শীতজনিত রোগবালাই ও প্রতিকার

আপডেট : ১৪ জানুয়ারি ২০২৪, ০৮:৪৪ এএম

শীতকালের বিভিন্ন সাধারণ রোগ এবং এর প্রতিকার ও প্রতিরোধ সম্পর্কে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে লিখলেন জান্নাতুল কাওসার

সর্দি-কাশি : শীতকালে সবচেয়ে বেশি বেড়ে যায় শ্বাসতন্ত্রের অসুখ। তবে রোগ যেটাই হোক সর্দি-কাশি বা কমন কোল্ড হবেই। তাপমাত্রা কমে গেলেই দেখা যায় এই সমস্যার লক্ষণ, যেমন: গলা ব্যাথা, খুশখুশে কাশি, নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া , নাক দিয়ে পানি পড়া ইত্যাদি। এছাড়াও গা গরম হওয়া বা জ্বর ভাব, ক্ষুধামন্দা, মাথা ব্যাথা হওয়া এই উপসর্গ গুলোও থাকতে পারে। সাধারণত ১ সপ্তাহের মধ্যেই ভালো হয়ে যায়। প্রতিকারে কুসুম গরম পানি পান করা, পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং ঘুম যথেষ্ট। পাশাপাশি শরীরকে উষ্ণ রাখলে সর্দি-কাশি প্রতিরোধ করা সহজ হবে। রোগের লক্ষণ প্রকট হয়ে থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শে প্যারাসিটামল ও অ্যান্টি হিস্টামিন ওষুধ গ্রহণ করতে হবে।

অ্যাজমা: একটু সাবধানতা অবলম্বন করলে অনেকাংশেই অ্যাজমা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। এ বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ডা. হোসনে আরা বেগম। তিনি বলেন, শীতে শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে শরীর উষ্ণ রাখতে গরম কাপড় পরতে হবে। উষ্ণ খাবার এবং পানীয় গ্রহণ করতে হবে। তাছাড়া যারা দীর্ঘমেয়াদি অ্যাজমা রোগী তারা যদি শুরু থেকেই নিয়মিত ইনহেলার ব্যবহার করেন তাহলে আরামে থাকবেন। বয়স্ক রোগীদের ওযু গোসলের ক্ষেত্রে অবশ্যই উষ্ণ তাপমাত্রার পানি ব্যবহার করতে হবে। এরপরও হাঁপানি বেড়ে গেলে নিকটস্থ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

অ্যালার্জি : শীতে বাতাসে ধূলিকণার পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় অ্যালার্জির প্রকোপও বৃদ্ধি পায়। এ বিষয়ে ত্বক বিশেষজ্ঞ ডাক্তার বখতিয়ার কামাল বলেন , সাধারণত ধুলাবালি বা শীতল বাতাসের কারণে অ্যালার্জি হতে পারে। এতে করে একনাগাড়ে হাঁচি কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া এসব সমস্যা দেখা দিতে পারে।তাছাড়া শরীরে চুলকানি ও লাল ফুসকুড়ি বের হয়। কারও চোখ লাল হয়ে যায়। যদি নাকে ধুলাবালু লাগে, শ্বাসপ্রশ্বাস দ্রুত চলতে শুরু করে এবং নাক-চোখ থেকে পানি আসতে শুরু করে। হালকা ধোঁয়ায়ও শ্বাস নিতে কষ্ট হয়, কাশি হয়। মাস্ক পরতে হবে। ঠান্ডা বাতাস এড়িয়ে চলতে হবে। স্টেরয়েড জাতীয় নাকের স্প্রে ব্যবহারে ফোলাভাব কমানো যায়। সাবান দিয়ে হাত ধোয়া, হাঁচি কাশির ক্ষেত্রে রুমাল ব্যবহার করা ইত্যাদি। কোন উপাদানে অ্যালার্জির সমস্যা হচ্ছে সেটি জানতে হবে।

শ্বাসকষ্ট : অ্যাজমা ছাড়াও শীতে সাইনুসাইটিস থেকে শ্বাসকষ্টের সমস্যা দেখা দিতে পারে। এসময় ধুলোর পরিমাণ বেড়ে যায়। সেগুলিই ফুসফুসে ঢুকে শ্বাসের সমস্যা বাড়ায়। এ বিষয়ে অধ্যাপক ডা. হোসনে আরা বেগম বলেন, বমাস্ক ব্যবহার করা এবং ধুলোবালি মুক্ত থাকার চেষ্টা করা উচিত। সাইনুসাইটিস বা নাক বন্ধ হয়ে শ্বাসকষ্ট হতে থাকলে গরম পানির ভাপ গ্রহণ করা। সর্দি কাশি থেকে শ্বাসকষ্ট হলে নেবুলাইজ ব্যবহারে শ্বাসকষ্টের সমস্যা কমে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত