‘দেশ রূপান্তর পত্রিকাটি বের হওয়ার পর থেকে খুব আন্তরিকতার সঙ্গে প্রতিদিন ফলো করি, শুধু তাই নয়, পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মোস্তফা মামুনকে আমি প্রায়ই বলি, তোমার কাগজটা আমার খুব ভালো লাগে কারণ তুমি প্রতিদিন নতুন চিন্তার কিছু করার চেষ্টা করো’ এভাবেই বলছিলেন কালের কণ্ঠের প্রধান সম্পাদক, ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপের পরিচালক, প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন।
দেশ রূপান্তরের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক, কথাসাহিত্যিক মোস্তফা মামুনের জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানাতে তার শুভার্থীরা গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় করে এক আন্তরিক অনাড়ম্বর আয়োজন। না, কোনো কেক কাটার আয়োজন ছিল না, সাহিত্য সম্পাদক শিমুল সালাহ্উদ্দিনের উপস্থাপনায় প্রায় সব বিভাগের কর্মীরা মোস্তফা মামুনকে জন্মদিনের শুভেচ্ছার পাশাপাশি তার প্রতি নানা আহ্বান, দাবি, অনুরোধ-উপরোধ রাখেন। এ সন্ধ্যার মধ্যমণি হয়ে প্রিয় অনুজ লেখক ও সাংবাদিককে চমকে দিতে এসেছিলেন ইমদাদুল হক মিলন।
সবার বক্তৃতার পর তিনি দীর্ঘ কথনে মোস্তফা মামুনকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানান। তিনি শুরু করেন, ‘আমি ভাগ্যবান বয়সের ফারাক থাকার পরও মামুন আমার বন্ধু, আমার ভাই। আজকে সে ৫০-এ পা দিল। এই শুভমুহূর্তে আমি তার জন্য প্রার্থনা করি, আমি কলেজপড়ুয়া একটা ছেলের বই পড়ে মুগ্ধ হই, সে তখন মোহাম্মদ মোস্তফা মামুন নামে লিখত। আমি তার বইয়ের প্রকাশকের সঙ্গে কথা বলি এবং জানাই এই ছেলেটির সঙ্গে আমি কথা বলতে চাই। সে কী করে জানতে চাই। প্রকাশকের কাছ থেকে আমি জানলাম সে সাংবাদিকতা করে। এরপর তার সঙ্গে আমার প্রথম দেখা হয়, সে প্রেস ক্লাব থেকে লেখক হিসেবে পুরস্কার পেয়েছিল। অনুষ্ঠানে আমি উপস্থিত ছিলাম এবং একটা ছেলে সারাক্ষণ হাসে, সুন্দর করে কথা বলে ও রসবোধে টইটম্বুর, যা দেখে আমার খুব ভালো লাগল। আমি তাকে বললাম, তোমার লেখা আমার খুব ভালো লেগেছে এবং বইয়ের শেষ পর্যন্ত পড়েছি। সেদিন আমি তাকে বলি, আমি তোমাকে একটা অনুরোধ করব, তুমি মোহাম্মদ মোস্তফা মামুন বাদ দিয়ে কেবল ‘মোস্তফা মামুন’ নামে লেখো। তাহলে তোমাকে আরও স্মার্ট দেখাবে। মামুন আমাকে সম্মান দিয়ে নামটা পরিবর্তন করে। দিনে দিনে লেখক হিসেবে মামুন একটা পরিপূর্ণ স্মার্ট জায়গায় এসে পৌঁছেছে।’
ইমদাদুল হক মিলন আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, ‘আজকে মামুন ৫০-এ পা রেখেছে, একটা বড় জায়গায় এসেছে। আমরা ধরে নিই ৪০ বছরে একটা মানুষ সম্পূর্ণ মানুষ হয়ে ওঠে। সেই চল্লিশ মামুন দশ বছর আগে কাটিয়ে এসেছে। সুতরাং এখন মামুন একজন পরিপূর্ণ মানুষ। এই মানুষটার কাছ থেকে বাংলাদেশের সংবাদপত্র এবং সাহিত্য অনেক কিছু পাবে এবং সবকিছু মিলিয়ে মামুনের সম্পাদনায় দেশ রূপান্তর আরও এগিয়ে যাবে। মামুনের চারপাশে অনেক মেধাবী মানুষ। সংবাদপত্রে কখনো একজনের পক্ষে ভালো করা সম্ভব নয়। পৃথিবীর সেরা সাংবাদিককে যদি খারাপ টিমের সঙ্গে বসিয়ে দেন তিনি ভালো করতে পারবেন না।’
তিনি দেশ রূপান্তরের সার্বিক উন্নয়ন চিহ্নিত করে বলেন, ‘মামুন যেটা করতে পেরেছে, তার চারপাশে ভালো কিছু মানুষ, ভালো কিছু সাংবাদিককে খুঁজে বের করেছে এবং টিমটাকে শক্ত করেছে। এই টিম নিয়ে মামুন এবং দেশ রূপান্তর অনেক দূর যাবে। দেশ রূপান্তরের বিনিয়োগকারী মুকুল ভাই (শীর্ষ শিল্পগ্রুপ রূপায়ণ গ্রুপের চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী খাঁন মুকুল) আমার খুব ঘনিষ্ঠ। আমি ছোটবেলা থেকেই তাকে চিনি। সবকিছু মিলিয়ে মামুন খুব ভালো একটি জায়গায় এসেছে। তোমরা যারা এখানে আছো রাজীব (চিফ রিপোর্টার আশরাফুল হক রাজীব), সরোয়ার (বিশেষ প্রতিনিধি সরোয়ার আলম), কবি জুয়েল মোস্তাফিজ (অতিরিক্ত বার্তা সম্পাদক), বুলবুল (অনলাইন ইনচার্জ আনিসুর রহমান বুলবুল) তারা মামুনকে আরও বড় হতে সহযোগিতা করবে আমি জানি, বাতিঘর শুধু আলো দেয় না, সে কিন্তু নিজেও আলোকিত হয়।’
ইমদাদুল হক মিলনের বক্তৃতার পর জন্মদিনের আলাপে মোস্তফা মামুন সবাইকে ধন্যবাদ দিয়ে বলেন, ‘আমি ৫১ শতাংশ সাংবাদিক ৪৯ শতাংশ লেখক, মিলন ভাইসহ আমার সব শুভানুধ্যায়ীকে আমি কৃতজ্ঞতা জানাই। আমার সহকর্মীরা সত্যিই আমাকে এভাবে চমকে দেবে ভাবিনি।’
আয়োজনের ব্যানারে লেখা হয়েছিল দুই লাইনের একটি স্লোগান, ‘বড়দিনে সান্তাক্লজ আসে, সবাইকে সে হাসায় এবং হাসে’ মোস্তফা মামুনের বিজয়ী চরিত্রের একটি দিকই যেন উঠে এসেছে দুটি লাইনে। সান্তা ক্লজের গিফটের পিজ্জা চলে আসে এর পরপরই। শুভানুধ্যায়ীদের দলগত পিজ্জা-ভক্ষণের মধ্য দিয়ে শেষ হয় এ আয়োজন।
