আলোচিত বিলকিস বানু ধর্ষণ ঘটনায় দোষীদের ফের কারাগারে পাঠানোর সিদ্ধান্ত দিয়েছে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। ২০২২ সালে ১১ ধর্ষককে মুক্তি দিয়েছিল গুজরাট সরকার, সুপ্রিম কোর্ট সেই সিদ্ধান্তকে এখতিয়ার বহির্ভূত বলে রায় দিয়েছে। ফলে মুক্তিপ্রাপ্ত ধর্ষকদের আবার কারাগারে যেতে হবে। সর্বোচ্চ আদালতের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে ভারতের কংগ্রেসসহ বিরোধীদলগুলো, অন্যদিকে এখনো কোনো মন্তব্য করেনি ক্ষমতাসীন বিজেপি।
গতকাল সোমবার সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর সামাজিক মাধ্যম এক্সে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী বলেন, ‘ভোটের স্বার্থে ন্যায়বিচারকে রসাতলে পাঠানোর প্রবৃত্তি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার পক্ষে বিপজ্জনক। সুপ্রিম কোর্টের রায় স্পষ্ট করে দিল অপরাধীদের রক্ষক কারা।’ তিনি আরও বলেন, ‘বিলকিস বানুর নিরলস সংগ্রাম অহংকারী বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে ন্যায়বিচারের প্রতীক হয়ে থাকবে।’
অন্যদিকে বিজেপির ক্ষমতাগৃহ হিসেবে পরিচিত গুজরাট সরকারের সিদ্ধান্ত বাতিল করে সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া রায় নিয়ে এখনো নীরব আছে নরেন্দ্র মোদির দল বিজেপি।
উল্লেখ্য, মেয়াদ শেষের আগেই বিলকিস বানু সংঘবদ্ধ ধর্ষণকাণ্ডে ১১ জন দোষীকে ২০২২ সালে মুক্তি দিয়েছিল গুজরাট সরকার। সোমবার বিজেপি শাসিত সরকারের সেই সিদ্ধান্তকে খারিজ করে দিয়ে শীর্ষ আদালত ২ সপ্তাহের মধ্যে দোষীদের আত্মসমর্পণ করার নির্দেশ দিয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি বি.ভি নাগারথনা এবং বিচারপতি উজ্জ্বল ভূঁইয়ার বেঞ্চ স্পষ্ট জানায়, সংবিধানের ৩২ নম্বর অনুচ্ছেদের অধীনে আবেদনকারীর (বিলকিস বানু) দায়ের করা পিটিশন অবশ্যই রক্ষণাবেক্ষণযোগ্য।
বিচারপতিরা বলেন, “আমরা মনে করি দোষীদের মুক্তি দেওয়া হবে কিনা সেই সংক্রান্ত আবেদন গ্রহণ করা এবং দোষীদের সাজা মওকুফ করার কোনও ক্ষমতাই নেই গুজরাট সরকারের। এক্তিয়ার বহির্ভূত কাজ করেছে গুজরাট সরকার। কারণ ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৩২(৭) ধারা অনুযায়ী এই কাজের জন্য গুজরাট সরকার উপযুক্ত নয়। এই মামলার শুনানি মহারাষ্ট্রে হয়েছিল। অপরাধীদের মুক্তির ক্ষমতা একমাত্র মহারাষ্ট্র সরকারের আছে।”
প্রসঙ্গত, ২০০২ সালের ৩ মার্চ আহমেদাবাদের কাছে রন্ধিকপুর গ্রামে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন বিলকিস বানু। সেই সময় তার বয়স ছিল ২১ এবং তিনি পাঁচ মাসের গর্ভবতী ছিলেন। গোধরায় সবরমতি ট্রেনে সহিংসতার ঘটনা থেকে প্রাণে বাঁচতে পালিয়ে যাওয়ার সময় এই ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় তার সন্তান সহ পরিবারের একাধিক সদস্যকে হত্যা করা হয়েছিল।
