সোমবার, ১৭ জুন ২০২৪, ৩ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

নিশ্চিত জয়

আপডেট : ৩১ ডিসেম্বর ২০২৩, ১১:৪৭ এএম

শামসুল ইসলাম, চট্টগ্রাম : রাঙ্গুনিয়া উপজেলা এবং বোয়ালখালীর শ্রীপুর ও খরনদ্বীপ ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত চট্টগ্রাম-৭ আসনে চতুর্থবারের মতো আওয়ামী লীগের প্রার্থী দলের যুগ্ম সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। মোট ছয়জন প্রার্থীর মধ্যে একমাত্র হেভিওয়েট প্রার্থী তিনি। শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকলেও বিরামহীনভাবে চলছে তার নির্বাচনী প্রচারণা।  চট্টগ্রামের অধিকাংশ আসনে এবার নৌকার বিরুদ্ধে হেভিওয়েট স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আওয়ামী লীগ নেতারা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকলেও চট্টগ্রাম-৭ আসনে নৌকার প্রার্থীর বিরুদ্ধে কোনো স্বতন্ত্র প্রার্থী নেই।

ভোটের মাঠে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের আরও পাঁচ প্রার্থী রয়েছেন। তারা হলেন জাতীয় পার্টির মুছা আহমেদ রানা (লাঙ্গল), বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মুহাম্মদ ইকবাল হাছান (মোমবাতি), ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের আহমদ রেজা (চেয়ার), বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির মোর্শেদ আলম (একতারা) ও তৃণমূল বিএনপির খোরশেদ আলম (সোনালি আঁশ)। এই প্রার্থীদের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কোনো অভিজ্ঞতা নেই।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন প্রার্থীর পোস্টার-ব্যানারে ছেয়ে গেছে। মাইকে প্রচারণা চলছে বিভিন্ন প্রতীকের পক্ষে। আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী হাছান মাহমুদের পক্ষে দলের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক প্রচারণা চালাচ্ছেন। পাশাপাশি বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের প্রার্থী মুহাম্মদ ইকবাল হাছানের মোমবাতি প্রতীকের পক্ষে প্রচারণার মাঠে রয়েছেন দলের সহযোগী সংগঠন ইসলামী ছাত্রসেনা ও যুবসেনার নেতাকর্মীরা। জাতীয় পার্টিসহ অন্যান্য প্রার্থীর পোস্টার-ব্যানার ঝুলতে দেখা গেলেও তাদের নির্বাচনী প্রচারণা খুব একটা দৃশ্যমান নয়।

রাঙ্গুনিয়া উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি ও রাঙ্গুনিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষক ড. মো. আবদুল মাবুদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, প্রার্থীরা যে যার মতো করে প্রচারণা চালাচ্ছেন। তবে প্রার্থীর ব্যক্তিগত ক্যারিশমা, দলীয় অবস্থান এসব বিবেচনায় ড. হাছান মাহমুদ অনায়াসে জিতে যাবেন। তবে মোমবাতি প্রতীকের প্রার্থী ইকবাল হাছান মোটামুটি অবস্থানে রয়েছেন।

আওয়ামী লীগ প্রার্থীর প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট মো. আসলাম খান বলেন, ড. হাছান মাহমুদ তার নির্বাচনী এলাকা রাঙ্গুনিয়ার যোগাযোগব্যবস্থা, শিক্ষা, বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়নের কারণে পুরো এলাকার চেহারা পাল্টে গেছে। আওয়ামী লীগ প্রার্থীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের ব্যবধান আকাশ-পাতাল।

১৯৯১ সালে ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এনডিপি) গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীকে পরাজিত করে রাঙ্গুনিয়া আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির মো. ইউসুফ। এরপর সপ্তম ও অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পরপর দুইবার আওয়ামী লীগের প্রার্থী সাদেক চৌধুরীকে হারিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন বিএনপির হেভিওয়েট নেতা সালাহ উদ্দিন কাদের চৌধুরী।

২০০৮ সালে প্রথমবারের মতো সেখানে নৌকার মনোনয়ন পেয়ে বিএনপি প্রার্থী সালাহ উদ্দিন কাদের চৌধুরীকে ২৯ হাজার ২৬৭ ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন ড. হাছান মাহমুদ। এরপর ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনেও আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে অংশ নিয়ে নির্বাচিত হন তিনি। এবারের নির্বাচনেও বিজয়ী হয়ে চতুর্থবারের মতো এলাকার মানুষের প্রতিনিধি হিসেবে সংসদে যাচ্ছেন এমনটিই মনে করছেন তার নির্বাচনী এলাকার লোকজন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত