বিভিন্ন অঙ্গনে বিশেষ অবদানের জন্য রফিকুল হক দাদুভাই পুরস্কার ২০২৪-এ সম্মানিত হলেন আট গুণিজন। গতকাল দাদুভাইয়ের জন্মোৎসবে গুণিজনদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট, পুষ্পস্তবক, উত্তরীয় ও নগদ অর্থ তুলে দেন পরিবারের সদস্যরা।
পুরস্কারপ্রাপ্তরা হলেন চিত্রশিল্পী রফিকুন নবী, শিশুসাহিত্যিক আবদুর রহমান, সাহানা বেগম, ছড়াকার আসলাম সানী, আমীরুল ইসলাম, রিফাত নিগার শাপলা, আহমেদ উল্লাহ, শিশুসাহিত্যিক ও গীতিকার আমিরুল মোমেনীন মানিক। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিশু একাডেমির মহাপরিচালক শিশুসাহিত্যিক আনজীর লিটন ও শিশুসাহিত্যিক ফারুক হোসেন।
রফিকুল হক দাদুভাইয়ের ছড়া আবৃত্তির মাধ্যমে অনুষ্ঠানের শুরু করে শিশুরা। আসলাম সানীর স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে শুরু হয় যুগপৎ আবৃত্তি ও আলোচনার এ প্রাণবন্ত অনুষ্ঠান। দাদুভাইয়ের ছড়া আবৃত্তি করেন সাফিয়া খন্দকার রেখা, মাসুম আজিজুল বাসার, ভাস্বর বন্দ্যোপাধ্যায়, অনিকেত রাজেশ, রেজিনা ওয়ালী লীনা, রফিকুল হক, নুরুজ্জামান, মোস্তফা কামাল রনি, ফয়জুল আলম পাপ্পু, আহসানউল্লাহ তমাল।
আলোচনা পর্বে বক্তারা রফিকুল হক দাদুভাইয়ের কর্মজীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। শিশুসাহিত্যিক ফারুক হোসেন বলেন, রফিকুল হক দাদুভাই ছিলেন বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী। তিনি নতুনদের লেখকদের অভিভাবক হিসেবে আবির্ভূত হতেন। তার সম্পাদনায় প্রকাশিত চাঁদের হাট ছিল অনেক প্রতিষ্ঠিত শিশুসাহিত্যিকের আঁতুড় ঘর।
রফিকুল হক দাদুভাই আর দ্বিতীয়জন আসবেন না উল্লেখ করে আমীরুল ইসলাম বলেন, শিশুর মতো সরলপ্রাণ নিয়ে তিনি শিশুদের জন্য লিখতেন। তার গড়া চাঁদের হাট কিংবদন্তি জনপ্রিয়তা পেয়েছিল।
পরে কেক কেটে দাদুভাইয়ের ৮৮তম জন্মদিন উদযাপন করেন অতিথিরা। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রফিকুল হক দাদুভাইয়ের স্ত্রী ফাতেমা হক, মেয়ে জয়িতা হক ও ছেলে জীবন হক। অনুষ্ঠান আয়োজনের সার্বিক দায়িত্ব পালন করেছে রফিকুল হক দাদুভাই জন্মোৎসব উদযাপন পরিষদ।
পেশায় সাংবাদিক রফিকুল হক দাদুভাই ছিলেন সুপরিচিত শিশুসাহিত্যিক ও শিশু সংগঠক। তার সম্পাদনায় দৈনিক পূর্বদেশ থেকে প্রকাশিত হতো শিশু সাময়িকী ‘চাঁদের হাট’। পরে একই নামে শিশুদের জন্য গড়ে তোলেন একটি শিশু সংগঠন।
