নির্বাচন কমিশনের বিধিমালা অনুযায়ী, কোনো প্রার্থীকে জামানত রক্ষা করতে হলে মোট প্রদত্ত বৈধ ভোটের আট ভাগের এক ভাগ পেতে হবে। এ হিসাব অনুযায়ী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনার ছয়টি সংসদীয় আসনে নৌকার ছয় প্রার্থী মোটা দাগে ভোট পেয়েছেন। তবে ভোটের লড়াইয়ে অংশ নেওয়া ৩৯ জন প্রার্থীর মধ্যে ৩০ জনই জামানত হারাচ্ছেন।
খুলনা জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ফারাজী বেনজীর আহম্মেদ বলেন, কোনো প্রার্থীকে জামানত রক্ষা করতে হলে মোট প্রদত্ত বৈধ ভোটের আট ভাগের এক ভাগ ভোট পেতে হবে।
নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, খুলনার ৩৯ জন প্রার্থীর মধ্যে ৩০ জন জামানত হারাচ্ছেন। এর মধ্যে খুলনা-১ (দাকোপ-বটিয়াঘাটা) আসনে মোট ভোটারের সংখ্যা ২ লাখ ৯০ হাজার ২৬৫ জন। ভোট পড়েছে ১ লাখ ৫৭ হাজার ৩৮৮। এ আসনের আওয়ামী লীগের প্রার্থী ননী গোপাল মণ্ডল (নৌকা) ১ লাখ ৪২ হাজার ৫১৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। বাকী ৩ প্রার্থী জাতীয় পার্টির প্রার্থী কাজী হাসানুর রশিদ (লাঙ্গল), তৃণমূল বিএনপির চন্দ্র প্রামানিক (সোনালী আঁশ) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রশান্ত কুমার রায় (ঈগল) জামানত হারাচ্ছেন।
খুলনা-২ (সদর-সোনাডাঙ্গা) আসনে মোট ভোটারের সংখ্যা ৩ লাখ ২০ হাজার ২১৯ জন। ভোট পড়েছে ১ লাখ ১২ হাজার ২৫০। এ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সেখ সালাউদ্দিন জুয়েল (নৌকা) ৯৯ হাজার ৮৬৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। বাকী ৬ প্রার্থী জাতীয় পার্টির মো. গাউসুল আজম (লাঙ্গল), বাংলাদেশ কংগ্রেসের দেবদাস সরকার (ডাব), সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট (মুক্তিজোট) বাবু কুমার রায় (ছড়ি), গণতন্ত্রী পার্টির মতিয়ার রহমান (কবুতর), বিএনএম প্রার্থী মো. আব্দুল্লাহ আল আমিন (নোঙর) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. সাঈদুর রহমান (ঈগল) জামানাত হারাচ্ছেন।
খুলনা-৩ (দৌলতপুর-খালিশপুর-খানজাহান আলী) আসনে মোট ভোটারের সংখ্যা ২ লাখ ৪৫ হাজার ৭১০জন। ভোট পড়েছে ১ লাখ ৬৪ হাজার ৭৮। এ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী এস এম কামাল হোসেন (নৌকা) ৯০ হাজার ৯৯৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। বাকী ৩ প্রার্থী জাতীয় পার্টির মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন (লাঙ্গল), জাকের পার্টির এসএম সাব্বির হোসেন (গোলাপ ফুল) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ফাতেমা জামান সাথী (ঈগল) জামানত হারাচ্ছেন।
খুলনা-৪ (রূপসা-তেরখাদা-দিঘলিয়া) আসনে মোট ভোটারের সংখ্যা ৩ লাখ ৫৫ হাজার ১৫৩ জন। ভোট পড়েছে ১ লাখ ৫৮ হাজার ৫৫৩। এ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আব্দুস সালাম মুর্শেদী (নৌকা) ৮৬ হাজার ১৯৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী এসএম মোত্তর্জা রশিদী দারা (কেটলি) পেয়েছেন ৬০ হাজার ৮৯৩ ভোট। বাকী ১০ প্রার্থী জাতীয় পার্টির মো. ফরহাদ আহমেদ (লাঙ্গল), ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) মো. মোস্তাফিজুর রহমান (আম), তৃণমূল বিএনপির শেখ হাবিবুর রহমান (সোনালী আঁশ), বাংলাদেশ কংগ্রেসের মনিরা সুলতানা (ডাব), ইসলামী ঐক্যজোটের রিয়াজ উদ্দীন খান (মিনার), বিএনএম প্রার্থী এস এম আজমল হোসেন (নোঙর), স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. জুয়েল রানা (ট্রাক), স্বতন্ত্র প্রার্থী এমডি এহসানুল হক (সোফা), স্বতন্ত্র প্রার্থী এইচএম রওশন জামির (কাঁচি) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. রেজভী আলম (ঈগল) জামানত হারাচ্ছেন।
খুলনা-৫ (ডুমুরিয়া-ফুলতলা) আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৮৩ হাজার ২১৯ জন। ভোট পড়েছে ২ লাখ ১০ হাজার ৯৬১ । এ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ (নৌকা) ১ লাখ ১০ হাজার ২১৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ আকরাম হোসেন (ঈগল) পেয়েছেন ৯৩ হাজার ৭৭ ভোট। বাকী ৩ প্রার্থী জাতীয় পার্টির মো. শাহীদ আলম (লাঙল), বাংলাদেশ কংগ্রেসের এসএমএ জলিল (ডাব) ও বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টির শেখ সেলিম আকতার (হাতুড়ি) জামানত হারাচ্ছেন।
খুলনা-৬ (কয়রা-পাইকগাছা) আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৫৩ হাজার ১৬ জন। ভোট পড়েছে ১ লাখ ৬৩ হাজার ৮২৬। এ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মো. রশীদুজ্জামান (নৌকা) ১ লাখ ৩ হাজার ৩৩৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছে। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী জিএম মাহাবুবুল আলম (ঈগল) প্রতীকে পেয়েছেন ৫১ হাজার ৪৭৪ ভোট। বাকী ৫ প্রার্থী জাতীয় পার্টির মো. শফিকুল ইসলাম মধু (লাঙ্গল), ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) মো. আবু সুফিয়ান (আম), বাংলাদেশ কংগ্রেসের প্রার্থী মির্জা গোলাম আজম (ডাব), বিএনএম প্রার্থী এস এম নেওয়াজ মোরশেদ (নোঙর) ও তৃণমূল বিএনপির মো. নাদির উদ্দিন খান (সোনালী আঁশ) জামানত হারাচ্ছেন।
