দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামালপুরের পাঁচটি আসনে ২৭ জন প্রার্থী অংশগ্রহণ করেছেন। এর মধ্যে তিনটি আসনে ‘আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী কিন্তু স্বতন্ত্র প্রার্থী’ রয়েছেন ছয়জন। তাদের সঙ্গে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীদের হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। আসনগুলোতে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্য থেকে জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে সাধারণ মানুষ মনে করছেন। কেননা, এই তিনটি আসনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীকে হারাতে মাঠে মরিয়া হয়ে কাজ করছেন খোদ আওয়ামী লীগেরই নেতারা। আবার ভোটাররা বলছেন, স্বতন্ত্র প্রার্থীদের কারণেই দ্বিধাবিভক্তি দেখা দিয়েছে আওয়ামী লীগে।
জামালপুর-২ (ইসলামপুর) আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ফরিদুল হক খান। তিনি ইসলামপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ধর্ম মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী। এ আসনে তিনজন স্বতন্ত্র প্রার্থী নির্বাচন করছেন। যারা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী। তাদের মধ্যে এসএম শাহীনুজ্জামান শাহীন উচ্চ আদালত থেকে প্রার্থিতা ফেরত পেয়ে কাঁচি প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন। তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য এবং ইসলামপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবু নাসের বাবুলের ছোট ভাই। এ ছাড়া এই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী জিয়াউল হক জিয়া ঈগল প্রতীক এবং শাহজাহান আলী ম-ল ট্রাক প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন। তারা দুজনই জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টাম-লীর সদস্য। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা এ আসনে চার ভাগে বিভক্ত হয়ে কাজ করছেন। এ আসনে প্রার্থীর সংখ্যা ছয়জন।
জামালপুর-৪ (সরিষাবাড়ী) আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান হেলাল। তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদবিষয়ক সম্পাদক ও সরিষাবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি। এ আসনে দুজন আওয়ামী লীগের নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী নির্বাচন করছেন। তাদের মধ্যে নানা কর্মকা-ে আলোচিত-সমালোচিত সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান ঈগল প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন। এ ছাড়া এ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আব্দুর রশীদ ট্রাক প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন। তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও সরিষাবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ ড. হারুন অর রশিদের বড় ভাই। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা এ আসনে তিন ভাগে বিভক্ত হয়ে কাজ করছেন। এ আসনে প্রার্থীর সংখ্যা সাতজন।
জামালপুর-৫ (সদর) আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ। তিনি প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ আসনে রেজাউল করিম আওয়ামী লীগের নেতা হলেও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ঈগল প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন। তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য, জামালপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি ও এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা এ আসনে দুই ভাগে বিভক্ত। এ আসনেও প্রার্থীর সংখ্যা ৭। এ তিনটি আসনে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়েছেন।
এ প্রসঙ্গে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুহাম্মদ বাকী বিল্লাহ বলেন, ‘কনটেস্ট বলে মনে হলেও প্রত্যেকটা আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা অত্যন্ত মজবুত অবস্থায় আছেন। নৌকার কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে যারা বঙ্গবন্ধুর প্রেমে পুষ্ট তারা খুবই শক্তিশালী অগ্রগামী অবস্থায় রয়েছেন। আর যেহেতু এই নির্বাচনে স্বতন্ত্রদের দাঁড়ানোর একটি প্রচ্ছন্ন সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তার মানে এই না, আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতাকর্মীরা, উন্নয়নপ্রত্যাশী সাধারণ ভোটাররা আওয়ামী লীগের যে মূল প্রার্থী বা অফিশিয়াল প্রার্থী তাকে ছেড়ে দিয়ে অন্য কোনো প্রার্থী বা স্বতন্ত্র প্রার্থীকে সমর্থন দেবেন। আওয়ামী লীগের কোনো নেতাকর্মী নৌকা প্রতীক বাদ দিয়ে, দু-একজন ছিটেফোঁটা ছাড়া সবাই নৌকার সঙ্গেই আছেন। আবার কোনো প্রার্থীকে দুর্বলভাবেও দেখি না।’
