অস্ত্র আইনের মামলায় বিচারিক আদালতে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত রিজেন্ট গ্রুপ ও রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাহেদ করিমকে খালাস দিয়েছে হাইকোর্ট। সাজার রায়ের বিরুদ্ধে সাহেদের করা আপিল মঞ্জুর করে আজ বৃহস্পতিবার বিচারপতি আশীষ রঞ্জন দাস ও বিচারপতি মো. রিয়াজ উদ্দিন খানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেয়। তিন বছরের বেশি সময় আগে সাহেদকে অস্ত্র মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দেন ঢাকার বিচারিক আদালত। এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের শুনানি শেষে এ রায় হলো।
আদালতে সাহেদের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এস এম শাহজাহান ও শাহ মঞ্জুরুল হক। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. সারওয়ার হোসেন বাপ্পি।
অ্যাডভোকেট শাহ মঞ্জুরুল হক দেশ রূপান্তরকে বলেন, যে অস্ত্র উদ্ধার দেখানো হয় তা যথাযথভাবে জব্দতালিকায় উপস্থাপিত হয়নি। এছাড়া অস্ত্র উদ্ধার ও গাড়ির চাবি উদ্ধার দুটি পৃথক তারিখে দেখানো হয়েছে। অস্ত্রের গায়ে মেইড ইন চায়না ও জাপান এই শব্দ লেখা ছিল। একই অস্ত্রে তো দুই দেশের নাম থাকতে পারে না। এ ধরনের কিছু অসঙ্গতি আমরা তুলে ধরেছি। আদালত সেগুলো বিবেচনায় নিয়ে সাজা বাতিল করে খালাস দিয়েছেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সারওয়ার হোসেন বাপ্পি দেশ রূপান্তরকে বলেন, হাইকোর্টের এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করা হবে কি না তা অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয় আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেবে।
প্রতারণার মাধ্যমে করোনাভাইরাসের ভুয়া সনদ দেওয়ার অভিযোগ নিয়ে ২০২০ সালের ৬ জুলাই র্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত উত্তরায় রিজেন্ট হাসপাতালের প্রধান শাখায় অভিযান চালায়। পরদিন সাহেদসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে উত্তরা পশ্চিম থানায় প্রতারণার মামলা হয়। ৭ জুলাই রিজেন্ট হাসপাতালের কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশনা আসে। পরে ১৫ জুলাই সাতক্ষীরার একটি সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে সাহেদকে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করা হয়। ওই বছরের ২৮ সেপ্টেম্বর অস্ত্র মামলায় সাহেদকে সংশ্লিষ্ট আইনের পৃথক দুটি ধারায় যাবজ্জীবন ও সাত বছরের কারাদণ্ড দেয় ঢাকার একটি আদালত।
এ মামলায় জামিনের আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে ২০২২ সালের ৭ জুন হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ সাহেদের জামিন মঞ্জুর করে আদেশ দেন। পরে জামিনের এ আদেশ স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে আবেদন করলে সাহেদের জামিন স্থগিত হয়ে যায়। অস্ত্র মামলা ছাড়াও সাহেদের বিরুদ্ধে প্রতারণা, দুর্নীতি, অর্থপাচার, ব্যাংক ঋণের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে বেশকিছু মামলা রয়েছে। এর মধ্যে সম্পদের হিসাব বিবরণী দাখিল না করার অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় গত বছরের ২১ আগস্ট সাহেদকে তিন বছর কারাদণ্ডাদেশ ও ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ডের রায় দেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৭।
