রাস্তার মধ্যে বিদ্যুতের খুঁটি রেখেই চলছে সংস্কারকাজ

আপডেট : ১৪ জানুয়ারি ২০২৪, ০২:০১ এএম

নাটোরের বাগাতিপাড়া পৌরসভায় রাস্তার মধ্যে পল্লী বিদ্যুতের খুঁটি রেখেই চলছে সংস্কার কাজ। এতে যানবাহন চলাচলে ব্যাপক ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। যেকোনো মুহূর্তেই ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। বিদ্যুতের খুঁটিটি রাস্তার মধ্যে থেকে দ্রুত অপসারণের দাবি এলাকাবাসীর।

জানা যায়, পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের পেড়াবাড়িয়া মহল্লা হয়ে ২ নম্বর ওয়ার্ডের মুরাদপুর এলাকার সঙ্গে যুক্ত হওয়া এ সড়কটি দিয়ে প্রতিদিনই রিকশা, ভ্যান, অটোরিকশা, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচল করে। গুরুত্বপূর্ণ নগর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প-২-এর আওতায় ২০২২-২৩ অর্থবছরে বাগাতিপাড়া পৌরসভার বাস্তবায়নে রাস্তাটির সংস্কার কাজ চলমান রয়েছে। ৪৬ লাখ ৮৩ হাজার ৩৬৩ টাকা চুক্তিমূল্যে কাজটি বাস্তবায়ন করছেন পৌরসভার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ভাই ভাই ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী কামরুজ্জামান কোমর। কিন্তু পেড়াবাড়িয়া মহল্লার মোস্তাফিজুর রহমানের বাড়ির পাশের রাস্তার মধ্যে থাকা একটি বিদ্যুতের খুঁটি না সরিয়েই সংস্কার কাজ চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এতে ওই স্থানে রাস্তা প্রশস্ত করা হলেও কোনো কাজে আসবে না। বরং যানবাহন চলাচলে যেকোনো সময় দুর্ঘটনার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

পেড়াবাড়িয়া মহল্লার মুস্তাফিজুর রহমান মিঠু বলেন, ‘রাস্তার বৈদ্যুতিক খুঁটির বিষয়ে বিভিন্ন জায়গায় আবেদন করেও কাজ হয়নি। খুঁটির কারণে মালবাহী গাড়ি রাস্তায় ঢুকতে পারে না। আমার আখের গাড়ি বিকল্প রাস্তা দিয়ে বেশি খরচ বহন করে আনা-নেওয়া করতে হয়। মাঠের অন্যান্য ফসলও এই খুঁটির কারণে রাস্তা দিয়ে আনা-নেওয়া করা যায় না।’

মুরাদপুর মহল্লার আতাউর রহমান (৪৬) বলেন, ‘এটিই তাদের যাতায়াতের প্রধান রাস্তা। রাতের আঁধারে যাতায়াতের সময় বিদ্যুতের খুঁটির কারণে অনেক সমস্যা হয়। মাঝেমধ্যে ওই স্থানে দুর্ঘটনাও ঘটছে। খুঁটিটি যেন অপসারণ করা হয় তার জোর দাবি জানাই।’

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী কামরুজ্জামান কোমর বলেন, ‘বৈদ্যুতিক খুঁটিটি স্থানান্তরের সঙ্গে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।’

বাগাতিপাড়া পল্লী বিদ্যুৎ সাব-জোনাল অফিসের এ জি এম মঞ্জুর রহমান বলেন, ‘কর্তৃপক্ষ স্থানান্তরের ফি পরিশোধ করলেই খুঁটিটি সরানো হবে। কারণ ঠিকাদারের কাজের মধ্যেই বিদ্যুতের খুঁটি স্থানান্তরের প্রয়োজনীয় খরচ যোগ করা আছে।’

বাগাতিপাড়া পৌরসভার মেয়র এ কে এম শরিফুল ইসলাম লেলিন বলেন, ‘খুঁটিটি সরানোর জন্য ফি পরিশোধ করা হবে। আর খুঁটি স্থানান্তরের খরচ ঠিকাদারের কাজের মধ্যে যোগ করা নেই। কারণ কাজটি অনুমোদনের আগে খুঁটিটি স্থানান্তরের জন্য এলাকাবাসী ওই খরচ বহন করবে বলে জানিয়েছিল। এখন যেহেতু এলাকাবাসী করছে না, তাই এলাকার উন্নয়নে জনস্বার্থে পৌরসভার মিটিংয়ে আলোচনা করে বৈদ্যুতিক খুঁটিটি স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত