কিংবদন্তিদের নাকি মৃত্যু হয় না। আসলেও তাই। প্রিয় ফুটবল মাঠ, কিংবা এই নশ^রলোক ছাপিয়ে পেলে যে জায়গা করে নিয়েছেন তার ভক্তকুলের হৃদয়ে। সেখানেই অনন্ত বাস ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের রাজা পেলের। প্রথম প্রয়াণ দিবসে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ করা হচ্ছে ফুটবলের অনন্ত নক্ষত্রকে।
গত বছর ৮২ বছর বয়সে নক্ষত্রলোকে পাড়ি জমানো এই কিংবদন্তি স্মরিত হয়েছেন তার জন্মস্থান, ট্রেস কোরাকোয়েসে। এ দিনটা ঘিরে আয়োজন হয়েছে বাউরুতে, যেখান থেকে শুরু ফুটবল ও পেলের সুরেলা যাত্রার। পেলের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ সান্তোসও স্মরণ করেছে নিজেদের প্রিয় অংশীজনকে। ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা ফিফা এ আয়োজন করেছে প্যারিসে। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক কসমস ক্লাবসহ সর্বত্র। সান্তোস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজেদের পেজে মুকুট মাথায় পেলের সান্তোসের খেলোয়াড়ি জীবনের ছবিসহ প্রকাশিত শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, ২৯ ডিসেম্বর, ২০২২। যে তারিখটা কেউ মনে করতে চাইবে না, কিন্তু দিনটিকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা উচিত। এদিন একজন মানুষের জন্য পুরো পৃথিবী কেঁদেছে। আর অমরত্ব পেয়েছে তার আসল রূপ, প্রতিভা, শ্রেষ্ঠত্ব এবং পরিপূর্ণতার প্রতীক।
সান্তোস এফসির সঙ্গে ১ হাজার ১১৬টি ম্যাচ, ১ হাজার ৯১টি গোল ও ৪৫টি শিরোপা দ্বারা আবৃত ইতিহাস। একটি সাধারণ ডাকনামসহ, তার পেছনে একটি সংখ্যা ১০ এবং এভাবেই তিনি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ হয়ে ওঠেন। চিরকালের রাজা।’
ফেব্রুয়ারিতে প্যারিসে ফিফার বার্ষিক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের অধিকাংশ অংশেই শ্রদ্ধাঞ্জলি জানানো হবে পেলে নামে পরিচিত এডসন আরান্তেস দো নাসিমেন্তোকে। পেলেকে ‘ফুটবলের রাজা’ উপাধিতে ভূষিত করা লেখক নেলসন রদ্রিগেজ তার লেখনীর সাহায্যে পেলের বয়ান দেন এভাবে, ‘উচ্চবিত্ত সমাজের নাকউঁচু রমণী, যারা সব সময় নিজের রূপে মুগ্ধ; তারাও পেলের মহিমার কাছে নত হন। একজন পুরুষ, রূপকথা কিংবা বীর হিসেবে পেলে তাদের মুগ্ধ করে রাখেন।’ বছরব্যাপী ব্রাজিলিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের ৩৮০টি ম্যাচের প্রতিটিতে ১ মিনিট করে নীরবতা পালিত হয়েছে জাদুকরের জন্য। শ্রদ্ধা প্রকাশে প্রতিযোগিতার নাম বদলে করা হয়েছে ব্রাসিলেইরাওরেই। দ্বিতীয় বিভাগে অবনমিত হওয়ার কষ্টে নীল সান্তোস পেলের ১০ নম্বর জার্সিকেও পাঠিয়েছে অবসরে। পেলেকে তার দাদি ভালোবেসে ডাকতেন ডিকো নামে। সম্প্রতি ‘ডিকো : পেলের হৃদয়ে বাস করা ছোট ছেলেটি’ গ্রন্থটি নিজেদের প্রিয় মানুষটিকে ভালোবাসায় বেঁধে রাখতেই প্রকাশ করেছেন সেলসো ডি ক্যাম্পোস জুনিয়র।
নিউ ইয়র্ক কসমসের হয়ে যুক্তরাষ্ট্র মাতিয়ে ফেরার সময় জাদুকর ট্রেস কোরাকোয়েস সম্পর্কে বলেছিলেন, ভালোবাসা, ভালোবাসা ও ভালোবাসা। একুমেনিক্যাল মেমোরিয়াল সমাধিক্ষেত্রে শায়িত নক্ষত্রের জন্য পুরো পৃথিবীর ভক্তকুলের হৃদয় থেকেও ওই তিনটি শব্দই গুঞ্জরিত হচ্ছে, হতে থাকবে।
