ঢাকা-১৯ আসনে (সাভার-আশুলিয়া) আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমানের শোচনীয় পরাজয়ের পর চলছে নানা গুঞ্জন, আলোচনা-সমালোচনা। পক্ষান্তরে প্রতিমন্ত্রী ও সাবেক সংসদ সদস্যকে পরাজিত করে চমক সৃষ্টি করেছেন ট্রাক প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।
স্থানীয়রা বলছেন, প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ, অদক্ষ নেতৃত্ব ও নেতাকর্মীদের অবমূল্যায়নের কারণে ডা. এনামুর রহমানের শোচনীয় পরাজয় হয়েছে।
এবারের নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী (ট্রাক) মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম সর্বোচ্চ ৮৪ হাজার ৪১২ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। নির্বাচনে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী অপর স্বতন্ত্র প্রার্থী তালুকদার তৌহিদ জং মুরাদ (ঈগল) পেয়েছেন ৭৬ হাজার ২০২ ভোট এবং বর্তমান সংসদ সদস্য ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান ৫৬ হাজার ৩৬১ ভোট পেয়ে তৃতীয় হয়েছেন। বিজয়ী সাইফুলের সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থীর ভোটের ব্যবধান ৮ হাজার ২১০ এবং নৌকার প্রার্থী ডা. এনামের ভোটের ব্যবধান ২৮ হাজার ৫১।
স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও বিভিন্ন সামাজিক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ডা. এনামুর রহমানের শোচনীয় পরাজয়ের কারণ তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের সঠিক মূল্যায়ন করেননি। বিপদে আপদে তাদের পাশে না থেকে নিজের আখের গোছানো নিয়েই ব্যস্ত ছিলেন। যে কারণে গত দশ বছর সংসদ সদস্য থাকার পরও তিনি এলাকায় নিজস্ব কোনো কর্মী তৈরি করতে পারেননি। দলের ত্যাগী ও যোগ্য নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন না করে অর্থ এবং সম্পর্কের হিসেবে বিভিন্ন জনকে পদ-পদবি দিয়েছেন। রাজনৈতিক ও সামাজিক অনুষ্ঠানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, এলাকার উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডের প্রতিশ্রুতি দিয়েও তা রক্ষা করেননি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় আ.লীগের সিনিয়র নেতারা জানান, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম ইউপি চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ডা. এনামের সঙ্গে অনেক ভালো সম্পর্ক ছিল। যে কারণে ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম করোনাকালে ডা. এনামুর রহমানকে ব্যক্তিগত তহবিল থেকে ত্রাণ দিয়ে সহযোগিতা করেছেন। কিন্তু সবচেয়ে বেশি ভোটার অধ্যুষিত স্বনির্ভর ধামসোনা ইউনিয়নকে পৌরসভা করার জন্য ডা. এনামের অসহযোগিতা ছিল।
অন্যদিকে করোনাকালে শ্রমিক ও সাধারণ মানুষদের ত্রাণ সহায়তা প্রদান, অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও মারা যাওয়া শ্রমিকদের কবরস্থানে দাফনের ব্যবস্থা করাসহ এলাকায় ব্যাপক উন্নয়নমূলক কর্মকা- করায় সাইফুল ইসলাম জনপ্রিয়তার শীর্ষে ছিলেন। আশুলিয়া থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দলীয় নেতাকর্মীদের বিপদে আপদে পাশে থেকেছেন এবং তৃণমূলের নেতাকর্মী, বীর মুক্তিযোদ্ধা, এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তুলেছেন। যে কারণে সবার ভালোবাসায় সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচন করে বিজয়ী হয়েছেন।
বিজয়ী হওয়ার পরই সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে ঢাকা-১৯ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, সাভার ও আশুলিয়ায় কোনো চাঁদাবাজ রাখব না। যারা ফুটপাত ও বিভিন্ন যানবাহন থেকে চাঁদা আদায় করেন তাদের ভালো হয়ে যাওয়ার অনুরোধ করছি। সেই সঙ্গে সন্ত্রাসীরা যে দলেরই হোক সাভার ছাড়তে হবে।
তিনি আরও বলেন, ভেদাভেদ ভুলে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে একটি আধুনিক ও স্মার্ট সাভার গড়তে চাই। ভোটের আগে যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছি তা পর্যায়ক্রমে পূরণ করা হবে। এ জন্য সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। আমি নিজে দলীয় একটি পদে রয়েছি। আমি সাভার ও আশুলিয়ার প্রতিটি নেতাকর্মীকে এক সারিতে আনব। দ্বিমত ভুলে সবাই কাজ করব।
