কলোরাডো অঙ্গরাজ্যের পর মেইন অঙ্গরাজ্যেও সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে প্রাথমিক বাছাইয়ে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে। বিদ্রোহে উসকানি দেওয়ার সাংবিধানিক ধারার আলোকে তার বিরুদ্ধে এ নির্দেশ দিলেন ডেমোক্রেটিক পার্টিশাসিত রাজ্যের প্রশাসন। এর আগে কলোরাডোর আদালত একই ধারায় তাকে অযোগ্য ঘোষণা করে।
গত ১৯ ডিসেম্বর কলোরাডো সুপ্রিম কোর্ট রায় দেয়, রিপাবলিকান পার্টির নেতা সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অঙ্গরাজ্যের প্রাথমিক বাছাইয়ের ব্যালটে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকতে পারবেন না।
২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জো বাইডেনের জয়লাভের ফলকে মেনে না নিয়ে সহিংসতা সৃষ্টি করেন ট্রাম্প-সমর্থকরা। ওই ঘটনাকে বিদ্রোহ হিসেবে বর্ণনা করে কলোরাডোর আদালত রায় দেয়। এরপর মেইন অঙ্গরাজ্যের একদল নাগরিক বিদ্রোহে জড়িত থাকার অভিযোগ এনে ট্রাম্পকে অযোগ্য ঘোষণার দাবি তোলেন। অঙ্গরাজ্যের সেক্রেটারি অব স্টেট শেনা বেলওয়েজ বিষয়টি পর্যালোচনা করে ট্রাম্পকে অযোগ্য ঘোষণার সিদ্ধান্ত দেন। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, এর আগে কোনো প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থীকে ব্যালটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে দূরে রাখা হয়নি। তবে আমি এও মনে করি, এর আগে কোনো প্রেসিডেন্ট প্রার্থী বিদ্রোহে উসকানি দেননি।’
ডেমোক্রেট দলের নেতা শেনা বেলওয়েজকে একজন ‘উগ্র বামপন্থি’ আখ্যা দিয়ে ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারকাজের প্রচারক স্টিভেন চেউং বলেন, ‘ভুলে যাবেন না, নির্বাচনী কাজে এ ধরনের পক্ষপাতমূলক পদক্ষেপ আমেরিকান গণতন্ত্রের ওপর বিদ্বেষপূর্ণ আচরণ।’
মেইনের আদেশটি কোনো আদালত থেকে আসেনি। এখানে অযোগ্য ঘোষণাসংক্রান্ত নির্দেশনা দিয়েছেন সেক্রেটারি অব স্টেট যিনি রাজ্যের নির্বাচনী দায়িত্বভার সামলান। এখন তার আদেশটি আদালতের মূল্যায়নের জন্য যাবে। বিধি অনুযায়ী, বেলওয়েজ তার সিদ্ধান্তটি স্থগিত করেছেন যাতে অঙ্গরাজ্যে শীর্ষ আদালতে বিবাদীপক্ষ আপিল করতে পারেন। আগামী বছরের মার্চে অঙ্গরাজ্যে প্রাথমিক বাছাই হওয়ার কথা। তখন এ সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়বে যদি না আদালত থেকে এর কোনো সুরাহা আদায় করতে পারেন ট্রাম্পপন্থিরা।
