রাজশাহীতে ৩ নারী প্রার্থীর ভরাডুবির নেপথ্যে

আপডেট : ১৪ জানুয়ারি ২০২৪, ০২:০৩ এএম

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজশাহীতে তিনজন নারী প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও তারা কেউই বিজয়ের মুখ দেখেননি। এই তিন প্রার্থীরই ভরাডুবি হয়েছে। তাদের মধ্যে চলচ্চিত্র নায়িকা মাহিয়া মাহি প্রচারে বেশ সাড়া পেলেও প্রত্যাশিত ভোট জোটেনি। তিন নারী প্রার্থীর ব্যর্থতার কারণ হিসেবে রাজনৈতিক অনভিজ্ঞতা, এলাকার মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা ও জনসম্পৃক্ততার ঘাটতির পাশাপাশি ভোটারদের আস্থাহীনতাকে চিহ্নিত করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও রাজনীতি সচেতন নাগরিকরা।

রাজশাহীর ছয়টি সংসদীয় আসনে ভোটের মাঠে লড়েছেন ৪২ প্রার্থী। তাদের মধ্যে মাত্র তিনজন ছিলেন নারী প্রার্থী। তিনজনই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন রাজশাহী-১ আসন থেকে। তাদের মধ্যে একজন একটি রাজনৈতিক দলের মনোনয়ন পেয়ে ভোট করেছেন। বাকি দুজন আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন চেয়ে পাননি। পরে তারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভোটের লড়াইয়ে নামেন।

জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার দপ্তরের তথ্যানুযায়ী, তিন নারী প্রার্থীর মধ্যে চলচ্চিত্র অভিনেত্রী শারমিন আক্তার নিপা (মাহিয়া মাহি) ট্রাক প্রতীক নিয়ে ৯ হাজার ৯ ভোট পান। আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহনেওয়াজ আয়েশা আক্তার জাহান বেলুন প্রতীকে পেয়েছেন ২ হাজার ৭১৮ ভোট। আর ন্যাশনাল পিপলস পার্টির প্রার্থী নুরুন্নেসা আম প্রতীকে পান ২৯৬ ভোট। তিনজনই তাদের জামানত হারিয়েছেন।

আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়ে না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হন ঢাকাই সিনেমার অভিনেত্রী মাহিয়া মাহি। তার রয়েছে বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের পদ। মাহি প্রচারণায় নেমে নারী ও তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন তোলেন। 

আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন চেয়ে না পাওয়া আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহনেওয়াজ আয়েশা আক্তার জাহান। আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক উপকমিটির সদস্য তিনি। হলফনামায় পেশায় নিজেকে ব্যবসায়ী হিসেবে উল্লেখ করে পৈতৃক ঠিকানা থেকে হঠাৎ নির্বাচনী লড়াইয়ে নামার ঘোষণা দেন গত মেয়াদের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের স্ত্রী আয়শা আক্তার। তার প্রচারাভিযানে অংশ নেওয়া একাধিক ভোটার জানিয়েছেন, অতীতে কোনো রকম জনসম্পৃক্ততা না থাকায় অভাবনীয় পরাজয় হয়েছে আয়শা আক্তারের। ২ হাজার ৭১৮ ভোট পান তিনি।

একই আসনের আরেক নারী নুরুন্নেসা প্রার্থী হয়েছিলেন ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) মনোনয়ন নিয়ে। রাজনীতি বা ভোটের কোনো ক্ষেত্রে অতীতে কোনো সম্পৃক্ততা না থাকলেও দেশের সর্বোচ্চ পর্যায়ের নির্বাচনে প্রার্থী হয়ে মাঠের প্রচারণায় ছিলেন না তেমন সক্রিয়। হলফনামায় নিজেকে গৃহিণী ঘোষিত বিধবা এ নারী প্রার্থীর যৎসামান্য জনসংযোগ এলাকাবাসীকে কাছে টানতে পারেনি। তবে প্রতিপক্ষের বাধার কারণে ভোটের তিন দিন আগে থেকে প্রচারণা চালাতে পারেননি বলে অভিযোগ করেছেন আম প্রতীকে সর্বসাকল্যে ২৯৬ ভোট পাওয়া নুরুন্নেসা।

সাধারণ ভোটারদের মত হলো, তিন প্রার্থীর সবাই ভোটের রাজনীতিতে এবারই প্রথম। একজন এলাকায় থাকলেও ছিল না ভোটের কোনো পূর্ব-অভিজ্ঞতা। বাকি দুজনই ঢাকার বাসিন্দা। ওই দুজনের কারোই এলাকার জনগণের সঙ্গে ন্যূনতম যোগাযোগ ছিল না কখনো। 

এ প্রসঙ্গে রাজশাহী মহিলা পরিষদের সভাপতি কল্পনা রায় বলেন, ‘মূলত সংসদ সদস্য পদে নির্বাচন করতে হলে সবার আগে মানুষের কাছে তাকে যেতে হবে, সবার সঙ্গে মিশতে হবে। কিন্তু নারীদের ক্ষেত্রে প্রধান বাধা পরিবার। এরপর অর্থ। এরপরই আশপাশের মানুষ বা দলীয় নেতাকর্মী। দুই প্রার্থীর কিছুটা পরিচয় থাকলেও একজনের ছিল না কিছুই। নির্বাচনী মাঠে একবারে আনকোরা তিন নারীর কারও ওপর আস্থা রাখতে পারেননি ভোটাররা।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত