আনন্দের সঙ্গে তরুণদের ভোটে মিশেছে হতাশাও

আপডেট : ০৭ জানুয়ারি ২০২৪, ১২:০৬ এএম

আজ সারা দেশে অনুষ্ঠিত হচ্ছে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। প্রায় ১২ কোটি ভোটারের মধ্যে তরুণ ভোটারের সংখ্যা প্রায় আড়াই কোটি। এদের মধ্যে অনেকেরই ভোট দেওয়ার অভিজ্ঞতা হবে এবারই প্রথমবার। গণতান্ত্রিক অধিকার হিসেবে ভোটের গুরুত্ব এবং এবারের নির্বাচন নিয়ে তাদের প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন তারা তরুণোদয়কে। সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেছেন এনাম-উজ-জামান

আসিফ মাহমুদ

ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য, চতুর্থ বর্ষ, ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড ইউনিভার্সিটি

প্রথম ভোটার হয়েছিলাম ২০১৮ সালে। প্রথমবার ভোট দিতে অনেক বাধার সম্মুখীন হয়েছিলাম। কিন্তু দিতে পেরেছিলাম। স্থানীয় রাজনীতিতে যা হয় আর কি। ভোটকেন্দ্রে যেতে বাধা দেওয়া হয়। এবারে ভোটকেন্দ্রে যাওয়া আমার কাছে ঝুঁকিপূর্ণ মনে হচ্ছে। এবারও ভোটকেন্দ্রে ভোট দিতে যাব। কারণ অন্যান্য প্রতিষ্ঠান ছুটি দেওয়া হয় যাতে নির্বিঘ্নে ভোট দেওয়ার সুযোগ পায় সবাই। ভোট একজন নাগরিকের গণতান্ত্রিক অধিকার এবং ভোটাধিকারের মাধ্যমে যোগ্য নেতৃত্ব সামনে নিয়ে আসা একজন নাগরিকের দায়িত্ব।

শাহ বিলিয়া জুলফিকার

আইন ও বিচার বিভাগ, দ্বিতীয় বর্ষ, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়

এবারই প্রথম ভোটার হলাম। জীবনে প্রথমবারের মতো ভোট দেব সেজন্য একটু এক্সাইটেড। জাতীয় নির্বাচন হিসেবে যতটুকু নির্বাচন নিয়ে মানুষের আকাক্সক্ষা থাকার কথা তা বর্তমানে অনুপস্থিত। তাছাড়া অনেকের কাছে ভোট দিতে অনীহা প্রকাশ করতেও দেখা যাচ্ছে। ফলে একটু ভিন্ন রকম পরিবেশ দেখছি। তবে আগামীকাল ৭ তারিখ সকালে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা বজায় রেখে সবাই ভোটকেন্দ্রে যাবে এবং ভোট দেবে বলে আশা করি। আমি নিজে ভোট দেব এবং মানুষকে উদ্বুদ্ধ করব। কারণ ভোটদান হলো গণতন্ত্রের ভিত্তিপ্রস্তর। যা নাগরিক অংশগ্রহণ এবং সামাজিক অগ্রগতির সারমর্মকে প্রতিনিধিত্ব করে। এর মূলে, ভোটদানের কাজটি গণতান্ত্রিক সমাজের মধ্যে নাগরিকদের মৌলিক অধিকার এবং দায়িত্বের প্রতীক।

অহিদুল ইসলাম অন্তর

বিএ (সম্মান) ইংরেজি, ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এবারই আমার প্রথম অংশ নেওয়া। আমার ভোটে একজন প্রতিনিধি নির্বাচিত হবে এটা ছোট কোনো বিষয় নয়। ব্যাপক পরিসরে বলতে গেলে আমার জন্য আনন্দের ও উদযাপনের। এবারের জাতীয় নির্বাচন সম্পর্কে তরুণ প্রজন্মের ব্যাপক প্রত্যাশা ছিল। সবকিছুতে নীতিগত পরিবর্তন চায় তরুণরা। সে অর্থে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন প্রত্যাশা করি। দলবল নির্বিশেষে সবার অংশগ্রহণ হলে আনন্দের হতো, উদযাপনের হতো। প্রথম ভোট আমি আমার পছন্দের প্রার্থীকে দিতে দিতে চাই। ভোট জাতীয় অধিকার। আমার অধিকার। প্রত্যেকের স্বাধীনভাবে ভোটাধিকার চর্চা করা উচিত। একইসঙ্গে রাষ্ট্রের উচিত উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করে দেওয়া।

নূরে আলম সিদ্দিকী শান্ত

বাংলা, এমএ (শেষ পর্ব), তেজগাঁও কলেজ

আমি ভোটার হয়েছি ২০২০ সালে। তবে এর আগে ভোট দেওয়ার সুযোগ হয়নি। এইবারই প্রথম ভোট দিতে ভোটকেন্দ্রে যাব ভেবে খুবই উত্তেজিত হয়ে আছি। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এইবারের নির্বাচনের মাঠ অনেকটাই এককেন্দ্রিক হয়ে গেছে। যদি সব দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করত তবে ভোটের মাঠ অন্যরকম হতো। প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন হলে জনগণের প্রতি রাজনৈতিক নেতাদের জবাবদিহি বৃদ্ধি পায়। আমি ভোট দেওয়ার উদ্দেশ্যে নিজের ভোটার এলাকা অর্থাৎ ঢাকা থেকে গ্রামে এসেছি। ভোটের দিন সকাল সকাল পরিবারের সবাইকে নিয়ে ভোট দিতে যাব। একজন নাগরিক হিসেবে ভোট দেওয়া আমাদের প্রত্যেকের গণতান্ত্রিক অধিকার। ভোটের মাধ্যমে আমরা আমাদের জনপ্রতিনিধি বাছাই করি। যারা দেশের কল্যাণে কাজ করে থাকেন। নাগরিক হিসেবে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ এই দিনে আমাদের সবার ভোট দিতে যাওয়া উচিত।

শফিক আহমেদ ভূঁইয়া

কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, সাউথ ইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়

আমি প্রথম ভোটার হই ২০১৪ সালে। প্রথমবার ব্যক্তিগত কারণে ভোট দিতে পারিনি। ৭ জানুয়ারির নির্বাচনে অনেকগুলো দল অংশগ্রহণ করছে। সেই সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থী থাকায় মানুষ বেশ নির্বাচনমুখী। নির্বাচন কমিশনের যে ধরনের তৎপরতা লক্ষ করছি, তা দেখে বোঝা যাচ্ছে গঠনতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ভোট দিতে আস্থা অর্জন করতে পেরেছে। বিশেষ করে নিরাপত্তাবেষ্টনী। তাই আমি আমার ভোট দিতে সকালে কেন্দ্রে যাব এবং নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেব। জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনে জনগণের প্রতিনিধি নির্বাচনের জন্য রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিকের সমান ভোটাধিকার থাকে। নাগরিক অধিকারগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো ভোট দেওয়ার অধিকার।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত