রাজধানীর বনশ্রী এলাকায় বাসার সামনে গৃহকর্মীর মরদেহ পড়ে থাকার ঘটনায় পুলিশের ওপর হামলা ও বাসাটিতে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় রবিবার রাতে ও গতকাল সোমবার সকালে তিনটি মামলা হয়েছে। নিহতের ছেলে মো. আজিজুল ইসলাম থানায় অপমৃত্যুর মামলা করলেও অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার মাকে হত্যা করা হয়েছে।’
এ ছাড়া গাড়ি পোড়ানোর ঘটনায় বাড়ির মালিকের গাড়িচালক মো. উজ্জ্বল ভূঁইয়া এবং পুলিশের কাজে বাধাদান ও হামলার ঘটনায় রামপুরা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. কামরুল হাসান অজ্ঞাতনামা এক হাজার থেকে দুই হাজার জনকে আসামি করে মামলাটি করেন।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার (এসি-খিলগাঁও জোন) আবদুল্লাহ আল মামুন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গৃহকর্মী আসমা আত্মহত্যা বা অসাবধানতাবশত বাড়ির ছাদের ওপর থেকে পড়ে গিয়ে থাকতে পারেন। তবে এ ঘটনায় অপমৃত্যু মামলা হলেও তারা তদন্ত শেষে এর প্রকৃত কারণ বলতে পারবেন।
তিনি আরও বলেন, পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় তারা সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করছেন। তারা এগুলো পর্যবেক্ষণ করছেন। যারা এ ধরনের কাজে লিপ্ত ছিল, তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে। নিহত গৃহকর্মীর ছেলের অভিযোগের বিষয়টি তার কাছে নেই বলে জানান তিনি।
নিহত আসমার ছেলে আজিজুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে জানান, তার মাকে হত্যা করা হয়েছে। তার মায়ের লাশ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে দাফনের জন্য ও ভয়ভীতি দেখিয়ে তাদের অপমৃত্যু মামলা করতে বাধ্য করেছে। তার মাকে ১২ হাজার টাকা প্রতি মাসে দেওয়া হবে বলে কাজে নেয় ওই বাসার লোকজন। কিন্তু গত চার মাসে সাড়ে ৪ হাজার টাকা দিয়েছে। তার মা যে বাড়িতে কাজ করতেন, সেই বাড়ির লোকজন দারোয়ানের সহায়তায় হত্যা করে ছাদ থেকে ফেলে দিয়েছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গৃহকর্ত্রী কানিজ ফাতেমা মিরপুর মধ্যমণিপুরের বাসায় বসবাস করেন এবং সেখানে আসমা কাজ করতেন। কয়েক মাস আগে রেশমা নামে এক নারী কানিজ ফাতেমার বাসায় আসমাকে কাজে দেয়। রামপুরা বনশ্রী কানিজ ফাতেমার বাবা দেলোয়ার হোসেনের নিজের বাড়ি। দুদিন আগে গৃহকর্মী আসমাকে নিয়ে বাবার বাড়ি বেড়াতে আসেন কানিজ ফাতেমা। আসমা ভোরে উঠে কাপড় ধোয়া শুরু করেন। এতে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায় কানিজ ফাতেমা আসমাকে বকাঝকা করেন। কিছুক্ষণ পর পথচারীরা বাসায় খবর দেন, ভবনের নিচে পড়ে আছেন আসমা। এরপর থানায় খবর দেওয়া হয়। যদিও অভিযোগ ওঠে, আসমাকে হত্যার পর ছাদ থেকে বাসার নিচে ফেলে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এ অভিযোগের কোনো সত্যতা পায়নি পুলিশ।
