মানবদেহের যে কোষ ক্যানসারে আক্রান্ত হয়, তা ওষুধ প্রয়োগের মাধ্যমে ধ্বংস করা হয়। এ পদ্ধতির নামই হলো কেমোথেরাপি চিকিৎসা।
কোথায় দেওয়া হয় কেমোথেরাপি মুখে, শিরায়, ধমনিতে, মাংসে, ত্বকের নিচে, শরীরে বিভিন্ন জায়গায়, ফুসফুসের আবরণীতে, পেটের আবরণীতে, হৃৎপি-ের আবরণীতে ও স্পাইনাল কর্ডের বহিরাবরণীতে। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বিভিন্ন স্ট্যান্ডার্ড প্রটোকল অনুযায়ী ক্যানসার কেমোথেরাপি প্রয়োগ করার পদ্ধতি হলো একক ওষুধ, একাধিক ওষুধ এবং নির্দিষ্ট সময় অন্তর অন্তর, যেমন প্রতি সপ্তাহে, প্রতি ১৫ দিনে, প্রতি তিন বা চার দিনে প্রতিবার ওষুধ প্রয়োগের পদ্ধতির নাম সাইকেল (ঈুপষব)। যেমন- ৬ সাইকেল ও ৮ সাইকেল।
চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী উল্লিখিত বিষয়গুলো নির্ধারণ করা হয়ে থাকে। কেমোথেরাপি চিকিৎসা গ্রহণের আগে যা প্রয়োজন তা হলো চিকিৎসার সম্পূর্ণ কোর্স বা চিকিৎসার পরিকল্পনা সম্পর্কে অভিহিত হওয়া এবং ক্যানসার কেমোথেরাপির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে জানা ও মানসিক প্রস্তুতি গ্রহণ করা। ক্যানসার কোষ ধ্বংস করার জন্য রয়েছে বিভিন্ন ধরনের ওষুধ। যেমন সাইটোটক্সিক ড্রাগ। এর মধ্যে আবার রয়েছে সাইক্লোফসফামাইড, ক্লোরামবিউসিল, মেলফেলান, নাইট্রোজেন মাস্টারড, ডক্সরিউবিসিন, বিলিওমাইসিন, সিসপ্লাটিনাম, ফাইভফ্লুরোইউরাসিল, মেথোট্রিকসেট ইত্যাদি।
করণীয়
ক্যানসার প্রতিরোধে ১৪টি পন্থা মেনে চলুন। পর্যাপ্ত সবজি ও ফল খান। প্রক্রিয়াজাত খাবার খাবেন না। স্বল্প ওজন বা অতিরিক্ত ওজন পরিহার করুন। পেশাগত কাজকর্ম যদি এমন হয় তেমন নড়াচড়া করতে হয় না, তাহলে প্রতিদিন ১ ঘণ্টা দ্রুতগতিতে হাঁটুন বা এমন কোনো ব্যায়াম করুন, যাতে শরীর ঘামে। প্রতিদিন সাত (ছোট) বা তার বেশি বাটি বিভিন্ন ধরনের দানাশস্য, শিমজাতীয় খাবার খান। মদ্যপান করবেন না। মাংস খেলে লাল মাংস (জবফ সবধঃ) দৈনিক ৩ আউন্সেরও কম খাবেন। লাল মাংসের চেয়ে মুরগির মাংস বা মাছ খাওয়া ভালো। চর্বিজাতীয় খাদ্য গ্রহণ সীমিত রাখুন। উপযুক্ত পরিমাণে ভেজিটেবল তেল ব্যবহার করুন। লবণাক্ত খাবার, রান্নার লবণ, খাবার সময় লবণ ব্যবহার সীমিত করুন। ছত্রাকযুক্ত খাবার খাবেন না। পচনশীল খাদ্য সংরক্ষণের জন্য ফ্রিজ ব্যবহার করুন। কোনো ধরনের পোড়া খাবার খাবেন না। ধূমপান ও তামাক পাতা চুষবেন না এবং পর্যাপ্ত নিদ্রা ও বিশ্রাম নিন। শিল্প-কারখানার ক্যানসার বাহক উপাদান ও তেজস্ক্রিয়তার ক্ষতিকর সংস্পর্শ এড়িয়ে চলুন। তবেই ক্যানসারমুক্ত থাকা সম্ভব।
