কী কারণে মাত্র ৬৪২ বলেই শেষ কেপটাউন টেস্ট

আপডেট : ০৪ জানুয়ারি ২০২৪, ০৭:১৮ পিএম

অনেকদিন বাদে অবাক করা এক টেস্টের সাক্ষী হলো পৃথিবী। ৬৪২ বলেই নিষ্পত্তি হয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা ও ভারতের মধ্যকার সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ কেপটাউন টেস্ট। ম্যাচের ফল গিয়েছে ভারতের পক্ষে, ৭ উইকেটের জয়ে। সিরিজ ড্র ১-১ ব্যবধানে।

কেপটাউন টেস্ট দিয়ে ক্যারিয়ারের ইতি টানলেন প্রোটিয়া উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান ও সাবেক অধিনায়ক ডিন এলগার। এ ম্যাচেও অধিনায়কত্ব করেছেন তিনি। ম্যাচের আগে বলেছিলেন, ‘আমার কাছে টেস্ট ক্রিকেটই বিশ্বকাপের মতো।’ সীমিত ওভারের ক্রিকেটে কখনোই সেভাবে না খেলা এলগারের সেটি মনে হতেই পারে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিদায়ী অধিনায়ক অবশ্য ক্যারিয়ারের শেষ টেস্টে ‘বর্ধিত’ এক ওয়ানডের স্বাদই পেলেন। বলের হিসাবে ইতিহাসের সংক্ষিপ্ততম ফল আসা টেস্ট এখন এটিই। তাতে ভেঙেছে ৯২ বছরের রেকর্ড। ১৯৩২ সালে মেলবোর্নে দক্ষিণ আফ্রিকাকে অস্ট্রেলিয়া হারিয়েছিল ইনিংস ও ৭২ রানে, সেই টেস্টটি স্থায়ী হয়েছিল ৬৫৬ বল।

দুই দিনেই নিষ্পত্তি হয়েছে কেপটাউন টেস্টের। এর আগে আরও ২৪টি টেস্ট শেষ হয়েছে মাত্র দুইদিনেই। সবশেষ ২০২২ সালে ব্রিসবেনে অস্ট্রেলিয়া-দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচ শেষ হয়েছিল দুই দিনে। ৬ উইকেটে সেই ম্যাচ জিতেছিল অজিরা।

টেস্ট ও প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট মিলিয়ে কেপটাউনের নিউল্যান্ডসে বেশ কিছু ম্যাচ খেলেছেন ডিন এলগার। এখানকার উইকেট হাতের তালুর মতো চেনা এলগারের। অথচ তার বিদায়ী ম্যাচে উইকেটের আচরণে অবাক তিনি। দিন শেষে স্টার স্পোর্টসে অভিজ্ঞ এই ব্যাটার জানান, উইকেট যেন চিনতেই পারছেন না। তিনি বলেন, 'এটি (পিচ) সাধারণত আরেকটু মন্থর থাকে এবং ব্যাটার হিসেবে তাতে মানিয়ে নেওয়া যায়। কিন্তু এবার দেখা গেছে, সেশন যত এগিয়েছে, ততই এটি আরও গতিময় হয়ে উঠেছে। খালি চোখে দেখে পিচকে এতটা খারাপ মনে হয়নি। অতীতে এই মাঠের উইকেট, এমনকি ঘরোয়া ক্রিকেটেও কখনও এতটা বাজে আচরণ করেনি। বরং বেশ ভালো ছিল আগে। এতটা ভয়ঙ্কর কখনোই মনে হয়নি।'

এই উইকেট ব্যাটারদের জন্য কতটা ভয়ঙ্কর ছিল, তা বোঝা গেছে দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটিং পরামর্শক অ্যাশওয়েল প্রিন্সের কথায়। খেলোয়াড়ি জীবনের কেপটাউন ছিল তার ঘরের মাঠ। এ রকম উইকেট তার কাছেও অচেনা বলে জানালেন। প্রিন্স বলেন, 'এই মাঠের পিচ এরকম আগে কখনও দেখিনি। প্রথম দিনেই এত গতিময় উইকেট আগে দেখিনি। পাশাপাশি অসমান বাউন্স ও অনেক সিম মুভমেন্টও ছিল। গতি বেশি থাকলে অবশ্য ব্যাটারদের সমস্যা নেই, তবে বাউন্স ধারাবাহিক হতে হয়। এখানে বাউন্স কিছুটা অধারাবাহিক ছিল, কিছু বল নিচু হয়েছে, কিছু লাফিয়েছে। এছাড়া সিম মুভমেন্টও ছিল অনেক। ম্যাচে প্রথম দিনে সিম মুভমেন্ট থাকতেই পারে। তবে অসম বাউন্সের সঙ্গে সিম মুভমেন্ট থাকলে, তখন পরিস্থিতি ভিন্ন হয়ে ওঠে।'

পরিস্থিতি কী রকম ভিন্ন হতে পারে তা প্রোটিয়াদের প্রথম ইনিংসেই দেখা গেছে। ৫৫ রানে গুটিয়ে যেতে হয় তাদের। টেস্ট ক্রিকেট প্রত্যাবর্তনের পর যা তোদের সর্বনিম্ন ইনিংস। ভারতের ব্যাটাররাও ভুগেছে যথেষ্ট। নিজেদের প্রথম ইনিংসে শেষ ৬ উইকেট তারা হারায় মাত্র ১১ বলের ব্যবধানে কোনো রান না তুলেই। দ্বিতীয় ইনিংসে মার্করাম সেঞ্চুরি করে প্রতিরোধ গড়তে না পারলে আরও আগেই হয়তো শেষ হতো ইনিংস। প্রোটিয়াদের ১৭৬ রানের ৬০.২৩ শতাংশ রানই তার করা। শেষ ইনিংসে ৭৯ রানের লক্ষ্যে পৌঁছতে তিন উইকেট খুঁইয়ে বসতে হয়। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত