নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট 

পুলিশ কর্মকর্তাসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা

আপডেট : ০৩ জানুয়ারি ২০২৪, ০৮:৩৪ পিএম

ফেনীর পরশুরামে উত্তর বাউরখুমা এলাকার একটি বসতঘর থেকে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুটসহ নিজ মেয়েকে শ্লীলতাহানীর ঘটনায় পুলিশ কর্মকর্তাসহ ৬ জনের রিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে লাকী আক্তার নামে এক নারী। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে মঙ্গলবার (২ জানুয়ারি) অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে তদন্তের নির্দেশ দেন। আদালতের বেঞ্চ সহকারী আশিকুর রহমান এ তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, গত ৩১ ডিসেম্বর পরশুরামের উত্তর বাউরখুমা এলাকার মৃত আবুল খায়েরের স্ত্রী লাকী আক্তার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও পরশুরাম আমলী আদালতে বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় পরশুরাম মডেল থানার এসআই মোয়াজ্জেম (৫০) ও পুলিশ কনস্টেবল শেফালী (৩০) সহ অজ্ঞাত আরও ৩ জনকে আসামি করা হয়েছে। অপর আসামি পরশুরামের উত্তর বাউরখুমা এলাকার করিম ও তার ২ ছেলে মো. হালিম (১৯) ও মামুন (২৬), একই গ্রামের আবদুল জলিলের ছেলে শাবলু (৩০)।

বাদী পক্ষের আইনজীবী সাইফ উদ্দিন মজুমদার জানান, এসআই মোয়াজ্জেম ও শেফালী সরকারী কর্মকর্তা হয়ে আইন বিরোধী কাজে লিপ্ত হয়েছেন। লাকী আক্তার ৩ বছর পূর্বে ফুলগাজী উপজেলার মুন্সীর হাট থেকে পরশুরাম উপজেলার বাউরখুমা এলাকায় এসে নতুনভাবে বসতি স্থাপন করেন। লাকী আক্তারের ৩ কন্যা সন্তান। তাদেরকে হালিম, মামুন, শাবলু বিভিন্ন সময়ে উত্ত্যক্ত করে। এ বিষয়ে লাকী আক্তার মেয়র ও পরশুরাম মডেল থানায় কয়েকবার অভিযোগ করছেন। এদিকে করিমের সাথে লাকী আক্তারের ভূমি সংক্রান্ত বিরোধ রয়েছে। বাদী কিছুদিন পূর্বে ইসলামী ব্যাংক পরশুরাম শাখা থেকে ৪ লাখ টাকা ঋণ গ্রহণ করেন। ঋণ গ্রহণের বিষয়টি জানতে পেরে হালিম, মামুন, শাবলু ও করিম টাকাগুলো আত্মসাৎ করতে পরামর্শ করে। ২০২৩ সালের ২০ ডিসেম্বর লাকী আক্তারের বাড়িতে মাদক রয়েছে বলে এসআই মোয়াজ্জেম ও শেফালী অভিযান করে। কিন্তু তল্লাশি করে কোনো মাদক পায়নি। 

একপর্যায়ে এসআই মোয়াজ্জেম ও শেফালীসহ তিনজন বাদীর নিকট চাবি নিয়া ব্যাংক থেকে উত্তোলনকৃত ৪ লাখ টাকা, ১লাখ টাকা মূল্যের ১টি স্বর্ণের চেইন নিয়ে যায়। পরে ১টি টমটম গাড়ির চার্জারও নিয়ে যায়। তারা লাকী আক্তারের নাবালক পুত্র শাকিব ও মেয়ের জামাতা জিয়াউর রহমানকে মারধর করে। এ সময়ে হালিম, মামুন, শাবলু বাদী ও তার মেয়েদের শ্লীলতাহানী করে। ছেলে ও মেয়ের জামাতার নামে পরশুরাম মডেল থানায় মিথ্যা মাদক মামলা দায়ের করেন। এর পূর্বে এসআই মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে আব্দুল মান্নান নামে একজন পুলিশ সুপারের নিকট অভিযোগ দিয়েছেন।

লাকী আক্তার বলেন, এ বিষয়টি কাউকে জানালে পুত্র ও মেয়ের জামাইয়ের বিরুদ্ধে মিথ্যা মাদক মামলার করে পরিবারকে নিঃশেষ করিয়া দিবে হুমকি প্রদান করে তারা। এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ করলেও কর্তৃপক্ষ কোনো অভিযোগ গ্রহণ করেন নাই।

এ ব্যাপারে এসআই মোয়াজ্জেমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিদের এ নিউজ করা ছাড়া আর কোনো কাজ নেই বলে মোবাইল কল কেটে দেন। 

তবে পরশুরাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শাহাদাত হোসেন বলেন, তাদের বিরুদ্ধে মাদক সংশ্লিষ্টতার মামলা করলে তারা থানা-পুলিশের বিরুদ্ধে এ রকম অভিযোগ নিয়ে আসেন।

ফেনীর পুলিশ সুপার জাকির হাসান বলেন, একজন নারীর বসতঘর থেকে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুটসহ নিজ মেয়েকে শ্লীলতাহানীর ঘটনায় পুলিশ কর্মকর্তাসহ ৬ জনের রিরুদ্ধে মামলার বিষয়টি জেনেছি। যেহেতু ভুক্তভোগী নারী আদালতে মামলা করেছেন আদালত বিচার করবেন। 

 

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত