বিশ্ববাসী আগামী বছর অনেকগুলো নির্বাচন প্রত্যক্ষ করবে যার মধ্যে বছরের শুরুতেই হতে যাচ্ছে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। বিশ্ব রাজনীতির প্রধানতম দুই খেলোয়াড় চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের নজর থাকবে এই নির্বাচনের ওপর। আগামী ১৩ জানুয়ারি প্রেসিডেন্ট ও আইনসভার নির্বাচনে ক্ষমতাসীনরা ‘চীনপন্থি’ বিরোধীদের কড়া চ্যালেঞ্জে পড়েছেন।
তাইওয়ানে ক্ষমতাসীন ডেমোক্রেটিক প্রগ্রেসিভ পার্টি (ডিপিপি) সবসময়ই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রেখে চলে। অন্যদিকে চীন দ্বীপটিতে ক্ষমতাসীন নেতৃত্বকে বিচ্ছিন্নতাবাদী মনে করে। বর্তমানে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির (সিসিপি) সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর ব্যক্তি দেশের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং তাইওয়ানের ওপর নিরঙ্কুশ কর্তৃত্ব অর্জনে আগের শাসকদের তুলনায় বেশি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তাইওয়ানকে চীন থেকে পৃথককরণের প্রচেষ্টা প্রতিরোধ করার বার্তা দিয়ে গত মঙ্গলবার মাও সে তুংয়ের ১৩০তম জন্মবার্ষিকী স্মরণে জিনপিং বলেন, ‘মাতৃভূমিকে পুনরেত্রীকরণ করতে হবে এবং অনিবার্যভাবে আবারও তা করতে হবে।’ তাৎপর্যপূর্ণভাবে মাও সে তুংয়ের নেতৃত্বে চীনা কমিউনিস্টরা ১৯৪৯ সালে যেই কুওমিনতাং পার্টিকে পরাজিত করে তারাই এখন তাইওয়ানের বিরোধী দলের আসনে। ঘটনাক্রমে কুওমিনতাংই এখন চীনপন্থি হিসেবে পরিচিত। সেই দিকে ইঙ্গিত করে ডিপিপির ভাইস প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী লাই চিং-তে টিভি অনুষ্ঠানে বলেন, ‘‘কুওমিনতাং একসময় চীনা কমিউনিস্টদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নেতৃত্ব দিয়েছে। কিন্তু তারা এখন কমিউনিস্টদের বিরোধিতার রাস্তা থেকে শুধু সরেই আসেনি, বরং ‘কমিউনিস্টপন্থি’ হয়ে গেছে।’ আসন্ন নির্বাচনে ডিপিপি মনোনীত প্রেসিডেন্ট প্রার্থী উইলিয়াম লাইয়ের সঙ্গে কুওমিনতাং প্রার্থী হু ইউ-ইহয়ের কড়া টক্কর হতে যাচ্ছে। ‘মাই ফরমোজা’ পোর্টালের জরিপে ডিপিপি প্রার্থীর ৩৫.২ শতাংশ এবং কুওমিনতাং প্রার্থীর ৩০.৬ শতাংশ সমর্থনের কথা বলা হয়েছে। আবার চীনপন্থি একটি প্রতিষ্ঠানের জরিপে দুই প্রার্থীর পক্ষে ৩১ শতাংশ সমর্থনের কথা বলা হয়। নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে তাইওয়ান প্রণালিতে চীনের সামরিক তৎপরতা তত বাড়ছে। আবার গত ১৫ ডিসেম্বর তাইওয়ানকে যুক্তরাষ্ট্র ৩০ কোটি ডলারের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহ করে। এ নিয়ে চীন কড়া প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে বলে, ‘এই প্রতিরক্ষা ব্যয় তাইওয়ান প্রণালির নিরাপত্তা স্বার্থকে ক্ষতিগ্রস্ত করার পাশাপাশি শান্তি ও স্থিতিশীলতা বিনষ্ট করবে।’ কুওমিনতাং প্রার্থী ও প্রচারকরা বলছেন, লাইয়ের অতীতের মন্তব্য দ্বীপকে চীনের সঙ্গে সংঘাতের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গিয়েছিল।
ডিপিপি যে মোটেও স্বস্তিতে নেই, তার ইঙ্গিত দিলেন ওয়াশিংটনে নিযুক্ত তাইপের সাবেক প্রতিনিধি ভিনসেন্ট চাও। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করছি, এটি গণতন্ত্র এবং দল আট বছর ধরে ক্ষমতায়। তাই যেকোনো কিছু ঘটতে পারে।’
