দিনাজপুরে হাসপাতালে রোগীর ভিড়

আপডেট : ২১ জানুয়ারি ২০২৪, ০২:২৪ এএম

হিমালয়ের পাদদেশের জেলা দিনাজপুরে এক সপ্তাহ ধরে তাপমাত্রা ওঠানামা করলেও তা ১০ বা ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশপাশেই থাকছে। সেই সঙ্গে বেড়েছে হিমেল বাতাসের পরিমাণ। তীব্র শীত ও হিমেল বাতাসের কারণে সবচেয়ে বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ছে বয়স্ক ও শিশুরা। শীতজনিত রোগে আক্রান্ত শিশুরা ভর্তি হচ্ছে জেলার হাসপাতালগুলোতে। পাশাপাশি জেলার ১৩টি উপজেলার হাসপাতালগুলোতে শীতজনিত রোগে আক্রান্তের সংখ্যাও আশঙ্কাজনকহারে বেড়েছে।

চলতি শীত মৌসুমে ইতিমধ্যে এ জেলার ওপর দিয়ে তিনটি মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে গেছে। তীব্র শীত ও হিমেল বাতাস বয়স্ক ও শিশুদের কাহিল করে দিচ্ছে। শ্বাসজনিত ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে বয়স্ক ও শিশুরা।

দিনাজপুরে শিশুদের জন্য রয়েছে অরবিন্দু শিশু হাসপাতাল নামে একটিমাত্র হাসপাতাল। এই হাসপাতালে গত এক সপ্তাহে শিশু রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। শয্যার তুলনায় রোগীর সংখ্যা বেশি। চলতি মাসের ২০ দিনে এই হাসপাতালের বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছে ১ হাজার ৩৮১ জন। আর একই সময়ে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছে ১ হাজার ২৬৬ জন। শুধুমাত্র ১০ দিনেই এই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৬০১ জন শিশু রোগী। ১২০ শয্যাবিশিষ্ট এই হাসপাতালে বর্তমানে দেড় শতাধিক রোগী চিকিৎসাধীন।

অন্যদিকে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ১০ থেকে ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত শিশু রোগী এসেছে ৪৫ জন এবং ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ৩৫ রোগী ভর্তি হয়েছে।

চিকিৎসা নিতে আসা শিশুর মা আসমা খাতুন বলেন, ‘বেশি শীত পড়ায় বাবুর ঠান্ডা লেগেছে। তিন দিন আগে এই হাসপাতালে ভর্তি করেছি। এখন বাবু অনেকটা ভালো। এই হাসপাতালে ঠান্ডায় শিশুরা বেশি আসছে।’

দিনাজপুর আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, শনিবার এই জেলার তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৯ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত শুক্রবার ১০ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস, বৃহস্পতিবার ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, বুধবার ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস, মঙ্গলবার ১১ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা ছিল।

দিনাজপুর আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়া সহকারী আসাদুজ্জামান জানান, ইতিমধ্যে এই জেলার ওপর দিয়ে তিনটি মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে গেছে। আগামীতে তাপমাত্রা আরও কমতে পারে।

অরবিন্দু শিশু হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. তাসনিম আহমেদ সাদাত বলেন, প্রচ- শৈত্যপ্রবাহের কারণে শিশুরা বেশ কয়েকটি রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। হঠাৎ করে ঠান্ডা বেড়ে যাওয়ায় নিউমোনিয়া, ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা। অরবিন্দু শিশু হাসপাতালে অধিকাংশ শিশুরাই নিউমোনিয়া ও ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত। এ ছাড়া বর্তমানে যেসব শিশু জন্মগ্রহণ করছে সেসব শিশু নিয়মিত রোদের তাপ না পাওয়ায় অধিকাংশ জন্ডিসে আক্রান্ত হয়ে পড়ছে। শিশুদের এখন কোনোভাবেই ঠান্ডা লাগানো যাবে না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত