উইকেটের ছক্কা মারা অভ্যাসে পরিণত করছেন সিরাজ

আপডেট : ০৩ জানুয়ারি ২০২৪, ০৫:৫৫ পিএম

কেপটাউন টেস্টে দক্ষিণ আফ্রিকাকে মাত্র ৫৫ রানে গুটিয়ে দেওয়ার দিনে ক্যারিয়ারের নতুন কীর্তিও গড়েছেন সিরাজ। প্রথমবারের মতো নিয়েছেন ৬ উইকেট। ৯ ওভার বল করে ৩ মেডেন আর ১৫ রান খরচা করেছেন। এটিই এখন তার ক্যারিয়ারসেরা বোলিং নৈপুণ্য। এর আগে ২০২৩ সালের জুলাইতে উইন্ডিজের ৬০ রানে ৫ উইকেট ছিল তার ক্যারিয়ারসেরা বোলিং।

এদিন বুমরার সঙ্গী হয়ে নতুন বলে শুরু করেন সিরাজ। ইনিংসের চতুর্থ ও নিজের দ্বিতীয় ওভারের দ্বিতীয় বলে এইডেন মার্করামকে দিয়ে শুরু করেন শিকার। পরের ওভারে ফেরান ক্যারিয়ারের শেষ টেস্ট খেলতে নামা ডিন এলগারকে। পঞ্চম ওভারে নেন টনি ডি জর্জির উইকেট। অষ্টম ওভারে নেন জোড়া উইকেট। ডেভিড বেডিংহাম ও মার্কো ইয়ানসনকে ফেরান ওই ওভারে। পরের ওভারে ফেরান কাইল ভেরাইনকে। এক স্পেলেই টানা ৯ ওভার বোলিং করে প্রোটিয়াদের ধ্বংস করে দেন সিরাজ।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৬ উইকেট আগেও একবার নিয়েছেন সিরাজ। গতবছর এশিয়া কাপ ফাইনাল ওয়ানডেতে। ২১ রানে ৬ উইকেট নেওয়া ওই স্পেলে চূর্ণ হয়েছিল স্বাগতিক শ্রীলঙ্কা। মাত্র ৫০ রানেই অলআউট হতে হয় তাদের। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সিরাজের সেরা বোলিং নৈপুণ্য ১৭ রানে ৪ উইকেট শিকার। ২০২২ সালে নেপিয়ারে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে এ গড়েছিলেন এ কীর্তি।

টেস্টে আজকের আগেও দুইবার ফাইফার পেয়েছেন সিরাজ। আজ পেলেন ছয় উইকেট। অবশ্য প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে আট উইকেট শিকারের কীর্তি রয়েছে সিরাজের। ২০১৮ সালে বেঙ্গালুরুতে অস্ট্রেলিয়া ‘এ’ দলের বিপক্ষে ভারত ‘এ’ দলের হয়ে প্রথম ইনিংসে ১৯.৩ ওভারে ৭ মেডেনসহ ৫৯ রান খরচায় নিয়েছিলেন ৮ উইকেট। উসমান খাজা, ট্রাভিস হেড, পিটার হ্যান্ডসকম্ব, মিচেল মার্শ, লাবুশেনদের উইকেট শিকার করেছিলেন তিনি।

১৯৯৪ সালের ১৩ মার্চ হায়দ্রাবাদে জন্মগ্রহণ করেন সিরাজ। বাবা ছিলেন অটোচালক। মা অন্যের বাড়িতে কাজ করতেন। শৈশব খুব অর্থ কষ্টের মধ্যেই কেটেছে সিরাজের। ব্যাটার হিসেবেই ছোটবেলায় ক্রিকেট জীবন শুরু করলেও পরে বোলারে পরিণত হন। বড় ভাই মোহাম্মদ ইসমাইলের অনুপ্রেরণাতেই তাঁর ক্রিকেটে আসা। হায়দ্রাবাদের চারমিনার ক্রিকেট ক্লাবে ক্রিকেট জীবন শুরু করেন সিরাজ।

২০১৭ সালের নভেম্বরে ভারতীয় টি-টোয়েন্টি দলে অভিষেক মোহাম্মদ সিরাজের। এক বছর পর ডাক পান ওয়ানডে দলেও। সাদা বলের ক্রিকেটে নিজেকে জাতীয় দলে অপরিহার্য হিসেবে মেলে ধরেছেন। তবে সাদা পোশাকে দলে আসতে সময় লাগে আরও। ২০২০ সালে অস্ট্রেলিয়া সফরে টেস্ট সিরিজে ডাক পান। মোহাম্মদ শামির চোট সুযোগ খুলে দেয় সিরাজের। মেলবোর্নে বক্সিং ডে টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে টেস্ট অভিষেক হয় তার।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত