গভীর রাতে শিক্ষার্থীকে হল থেকে নামিয়ে দিল ছাত্রলীগ 

আপডেট : ১৭ জানুয়ারি ২০২৪, ১০:৩১ পিএম
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক আবাসিক শিক্ষার্থীকে হল থেকে নামিয়ে দিয়েছে ছাত্রলীগ নেতা সোহান হাসান। এ সময় কক্ষ থেকে তার বিছানাপত্র ফেলে দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (১৬ জানুয়ারি) গভীর রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ হবিবুর রহমান হলের ১৩০ নম্বর কক্ষে এ ঘটনা ঘটেছে। ভুক্তভোগী রাকিবুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব বিজ্ঞান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। 
 
অভিযুক্ত ছাত্রলীগ সোহান হাসান বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ হবিবুর রহমান হল শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ইতিহাস বিভাগের  ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুল্লা-হিল-গালিবের অনুসারী বলে জানা গেছে।
 
ভুক্তভোগী বুধবার (১৭ জানুয়ারি) বেলা ৩ টার দিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার’ নামক গ্রুপে একটি পোস্টে এই অভিযোগ করেন।

তিনি লিখেছেন, ‘আমি নিরুপায় এক সাধারণ শিক্ষার্থী বলছি। আর্থিক সমস্যার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়মিত পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া নিয়ে খুবই শঙ্কায় আছি। অর্থ সংকটে আমি বিভাগে এক বছর পিছিয়ে গেছি। মেসে থেকে পড়াশোনা চালাতে না পেরে হলে সিটের জন্য প্রাধ্যক্ষকে প্রায় ৬ মাস ধরে বলে আসছি। অবশেষে আমি গত ১০ জানুয়ারি শহীদ হবিবুর রহমান হলের ১৩০ নম্বর রুমে বরাদ্দ পাই। আমি ৯ জানুয়ারি হতে উক্ত রুমে অবস্থান করি। গতকাল রাত সাড়ে ৮টায়   খাওয়ার জন্য বাহিরে যাই। রুমে ফেরার পর দেখি ছাত্রলীগ নেতা সোহান (২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষ) আমার প্রয়োজনীয় সব জিনিসপত্র ও  বেড ফেলে দেয়। সেই রুমে তাদের পছন্দ মত একজন শিক্ষার্থীকে তুলে দেয়। আমি যখন রুমে ফিরি তখন রাত ১১ টা ৪০ মিনিট। এসময় আমাকে জোর পূর্বক রাতে অন্য কোথাও আশ্রয় নিতে বলে। তখন নিরুপায় হয়ে প্রাধ্যক্ষকে ফোন দিলেও তিনি ধরেন নি।’

তিনি আরও লিখেছেন, ‘বিষয়টি আজ সকালে প্রাধ্যক্ষকে জানালে তিনি বলেন, আমার দায়িত্ব সিটে তুলে দেওয়া, সিটে থাকতে পারবে কিনা সেই দায়ভার আমার না। এখন তোমার কোন বড় ভাইয়ের সাপোর্ট নিয়ে সিটে থাকো। সিট দেয়ার দায়িত্ব আমার, সিট রক্ষার দায়িত্ব তোমার।’

এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা সোহান হাসানের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভি করেননি।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুল্লা-হিল-গালিব বলেন, ‘হল থেকে কোনো আবাসিক শিক্ষার্থীকে নামিয়ে দেওয়ার এখতিয়ার ছাত্রলীগের নেই।  এ ঘটনা জানার সঙ্গে সঙ্গে আমি সোহানকে (অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা) ডেকেছি এবং জানতে চেয়েছি সে এটা কেন করেছে। এরপর আমি ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে তার সিটেই তুলে দিয়ে বিষয়টি সমাধান করে দিয়েছি।’

প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক শরিফুল ইসলাম বলেন, 'কয়েকদিন আগে ওই শিক্ষার্থীকে হলের সিট ফাঁকা থাকা সাপেক্ষে আবাসিকতা দিয়েছি।  দুই-তিন আগে জানতে পারি, ১৩০ নম্বর কক্ষে একটি আসন খালি হবে। পরে ওই শিক্ষার্থী আবাসিকতার জন্য আসেন। এর আগে ছাত্রলীগের পক্ষ থেকেও ওই কক্ষে একজন উঠবে বলে জানিয়েছিল। পরে ওই শিক্ষার্থীকে জিজ্ঞেস করি, তুমি থাকতে পারবে কি না? ওই শিক্ষার্থী থাকতে পারবে বলে জানায়। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী আমার বিরুদ্ধে যেভাবে অভিযোগ করেছেন, আসলে আমি সেভাবে বলিনি। বিষয়টি সমাধান করে দিয়েছি। আর সমস্যা হবে না।'
×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত