত্র জাতীয় পার্টির প্রার্থী লে. জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে লাঙ্গল প্রতীকে ছাড় দিয়েছে আওয়ামী লীগ। ফলে আসনটিতে দলীয় মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচনের মাঠে নামার পরও ঢাকা মহানগর (দক্ষিণ) যুবলীগের সাবেক সভাপতি আবুল বাশারকে দলীয় সিদ্ধান্তে রবিবার (১৭ ডিসেম্বর) প্রার্থিতা প্রত্যাহার করতে হয়েছে। তার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের পর আসনটিতে আর থাকছে না নৌকার প্রতীক। এ অবস্থায় আওয়ামী লীগের সমর্থন নিয়ে লাঙ্গল প্রতীকে এ আসনে লড়ছেন জাতীয় পার্টির নেতা লে. জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী।
গত বৃহস্পতিবার ফেনী-৩ সোনাগাজী ও দাগনভূঞা উপজেলায় আওয়ামী লীগের দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে এক যৌথ মতবিনিময় সভায় নিজাম উদ্দিন হাজারী ফেনী-৩ আসনে দলমত-নির্বিশেষে লাঙ্গল প্রতীকে ভোট দিয়ে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে বিজয়ী করার জন্য আহ্বান জানান। তিনি বলেন, শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় রাখতে লাঙ্গলে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করতে হবে।
