সোমবার, ১৭ জুন ২০২৪, ৩ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

নিশ্চিত জয়

আপডেট : ৩১ ডিসেম্বর ২০২৩, ১১:৪৭ এএম

জামাল হোসেন বিষাদ, নোয়াখালী : দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নোয়াখালী-৫ আসনে (কোম্পানীগঞ্জ-কবিরহাট) হেভিওয়েট প্রার্থী আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। অন্য দলের বাকি চার প্রার্থীই ভোটের মাঠে নবাগত। ফলে নৌকার বিজয়কেতন ওড়াবেন তিনি। এমনটাই নিশ্চিত করেছেন দলের স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

গ্রহণযোগ্য চার নির্বাচনে (১৯৯১ থেকে ২০০৮) পর্যন্ত নির্বাচনের মাঠে অংশ নেওয়া ওবায়দুল কাদের চারবারই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন মওদুদ আহমদের সঙ্গে। এতে দুইবার জিতেছেন, দুইবার হেরেছেন।

এবার নোয়াখালী-৫ আসনে কোনো স্বতন্ত্র প্রার্থী না থাকলেও অন্যান্য দলের প্রার্থীরা হলেন জাতীয় পার্টির ব্যারিস্টার খাজা তানভীর আহমেদ (লাঙ্গল), জাসদের মোহাম্মদ মোকছেদুর রহমান (মশাল), ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের মোহাম্মদ সামছুদ্দোহা (চেয়ার) ও সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের শাকিল মাহমুদ চৌধুরী (ছড়ি)।

ওবায়দুল কাদের ছাড়া এই চার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী সংসদ নির্বাচনে প্রথম। জাতীয় পার্টির প্রার্থী খাজা তানভীর আহমেদের পক্ষে কিছু প্রচার-প্রচারণা থাকলেও সাংগঠনিক দুর্বলতা রয়েছে। অন্যদিকে জাসদ দল হিসেবে পুরনো হলেও দলীয় প্রচার-প্রচারণা নেই। অন্য দলের প্রার্থীদেরও এলাকার ভোটাররা তেমন একটা চেনেন না। ফলে এই আসনে নৌকার সঙ্গে শক্ত কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী নেই। ভোটারদের আলোচনায় কেবলই নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ওবায়দুল কাদের। বয়সে তরুণ জাতীয় পার্টির প্রার্থী ব্যারিস্টার খাজা তানভীর আহমেদ কিছুটা আলোচনায় থাকলেও নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার মতো অবস্থায় নেই। 

এলাকার সাধারণ ভোটাররা জানান, বিএনপি নির্বাচনে না আসায় এ আসনে কোনো শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী নেই। সুতরাং নৌকার প্রার্থীর বিজয় সুনিশ্চিত।

সুজনের জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবু নাছের বলেন, গুরুত্বপূর্ণ আসন হিসেবে সব সময় বিবেচিত হয়ে আসছিল। কারণ এখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন হতো। কিন্তু মওদুদ আহমদের মৃত্যুর পর এবং এবারের নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ না করায় অনেকটা নিরুত্তাপ নির্বাচনই বলা চলে। জাতীয় পার্টি, জাসদের প্রার্থী থাকলেও ফলাফল কী হবে তা আঁচ করা যাচ্ছে।

পরিসংখ্যান বলছে, ১৯৯১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত ওবায়দুল কাদের পরাজিত হয়েছেন দুইবার এবং বিজয়ী হয়েছেন দুইবার। ১৯৯১-এর নির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের কাছে পরাজিত হন। ’৯৬ সালের নির্বাচনে জাতীয় পার্টির একই প্রার্থীকে পরাজিত করে তিনি প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেন। দল সরকার গঠন করলে তিনি যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। ২০০১ সালের ৮ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টি থেকে বেরিয়ে বিএনপির পার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন মওদুদ আহমদ। সেই নির্বাচনে পরাজিত হন নৌকার মাঝি ওবায়দুল কাদের। ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হেভিওয়েট মওদুদ আহমদকে পরাজিত করে আসনটি পুনরুদ্ধার করেন ওবায়দুল কাদের। ২০১১ সাল থেকে তিনি মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন এবং প্রধানমন্ত্রীর আস্থাভাজন হিসেবে পরপর তিনবার দলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করছেন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত