মাদক উদ্ধার করতে গিয়ে টাকা লুট, ভুক্তভোগীর মামলা

আপডেট : ১৪ জানুয়ারি ২০২৪, ১২:০৪ এএম

বাসায় নিষিদ্ধ মাদকদ্রব্য রয়েছে– এমন তথ্যের ভিত্তিতে ২৯ ডিসেম্বর রাজধানীর ভাটারার একটি বাসায় তল্লাশি চালায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) ঢাকা মহানগর দক্ষিণের একটি দল। সেখানে মাদক না পেয়ে আলমারিতে থাকা ৪ লাখ ৩০ হাজার টাকায় তাদের নজর পড়ে। পরে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ও তার স্ত্রীকে গ্রেপ্তারের ভয় দেখিয়ে সেই টাকা নিয়ে হাতিয়ে নেন এবং মামলা করার ভয় দেখিয়ে তাদের কাছে আরো টাকা দাবি করেন। পরে এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ভাটারা থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।

মামলার বাদী ও ভুক্তভোগী সিএনএফ ব্যবসায়ী ববি এন ডিয়াজ বলেন, তার পূর্ব পরিচিত ফয়জুল ইসলাম রাসেল ওরফে 'ভাইস্তা রাসেল' বিভিন্ন সময় মাদক দিয়ে তাকে ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি দিতেন। গত ২৯ ডিসেম্বর রাত ৮টার দিকে মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সদস্য পরিচয়ে শাহ আলম নামের দুই স্টার ব্যাজ লাগানো পোশাক পরিহিত এক লোকসহ কয়েকজন তার বাসায় প্রবেশ করে। সেখানে প্রায় সাড়ে ৯টা পর্যন্ত তল্লাশি করে পুরো ঘর ওলট-পালট করে তারা। পরে মাদকদ্রব্য না পেয়ে আলমারির ড্রয়ারে থাকা নগদ ৪ লাখ ৩০ হাজার টাকা তারা নিয়ে নেন। এরপর তাকে এবং তার স্ত্রী এলিন রেসেল পেরেরাকে গ্রেপ্তারের হুমকি দিয়ে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন।

ববি তার অভিযোগে আরো বলেন, এত টাকা তারা দিতে পারবেন না জানালে তল্লাশিতে আসা ব্যক্তিরা তাদের গ্রেপ্তারের হুমকি দেন। এরপর তারা ফোন করে ১৬ লাখ টাকা দাবি করেন। ঘটনাটি পরিকল্পিতভাবে ঘটানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এ ঘটনায় বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) বাড্ডা জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) রাজন কুমার সাহা দেশ রূপান্তরকে বলেন, মিথ্যা মামলা দায়েরের হুমকি দিয়ে ব্যবসায়ীর বাসা থেকে ৪ লাখ টাকা ৩০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনায় ফয়জুল ইসলাম নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি নিজেকে ব্যবসায়ী দাবি করলেও তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলার তথ্য পাওয়া গেছে।

তিনি আরো বলেন, শাহ আলম ও বাবর নামের ওই দুজন মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সদস্য কিনা তা খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। ওই ব্যবসায়ীর বাসার আশপাশের সিসিটিভির ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে। ঘটনাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। এর সঙ্গে জড়িত প্রত্যেকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের উপপরিচালক মো. মাসুদ হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ববি নামে ওই ব্যবসায়ী তাদের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন। সেজন্য সদরদপ্তর থেকে একটি তদন্ত কমিটি হয়েছে। তারা কাজ করছেন। 

তিনি আরো বলেন, এসআই শাহ আলম বর্তমানে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের খিলগাঁও অঞ্চলে কর্মরত আছেন। যেহেতু অঞ্চলটি তার অধীনে এবং পত্র-পত্রিকায় এ বিষয়ে প্রতিবেদন হয়েছে তাই তিনি বিভাগীয় ইনকোয়ারি করছেন। শাহ আলম স্বীকার করেছেন তিনিসহ অধিদপ্তরের সাতজন গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ব্যবসায়ী ববির বাসায় গিয়েছিলেন। সেখানে মাদক পাননি। তবে টাকা নেওয়ার বিষয়টি সঠিক নয় বলে দাবি করেছেন তিনি। তারপরও যেহেতু তদন্ত হচ্ছে, রিপোর্ট পেলে সেইভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত