গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গীতে দুটি পোশাক কারখানায় শ্রমিক অসন্তোষের ঘটনা ঘটেছে। এতে শ্রমিক বিক্ষোভ এড়াতে পার্শ্ববর্তী ছয়টি কারখানায়ও ছুটি ঘোষণা করা হয়। গাজীপুর শিল্প পুলিশের পরিদর্শক (টঙ্গী জোন) মো. ওসমান আলী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। গতকাল সোমবার সকালে পোশাক শ্রমিকদের নতুন মজুরি কাঠামোতে পাওনা পরিশোধের দাবিতে টঙ্গীর বিসিক এলাকার একই মালিকানাধীন সুমি অ্যাপারেলস লিমিটেড ও দিশারী ইন্ডাস্ট্রিজ প্রাইভেট লিমিটেড নামক কারখানা দুটিতে শ্রমিক অসন্তোষের সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় নিজেদের কারখানায় বিক্ষোভ ঠেকাতে দুপুর ১২টার দিকে পার্শ্ববর্তী ত্রিভলী অ্যাপারেলস লিমিটেড, জিন্স অ্যান্ড পোলো, রেডিসন গার্মেন্টস লিমিটেড, আর বি এস ফ্যাশন অ্যাপারেলস লিমিটেড, বেলিসীমা অ্যাপারেলস লিমিটেড ও পেট্রিয়ট ইকো গার্মেন্টস লিমিটেড নামের ছয়টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করেন কর্তৃপক্ষ।
সুমি অ্যাপারেলস লিমিটেড ও দিশারী ইন্ডাস্ট্রিজ প্রাইভেট লিমিটেডের কয়েকজন শ্রমিক জানান, কারখানা দুটির কয়েক হাজার শ্রমিক গত শনিবার কাজে যোগ দিয়ে ডিসেম্বর মাসের বেতন নতুন কাঠামোতে পরিশোধের দাবি জানান। কিন্তু কারখানা কর্তৃপক্ষ নতুন মজুরি কাঠামোতে বেতন পরিশোধ করতে পারবেন না বলে জানান। রবিবার জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে সারা দেশে সাধারণ ছুটি শেষে গতকাল সকালে কারখানা দুটি শ্রমিকরা কাজে যোগ দিতে গেলে প্রধান ফটকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধের নোটিস দেখতে পেয়ে বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। পরে বেলা বাড়লে কারখানা দুটির বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা পার্শ্ববর্তী ছয়টি পোশাক কারখানার শ্রমিকদের তাদের সঙ্গে আন্দোলনে যোগ দিতে অনুরোধ করে। এ পরিস্থিতে নিজেদের কারখানায় শ্রমিক বিক্ষোভ ঠেকাতে দুপুরে ওই ছয়টি কারখানার কর্তৃপক্ষ তাদের কারখানায় ছুটি ঘোষণা করেন।
জিন্স অ্যান্ড পোলো লিমিটেডের মানব সম্পদ বিভাগের কর্মকর্তা মোফাজ্জল হোসেন মিলন বলেন, ‘শ্রমিক বিক্ষোভ এড়াতে আমাদের কারখানাসহ (জিন্স অ্যান্ড পোলো) পার্শ্ববর্তী আরও পাঁচটি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। মঙ্গলবার থেকে শ্রমিকরা কাজে যোগ দেবেন।’
গাজীপুর শিল্প পুলিশের পরিদর্শক (টঙ্গী জোন) মো. ওসমান আলী বলেন, পোশাক শ্রমিকদের নতুন মজুরি কাঠামোতে পাওনা পরিশোধের দাবিতে সকালে শ্রমিকরা বিক্ষোভ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিসিক এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। কারখানা দুটির বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা দুপুর ১টার দিকে ঢাকার বিজিএমইএ ভবনে চলে যায়।
