দক্ষিণ আফ্রিকা জয়ের মিশনে রোহিত-কোহলি

আপডেট : ২৬ ডিসেম্বর ২০২৩, ০২:৩৩ এএম

৩১ বছরে ভারতীয় ক্রিকেট দল দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে খেলেছে ২৩টি টেস্ট ম্যাচ। তাতে জয়ের সংখ্যা মাত্র ৪। হারের সংখ্যা ১২ আর ড্র হয়েছে বাকি ৭ টেস্ট। ২০২১ সালের বক্সিং-ডে টেস্ট জয়টাই প্রোটিয়াদের বিপক্ষে তাদের মাটিতে ভারতের সবশেষ জয়ের স্মৃতি। এরপর অবশ্য সিরিজের দুই ম্যাচেই হার, তাতে অধরাই থেকে গেছে সিরিজ জয়। রাহুল দ্রাবিড় তার খেলোয়াড়ি জীবনে পারেননি, কোচ হিসেবে কি পারবেন? আজ সেঞ্চুরিয়নে শুরু হচ্ছে ২ টেস্টের সিরিজ, যা দিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা শুরু করছে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের এই চক্রে তাদের অভিযান।

ভারতের মাটিতে ওয়ানডে বিশ্বকাপ ছিল রীতিমতো ব্যাটিং স্বর্গ, দক্ষিণ আফ্রিকায় ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টি সিরিজেও রান হয়েছে বেশ। তবে টেস্ট সিরিজে রান করতে খুব সম্ভবত ঘামই ঝরবে ব্যাটসম্যানদের, বেখেয়াল হলে ঝরতে পারে রক্তও। দুই দলের পেসারদের নামের তালিকাটা একবার দেখুন। কাগিসো রাবাদা, জাসপ্রিত বুমরাহ, জেরাল্ড কোয়েটজি, মোহাম্মদ সিরাজ, মার্কো ইয়ানসেন, লুঙ্গি এনগিদি, শার্দুল ঠাকুর। সেঞ্চুরিয়নের উইকেটে লাল বল হাতে ব্যাটসম্যানদের জীবনটা দুর্বিষহ করে তুলতে পারেন যে কেউই।

ক্রিকেটকে পণ্য বানিয়ে ব্যবসা করাটা বিশ্বকে দেখিয়েছে ভারতই। সেই শিক্ষাটা পেয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেট বোর্ড হয়েছে লোভী। টেস্ট ক্রিকেটকে বর্ষপঞ্জি থেকে কমিয়ে ফেলে সেই জায়গায় অর্থকরী টি-টোয়েন্টি লিগ ঢোকাতে হয়েছে। তাই তো এবারের টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের চক্রে দক্ষিণ আফ্রিকার টেস্ট সবচেয়ে কম, ১২টি যা একমাত্র বাংলাদেশের সমান। বাকি সব দলই প্রোটিয়াদের চেয়ে বেশি টেস্ট খেলবে। জানুয়ারির ১০ তারিখ থেকে শুরু হছে এসএ টোয়েন্টি যেটা চলবে ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। একই সময়ে নিউজিল্যান্ডে টেস্ট খেলতে যাওয়ার সূচি দক্ষিণ আফ্রিকার। দক্ষিণ আফ্রিকার টেস্ট দলের কোচ শুক্রি কনরাড আগেই জানিয়ে দিয়েছেন, সেই সিরিজটা খেলতে যাবে দক্ষিণ আফ্রিকার দ্বিতীয় সারির দল যারা মূলত ‘এ’ দলের খেলোয়াড়। তারকা ক্রিকেটাররা সবাই খেলবেন টি-টোয়েন্টি লিগে।

ঠিক উল্টোচিত্র ভারতীয় দলে। আইপিএল খেললে ভারতের মাঝারি স্তরের একজন ক্রিকেটার যে অর্থ কামাতে  পারেন, তাতে অন্তত খাওয়া-পরার চিন্তা ঘুচে যায়। রোহিত শর্মা, বিরাট কোহলিরা আয় করেন চোখ কপালে তোলার মতো অঙ্ক। তবুও টেস্ট ম্যাচের আবেদন তারা উপেক্ষা করতে পারেন না। বিশ্বকাপের ফাইনালে হার এবং টানা খেলার চাপ থেকে দুজনেই বিশ্রামে ছিলেন সাদা বলের দুই সিরিজেই। টেস্ট ম্যাচের দলে ফিরেছেন দুজনই।

টেস্ট অভিষেকে শতরান করেছেন ভারতের ব্যাটিংয়ের নতুন নক্ষত্র যশস্বী জয়সোয়াল। দক্ষিণ আফ্রিকায় তারও পরীক্ষা। যুব বিশ্বকাপে এখানেই তো নজর কেড়েছিলেন, বড়দের দলে খেলতে এসে কী আছে তার ভাগ্যে সেটাও দেখবার। তেমনি শুভমান গিলকেও আফ্রিকার মাটিতে প্রথম টেস্ট খেলার পরীক্ষা দিতে হবে। এখানে নতুন বলে পেসারদের খেলাটা বিশ্বের অনেক বাঘা বাঘা ব্যাটসম্যানদের কাছেই দুঃস্বপ্ন।

দক্ষিণ আফ্রিকার টেস্ট দলে চোখ বুলালে নজরে পড়বে অচেনা সব নাম। ডেভিড বেডিংহাম, নান্দ্রে বার্জার, টোনি ডে জর্জি তারা কে কেমন ব্যাট করেন সেটা বোধহয় একমাত্র কোচই জানেন। ডিন এলগার এই সিরিজ খেলে অবসরে যাচ্ছেন। অনেক অচেনার ভিড়ে তিনিই চেনামুখ। এমন একটা দলের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ জিতে আক্ষেপটা ঘুচিয়ে ফেলা খুবই সম্ভব ভারতের। কিন্তু ঐ যে...পেস বোলিং। রাবাদা, কোয়েটজি, এনগিদি...তাদের হাতে লাল বলটা উঠবে বলেই খেলাটায় কিছুটা অনিশ্চয়তা বেঁচে আছে। কারণ ব্যাটসম্যানের নাম বিরাট হোক কিংবা বার্জার, আউট হতে তো একটা বলই যথেষ্ট।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত